রোনালদোর শততম জয়ের রেকর্ড

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আরও একটি অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। গত মঙ্গলবার জুভেন্তাসের হয়ে ভ্যালেন্সিয়াকে হারানোর মধ্য দিয়ে মহাদেশীয় এই টুর্নামেন্টে ১০০টি জয়ের প্রথম নজির গড়েন রোনালদো।

পর্তুগিজ স্ট্রাইকারটির কাছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ যেন রেকর্ড ভাঙা-গড়ার প্রতিযোগিতা। প্রতি বছরই কোনো না কোনো রেকর্ড গড়েন ৩৩ বছরবয়সী এই স্ট্রাইকার। রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক এই খেলোয়াড় এমনিতেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সর্বকালের হিসাবে সবচাইতে বেশি গোলদাতা।

এ পর্যন্ত ১২১ গোল করেছেন তিনি। এছাড়াও ইকার ক্যাসিয়াসের পরে রোনালদোই হলেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দ্বিতীয় সর্বাধিক ম্যাচ খেলা ফুটবলার। পর্তুগিজটি খেলেছেন ১৫৭ ম্যাচ। টানা ছয় মৌসুম সবচেয়ে বেশি গোল করার নজিরটিও তার। ইউরোপে এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ১৭ গোল করার কৃতিত্বও তার দখলে।

জুভেন্তাসের হয়ে এই রাতে তিনি গোলের দেখা পাননি। তবে ইতালি চ্যাম্পিয়নদের ১-০ গোলের জয়ে বলের জোগান দিয়েছিলেন রোনালদোই। গোলটি করেন মারিও মানজুকিচ। যদিও গোল করার জন্য সুবিদিত রোনালদো। তবে এ মৌসুমে তার জোগান হলো ছয়টি। অপরদিকে মানজুকিচ গোল করেছেন সাতটি।

নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে রোনালদো, ইউনাইটেডের হয়ে ২৬টি, রিয়ালের হয়ে ৭১ ও জুভেন্তাসের হয়ে তিনবার জিতেছেন। চলতি মৌসুমে সেভাবে গোল আসছে না তার। এরপরও সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে জুভেন্তাসের হয়ে ১৭ খেলায় ১১ গোল করেছেন তিনি।

যদিও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তার শুরু হয়েছিল হার দিয়ে। ২০০৩ সালের অক্টোবরে এই প্রতিযোগিতায় নিজের প্রথম আবির্ভাবে স্টুর্টগার্টের কাছে হার হয়েছিল তার। এরপর দ্বিতীয় খেলাতেই জয়ের দেখা পান তিনি। খেলাটি ছিল র্যাঞ্জার্সের বিরুদ্ধে।

শততম এই জয়ের ফলকে পৌঁছানোর পর জুভেন্তাস কোচ ম্যাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রি পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়টি দলে প্রভাব রেখে চলেছে বলে তার প্রশংসা করেন।

অ্যালিগ্রি ফুটবল ইতালিয়াকে বলেন, ‘রোনালদো আমাদের নিরাপদ ভাবার ও আত্মবিশ্বাস দেয়। দলটা গত মৌসুমের মতোই আছে। আমরা আরো বিকশিত হচ্ছি, বল পায়ে দ্রুততায় ধাবমান। তারপরও অবশ্যই একজন রোনালদো আছেন। দলটি ক্রমাগত উন্নতি করছে। তারা আরো দ্রুত পাস দিচ্ছে এবং সমন্বিত হয়ে খেলছে।’

রোনালদো এখন নিজের ষষ্ঠ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ট্রফির লক্ষ্যে খেলছেন। আগের অর্জনগুলোর মধ্যে চারটি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে। অপরটি আসে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলার সময়। অপর দিকে, জুভেন্তাসের লক্ষ্য তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়। জিতলে সেটা হবে ১৯৯৫ সালের পর ইতালির ক্লাবটির প্রথম।