স্মার্টফোনেই তৈরি হলো স্কার্ট!

সময়ের সাথে সাথে নানা ধরনের বিচিত্র প্রযুক্তির সাথেই আমাদের পরিচয় ঘটে চলেছে। বিশেষ করে গত কয়েকবছরে এসে পরিধেয়তেও প্রযুক্তির ছোঁয়া স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। তবে এবারে মোবাইল জায়ান্ট নকিয়া, ফিনল্যান্ডের এক ফ্যাশন ডিজাইনার এবং একটি ক্রিয়েটিভ ডিজাইন হাউজের যৌথ প্রচেষ্টায় এমন একটি স্কার্ট তৈরি করা হয়েছে, যা পুরোটাই তৈরি করা হয়েছে স্মার্টফোন ব্যবহার করে! হ্যাঁ, এমন অদ্ভুতুড়ে একটি স্কার্টই সম্প্রতি লন্ডনের একটি ফ্যাশন শো’তে প্রদর্শিত হয়েছে। পোশাকের মধ্যে প্রযুক্তি পণ্যের ব্যবহার নিয়ে এর আগেও নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চললেও এটি এক নজরেই সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং সকলকে মুগ্ধও করেছে। সম্প্রতি মাইক্রোসফটের কাছে বিক্রি হয়ে যাওয়া নকিয়া নিজেদের পরিসরকে খানিকটা বাড়িয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই যুক্ত হয়েছে এই অভিনব প্রকল্পে। তাদের সাথে যুক্ত হয়েছে ফিনল্যান্ডের ফ্যাশন ডিজাইনার ফিয়োদর গোলান এবং ফিনল্যান্ডের একটি ক্রিয়েটিভ ডিজাইন হাউন কিন। এই স্কার্ট তৈরি করতে প্রায় তিন মাস সময় ব্যয় হয়েছে। আর এটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে নকিয়ার লুমিয়া সিরিজের ১৫২০ এবং ১০২০ মডেলের স্মার্টফোন। স্মার্টফোনের মতো ভঙ্গুর কোনো জিনিস দিয়ে স্কার্টের মতো পোশাক তৈরি নিয়ে শুরুর দিকে অনেক ধরনের অনিশ্চয়তা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সব অনিশ্চয়তাকে জয় করেই স্কার্টটি তৈরি করা হয়েছে। এই স্কার্টের মজার আরেকটি বিষয় হলো, এতে ব্যবহূত প্রতিটি স্মার্টফোনের ডিসপ্লেতে আলাদা আলাদা করে যেসব ছবি প্রদর্শিত হবে, সেগুলোর সবগুলো একত্রিত হয়ে গোটা স্কার্টের মাপে বড় একটি ছবি দেখার অনুভূতি প্রদান করবে। আবার স্কার্ট পড়া মডেল যখন নড়াচড়া করবে, তখন সেই ছবিটিও জীবন্ত হয়ে উঠেছে বলে মনে হবে দর্শনার্থীদের কাছে। নকিয়া এই স্কার্টকে একটি ‘টেকনিক্যাল ওয়ার্ক অব আর্ট’ হিসেবেই দেখছে। বিশ্ব প্রযুক্তিকে কী করে প্রভাবিত করছে এবং প্রযুক্তি কী করে বিশ্বকে প্রভাবিত করছে, তারই প্রমাণ দেয় এই স্কার্ট। এটি নিয়ে অবশ্য সুদূরপ্রসারী কোনো পরিকল্পনা নেই বলেই জানিয়েছে নকিয়া।