সেরাদের সেরা যারা

আব্রাহাম লিংকন

আব্রাহাম লিংকন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আলোচিত প্রেসিডেন্ট। গৃহযুদ্ধের সময় উত্তরাঞ্চলীয় ইউনিয়ন বাহিনীর নেতৃত্ব দেন তিনি। লিংকন যে আমেরিকান রাষ্ট্রপতিদের অন্যতম একজন সেরা বক্তা ছিলেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ছোটবেলায় তিনি তার বন্ধুদের জড়ো করে উঁচু এক স্থানে উঠে বক্তব্য রাখতেন। ইলিনয়ে আইনজীবী হিসেবে কাজ করার সময়, লিংকন প্রায়শই সন্ধ্যায় একটি পানশালায় তার বন্ধুদের সাথে দেখা করে গল্প বলা প্রতিযোগিতায় মেতে উঠতেন। এবং শেক্সপিয়ারের লেখা পড়ে তিনি ভাষাগত দক্ষতা গড়ে তোলেন। ১৮০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের হার্ডিন কাউন্টিতে এ নেতার জন্ম। আব্রাহাম লিংকন ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ১৬তম প্রেসিডেন্ট। থমাস লিংকন ও ন্যান্সি লিংকন দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান আব্রাহাম ছিলেন ছোটবেলা থেকেই বইয়ের পোকা। বই পড়তে ভালোবাসলেও আর্থিক অনটনে সেভাবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা হয়ে ওঠেনি তার। নিজের চেষ্টায় আইনশাস্ত্র আয়ত্ত করেন। মাত্র ২৩ বছর বয়সে রাজনীতিতে তার অভিষেক হয় নির্বাচনে পরাজয়ের মাধ্যমে। কিন্তু ক্যারিশমা ও নিজের নীতির কারণে ক্রমেই তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। রিপাবলিকান পার্টির টিকিটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি শপথ নেন ১৮৬১ সালের ৪ মার্চ। দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে প্রেসিডেন্ট হওয়ার মধ্যেই তার কৃতিত্ব সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রেসিডেন্ট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ সঙ্কট সফলভাবে সামাল দেন তিনি। গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঐক্য টিকিয়ে রাখেন। দেশ পুনর্গঠনেও তার ছিল কার্যকর উদ্যোগ। দাসপ্রথার বিলুপ্তি ঘটানোর জন্যও তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন। ১৮৬৩ সালে আব্রাহাম লিংকন ইম্যানিসিপেশন প্রোক্লেমেশন নামে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এ চুক্তিবলেই ১৮৬৫ সালের ডিসেম্বরে দেশটির সব দাসকে মুক্ত করা হয়। পেনসিলভেনিয়ার গেটিসবার্গে লিংকনের দেওয়া গণতন্ত্রের সংজ্ঞা যেন এক কালজয়ী মহাকাব্য। ‘গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের জন্য’। ১৮৪২ সালে আব্রাহাম লিংকন মেরি টডকে বিয়ে করেন। তারা চার সন্তানের জন্ম দিলেও মাত্র একজনই ১৮ বছরের বেশি বেঁচেছিলেন। ১৮৬৫ সালের ১৫ এপ্রিল জন উইলিকস বুথ নামক এক ব্যক্তির গুলিতে খুন হন লিংকন। তিনিই খুনের শিকার হওয়া প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ২৬ এপ্রিল সার্জেন্ট বস্টন কর্বেটের গুলিতে নিহত হন লিংকনের খুনি জন উইলিকস বুথ। স্পিলবার্গের লিংকন :আব্রাহাম লিংকনকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ। এতে দেখানো হয় ক্রীতদাস প্রথা বিলোপের জন্য লিংকন যে সংশোধনী আনতে চেয়েছিলেন তাতে কীভাবে তিনি বিরোধীদের তোপের মুখে পড়েন। গৃহযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে রিপাবলিকানদের পক্ষে লিংকনের উল্লেখযোগ্য বক্তৃতাও ছবিতে ব্যবহার করা হয়। ‘লিংকন’ নামের ছবিটিতে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন আইরিশ-ব্রিটিশ অভিনেতা ড্যানিয়েল ডে-লুইস।