আইডিয়াবাজ মেয়ে

বিদেশ বিভূঁইয়ে অসংখ্য কৃতী প্রজন্ম আছে যাদের সাফল্য বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য কিংবা ইতালিতে প্রবাসী বাংলাদেশি বা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সেইসব সফল প্রজন্মের কীর্তিগাথায় নতুন প্রজন্ম খুঁজে পায় অনুপ্রেরণা। এমনই একজন কীর্তিমান সুমাইয়া কাজী, ২০১০ সালে যিনি সুমাজি ডট কম প্রতিষ্ঠা করে তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে বিশ্বব্যাপী সুনাম অর্জন করেন। এছাড়া গত ২৮ জানুয়ারি লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ব্রিটিশ বাংলাদেশি পাওয়ার অ্যান্ড ইন্সপিরেশন’ প্রকাশিত বিশ্বের ১০ জন প্রভাবশালী বাংলাদেশির তালিকায় স্থান করে নেন সুমাইয়া কাজী। মেধাবী এই প্রজন্ম প্রতিনিধিকে নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজনে লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার জন্মেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার হলিউডে। বেড়ে উঠেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার মোরেনো ভ্যালিতে। পড়েছেন ক্যানিয়ন স্প্রিং হাই স্কুলে। ১১ বছর বয়সে রিভারসাইড কমিউনিটি কলেজে পড়ার সময় তার পছন্দের বিষয় ছিল গণিত। মাত্র ১৬ বছর বয়সে জিতে নেন ‘ইনল্যান্ড এম্পায়ার’ (ক্যালিফোর্নিয়া) খেতাব। পরে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার শীর্ষ পাঁচ ‘ডিস্টিঙ্গুইশড ইয়াং উইমেন’ প্রতিযোগিতায় জিতে যান। ভর্তি হন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলেতে। ইন্টারডিসিপ্লিনারি স্টাডিজ ইন বিজনেস নিয়ে ডিগ্রি লাভ করেন। এমনই ছিল প্রভাবশালী নারী উদ্যোক্তা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সুমাইয়া কাজীর শুরু গল্পটি। এ প্রজন্মের কাছে সুমাইয়া কাজীর পরিচিতিটি বেশ উজ্জ্বল। বিশ্বে প্রভাবশালী নারীদের মধ্যে তার নামটি উচ্চারিত হচ্ছে। তিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলে থেকে মার্কেটিং এবং স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিংয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন সুমাইয়া। বাবা মুক্তিযোদ্ধা ডক্টর কাজী গোলাম নিজামউদ্দিন, মা মেরিনা নিজাম এবং ভাই-বোনদের সঙ্গে সুমাইয়া ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকো বে এলাকায় থাকেন। তার পৈতৃক বাড়ি ফেনীর জেলা শহরে। যুক্তরাষ্ট্রে লেখাপড়া চলাকালীন টুকটাক সমাজ সেবার সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে নেন সুমাইয়া। লেখাপড়া শেষে সিনিয়র সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে যোগ দেন সানমাইক্রোসিস্টেম নামক একটি প্রতিষ্ঠানে। সেই সঙ্গে ২০০৫ সালে ‘কালচারেল কানেক্ট’ নামে সম্পূর্ণ নিজস্ব একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এতে তিনি সপ্তাহে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ ঘণ্টা করে শ্রম দিয়ে আসছেন। ৩৫ বছরের কম বয়সী কর্মোদ্দীপক যুবক-যুবতীদের নিজস্ব সংস্কৃতির অবগাহনে উজ্জীবিত করতে তার প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে সুমাইয়া কাজীর প্রতিষ্ঠান টিসিসিসি থেকে প্রকাশিত হচ্ছে পাঁচটি সাপ্তাহিক ই-ম্যাগজিন। ম্যাগাজিনগুলো হচ্ছে, ‘দ্য দেশি কানেক্ট’, ‘দ্য মিডলইস্ট কানেক্ট’, ‘দ্য এশিয়া কানেক্ট’, ‘দ্য ল্যাটিন কানেক্ট’, ‘দ্য আফ্রিকান কানেক্ট’। বিশ্বের শতাধিক দেশে এসব ম্যাগাজিনের গ্রাহক সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি। ২০০৫ সালে মাত্র তিনজন স্টাফ নিয়ে যাত্রা করা এসব ম্যাগাজিনে বর্তমানে ৫০ জন কাজ করছেন। ম্যাগাজিনগুলো দ্রুত জনপ্রিয় হওয়ায় বর্তমানে দুটি দেশের আটটি অঙ্গরাজ্যের ১৮টি শহরে এর অফিস করতে হয়েছে। ২০১০ সালে একের সঙ্গে অন্যের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার প্লাটফর্ম হিসেবে সুমাইয়া কাজী প্রতিষ্ঠা করেন সুমাজি (sumazi.com)। এই স্যোসাল মাধ্যমটি মূলত একে অন্যের সঙ্গে পরিচয়ে করিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে জীবন পরিবর্তনে সহযোগিতা করে থাকে। এটি একটি ফ্রি ওয়েব সার্ভিস। সুমাজি আপনার বন্ধুদের বলে দেবে কোন ধরনের মানুষের সঙ্গে আপনার পরিচয় থাকা জরুরি। সুমাজি সবার জন্য বিষয়টি সহজ করে দিয়েছে। যে কেউ আপনার নেটওয়ার্কে ঢুকে নিজেকে পরিচয় দিতে পারবে। অন্যের সঙ্গেও পরিচিত হতে পারবেন। প্রত্যেককে নিজের ভাবনা শেয়ার করার সুযোগ করে দিয়েছে সুমাজি.কম। আপনার যাদের সঙ্গে পরিচয় থাকা দরকার সেই সব মানুষদের মিলন মেলা হচ্ছে সুমাজি। সোজা কথায়, সুমাজি হচ্ছে একের সঙ্গে অন্যের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম। এ প্রজন্ম সম্পর্কে সুমাইয়া কাজীর চিন্তাটাও বেশ পরিষ্কার। তার মতে, বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম সুন্দর, পরিশ্রমী এবং অসম্ভব স্মার্ট। তারা অনেক কিছু করতে পারে, যদি সে সুযোগটা তাদের দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যবসা এবং আবিষ্কারে এগিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে পেশাদারি নেটওয়ার্ক তৈরি করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। সেই সঙ্গে অনেক প্রতিষ্ঠানের পরিসর বড় হওয়া শুরু করেছে। তাই সফলতা নিশ্চিতভাবেই আসবে। সুমাইয়া সানফ্রান্সিসকো মুসলিম উইমেনস গিভিং সার্কেলের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য। বাংলাদেশের জলকণা ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা সদস্যও তিনি। পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে মানবাধিকার, পরিবেশ, শিক্ষা, রক্তদানসহ নানা ধরনের স্বেচ্ছাসেবী কাজের সঙ্গেও যুক্ত আছেন। তাও কম সময় নয়, এই ছোট্ট জীবনের প্রায় ১০ বছর ধরে। ২০০৬ সালেও বিজনেস উইক ম্যাগাজিন কর্তৃক আমেরিকায় অনূর্ধ্ব ২৫ বছর বয়সী সেরা উদ্যোক্তার তালিকায় স্থান পান সুমাইয়া কাজী। ওই বছর সেই ম্যাগাজিনে প্রকাশিত বিশ্বের সেরা ৭৫ জন মহিলা উদ্যোক্তার একজন নির্বাচিত হন সুমাইয়া। এছাড়াও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিজনেস উইক ম্যাগাজিন ও কালার লাইট ম্যাগাজিন থেকে ‘সেরা তরুণ উদ্যোক্তা’ পুরস্কারসহ বেশ কয়েকটি পুরস্কার অর্জন করেছেন। পেয়েছেন সিএনএনের ‘ইয়ং পারসন হু রকস’ এবং কালার লাইট ম্যাগাজিনের সেরা তরুণ উদ্যোক্তা পুরস্কার। সুমাইয়া কাজী স্বপ্ন দেখেন ভালো কিছু কাজে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করতে। বিশ্ব এবং বাংলাদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অলাভজনক একটি আইসিটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ইচ্ছা আছে তার। সব মিলিয়ে নিজের স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাবেন তিনি সেই সাথে নতুন দিনের পথ দেখাবেন এই প্রজন্মকে এমনটাই প্রত্যাশা। সুমাইয়া আন্দালিব কাজী ডাক নাম :সুমাইয়া কাজী জন্ম তারিখ ও স্থান :১৭ জুলাই, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস মায়ের নাম :মেরিনা কাজী তটিনী বাবার নাম :ড. নিজাম উদ্দিন কাজী প্রথম স্কুল :ক্যানিয়ন স্প্রিং হাই স্কুল প্রিয় মানুষ :মা-বাবা প্রিয় পোশাক :শাড়ি অবসর কাটে যেভাবে :কাজের মধ্যেই অবসর। সাফল্যের সংজ্ঞা :নিত্য নতুন আইডিয়া মানেই সফলতার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া।