তারুণ্যের স্বপ্নের ডানা

তরুণদের জীবনযাপনে নানা বৈচিত্র্য যুক্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এর সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে তাদের অনেক কিছুই ভাবতে হচ্ছে। আগের মতো সীমিত সংখ্যক কর্মক্ষেত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই তারুণ্যের পেশাজীবন। তারুণ্য মানেই চ্যালেঞ্জ। আর চ্যালেঞ্জিং পেশাগুলোর মধ্যে বিমান চালনা রয়েছে তরুণ-তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে। নীল আকাশে তারুণ্যের স্বপ্নের ডানায় ভর দিয়ে উড়ে বেড়ানোর গল্প নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন। লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার বড় হয়ে তুমি কী হবে? এ প্রশ্নের উত্তরে বাচ্চাদের বলতে শোনা যায়, ‘পাইলট হব।’ শৈশবে উড়োজাহাজে চড়ে আকাশে ওড়ার স্বপ্ন দেখেনি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। এই তাড়নায় বৈমানিক হওয়ার সাধও জাগে অনেকের। তবে শেষ পর্যন্ত কয়জনের স্বপ্ন পূরণ হয়, সে প্রশ্ন থেকেই যায়। বড় হয়ে পাইলট হলে অবশ্য ভিন্ন কথা। কিন্তু পাইলট হওয়া তো আর চাট্টিখানি ব্যাপার নয়! রীতিমতো পড়াশোনা ও পেশাদার কোর্স শেষে তবেই বিমান চালানোর লাইসেন্স অর্জন করতে হয়। মূলত মানুষের আকাশে ওড়ার বাসনা ছিল বহু যুগ আগে থেকেই। সেই উদ্দীপনা ক্রমে এয়ারক্রাফট শিল্পের জন্ম দেয়। এটি ক্রমে হয়ে ওঠে গর্বিত পেশার শিল্প। পাখির মতো ডানা মেলে বিস্তৃত আকাশে ভেসে বেড়ানোর বাসনা পূরণ এখন অনেক সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। এ স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয় বিমানের পাইলটিং পেশা। এ যুগে এ পেশায় সম্পৃক্ত হওয়ার আগ্রহ অনেক তরুণ-তরুণীর মাঝেই দেখা যায়। কারণ বিমানের পাইলট হওয়ার পর লাইফ স্টাইল সম্পূর্ণ বদলে যায়। শুধু আকাশে উড়ে বেড়ানো নয়, পুরো বিশ্ব ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ পাওয়া যায় এ পেশায়। আজ আমেরিকা, কাল ইংল্যান্ড, পরশু জাপান—সকালে এক মহাদেশে তো দুপুরে আরেক মহাদেশে। পাখিরা যেন হার মেনে যায় এ জীবনের কাছে। এজন্যই বাংলাদেশের অনেক তরুণ-তরুণী বিমান চালনা প্রশিক্ষণ নিয়ে পাইলট হয়েছে। এমনকি পেশাগত সাফল্যে দেশের নামকে ছড়িয়ে দিচ্ছে সারাবিশ্বে। যাদের দেখে আরও অনেক তরুণ-তরুণী অনুপ্রাণিত হয়ে এগিয়ে আসছে এ পেশায়। তারুণ্যের বিমান চালক হওয়ার আগ্রহের পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে, তবে এর অন্যতম হচ্ছে গ্ল্যামারাস জীবনের হাতছানি। একইসাথে গ্ল্যামারাস এই পেশায় রয়েছে উন্নত ক্যারিয়ার গড়ার দারুণ সম্ভাবনা। ঠিক তারকাদের মতোই পাইলটরাও সমাজে আলাদা মর্যাদা পেয়ে থাকে। আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের কাছে তারা নায়কের মতোই সমাদৃত হয়। তবে এ পেশায় আসতেও কিছু বিশেষ যোগ্যতার প্রয়োজন পড়ে। বিমান চালনায় আগ্রহীদের অবশ্যই সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ড থাকতে হয়। এছাড়া কিছু বাড়তি যোগ্যতা যেমন—তীক্ষ বুদ্ধি, ধৈর্য্য, চমত্কার ব্যক্তিত্ব, শারীরিক সামর্থ্য থাকা জরুরি। সর্বোপরি এই বিষয়ে পড়াশোনা কিছুটা ব্যয়বহুল। তাই আগ্রহীদের নিজেদের আর্থিক সামর্থ্যের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। আমাদের দেশে সরকারি-বেসরকারি বেশকিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা বিমান চালনা বিষয়ক পড়াশোনা করিয়ে থাকে। আবার বিদেশেও অনেক প্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ রয়েছে। তবে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা শিক্ষা শেষে চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়। বেসরকারি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানে পাইলটিংয়ের প্রশিক্ষণ ব্যয় অনেক। তবে এক্ষেত্রে স্বল্প সময়ে পাইলট হওয়ার সুযোগ থাকে। পক্ষান্তরে শুরুতে শিক্ষাব্যয় বেশি হলেও এ পেশায় উচ্চবেতনের নিশ্চয়তা রয়েছে। একজন পাইলট সবসময় আন্তর্জাতিক মানের জীবনধারা নির্বাহ করে থাকেন। বিমানের যাত্রা বিরতিকালে তাকে থাকতে দেওয়া হয় ফাইভ স্টার হোটেলে। শুধু পাইলটই নয়, তার পরিবার-পরিজনরাও এয়ারক্রাফটে ভ্রমণের বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকে। সবকিছু মিলিয়ে প্রথম সারির একজন গ্লোবাল প্রফেশনাল হিসেবে পাইলট সারাবিশ্বে সমাদৃত হন। পাইলট মানেই যোগ্যতা ও মূল্যায়নের দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে থাকা একজন প্রফেশনাল। এখন শুধু ছেলে নয়, সমান হারে মেয়েরাও এগিয়ে আসছে বিমান পাইলটিং পেশায়। এই পেশায় তারুণ্যের ভূমিকাই প্রধান। তাই আমাদের দেশের মেধাবী তরুণ-তরুণীরাই পারে এ পেশায় যুক্ত হয়ে দেশের গৌরবকে নীল আকাশ পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে।