নিওন মেকআপে
রঙের জাদু
প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০১৪, ১৮:৪৪
বসন্তের এই দিনে বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা পার্টিতে নিজেকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তুলতে নিওন মেকআপ হতে পারে আপনার জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী। ব্রাইট এবং কালারফুল নিওন মেকআপ নিয়ে এবার কিছু কথা
নিওন মেকআপ কথাটা কি একটু চেনা চেনা ঠেকছে? ঠিকই ধরেছেন। নিওন বাতি যেমন আলোকময়, তেমনই এই মেকআপেও সারা শরীরজুড়ে ছড়িয়ে থাকে রঙের জাদুটোনা। ঠোঁটে, গালে, চোখের পাতায়, চুলে কিংবা আঙুলে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে একাধিক উজ্জ্বল রং। কখনও তা গাঢ়, আবার কখনও বা হাল্কা। ফ্লুরোসেন্ট গ্রিন, ব্লু, পার্পল, ব্রাইট অরেঞ্জ, লেমন, ইয়েলো—এ কালারগুলোর আবেদন কম তো নয়ই, বরং বেশ ভালোই। পার্টির মৃদু আলোয় নিজেকে আরও মায়াবী করে তুলতে এই মেকআপের জুড়ি মেলা যে ভার!
শুরুটা যেভাবে
শুধু তো মেকআপ হলেই হয় না, তার সঙ্গে পোশাকটাও মানানসই হওয়া চাই। তাই মেকআপ করার আগে পোশাকের দিকেও সমান নজর দিন। রঙটা যেন অবশ্যই উজ্জ্বল হয়। সঙ্গে নেলপালিশ। এ ক্ষেত্রে কোনো অল্টারনেটিভ কালার বেছে নিন। চোখের মেকআপ করার সময় এমন কালার বাছুন, যেন তা ড্রেস আর নেলপালিশের সঙ্গে মানানসই হয়। মন চাইলে দু’তিন রঙের প্রলেপও দিতে পারেন। লাগিয়ে নিন ফলস্ আইল্যাশ। এবার বরং কালো বা সবুজ রঙের মধ্যে বাছাইপর্ব চলুক। এখন হরেক রকম স্পার্কলিং আইল্যাশও পাওয়া যায়। শকিং পিংক লিপস্টিক থেকে শুরু করে চোখ ধাঁধানো রঙের চেকারবোর্ড নেইল অথবা হাই ভোল্টেজ রঙের সঙ্গে ন্যাচারাল নিউট্রাল রঙের মেলবন্ধন—তালিকায় মিলবে এমন হাজারো নিওন ট্রেন্ড। রং যা-ই হোক না কেন, থাকতে হবে ভারসাম্য। বরং হাইলাইট করুন ফেসের যেকোনো একটি অংশ। চোখে নিওনের রং থাকলে ঠোঁটের মেকআপ হালকা হলেই ভালো। আর ঠোঁট রাঙালে চোখকে রাখুন ন্যাচারাল। সঠিক রং বাছাইও ভীষণ জরুরি। কালার স্কিমের মতো ম্যাচিং করে পুরো মুখে একই রঙের ব্যবহার কিন্তু একেবারেই চলবে না। নিওন রঙা মেকআপগুলোর মধ্যে মিক্সড অ্যান্ড ম্যাচও বেশ ভালো দেখায়। আপনার পারফেক্ট নিওন শেড বেছে নিতে খেয়াল রাখুন ত্বকের রঙ ও টেক্সচারের দিকে। নিওন মেকআপের সঙ্গে উপযুক্ত পোশাক এবং অ্যাক্সেসরিজ বাছাইও ভীষণ জরুরি। সলিড কালার টোনের মেকআপের সঙ্গে নিউট্রাল শেডের পোশাক সহজেই মানিয়ে যায়। আবার ইলেকট্রিক পিংক, নীল বা হলুদের সঙ্গে কালো রঙটাই বেশি ভালো লাগে।
নিওন শেডের নানা দিক
পারফেক্ট নিওন আই লুকের জন্য মর্কি ব্লু এবং অলিভ গ্রিন আইশ্যাডো বেস্ট অপশন। সঙ্গে কালো আইলাইনারের ব্যবহার চোখকে করবে আকর্ষণীয়। কম্বাইন্ড লুক ট্রাই করতে চাইলে গাঢ় সবুজ আইশ্যাডোর সঙ্গে ব্যবহার করতে পারেন হালকা সবুজ রঙের আইলাইনার। এতে চোখ দেখাবে বড় ও আকর্ষণীয়। বেশি ঝামেলায় যেতে না চাইলে চোখের শুধু ভেতরের কোণে শকিং হলুদ শ্যাডো লাগিয়ে নিন। চোখের বাকি অংশে বাদামি আইশ্যাডো বুলিয়ে নিলেই চলবে। একটু সাহস করে ব্যবহার করতে পারেন ইয়েলো, অরেঞ্জ বা লাইম গ্রিন আইশ্যাডো।
নিওন মেকআপে ব্যবহার করা হয় ইলেকট্রিক ব্লু, গ্রিন, পার্পল অথবা হলুদ রঙের ট্রেন্ডি আইলাইনারগুলো। ঝকঝকে নিখুঁত ত্বকে শুধু চোখ ধাঁধানো এসব আইলাইনারের ব্যবহার নিমেষেই আপনাকে করে তুলবে আইক্যান্ডি। ক্যাট আই অথবা জ্যামিতিক আদলে সাজিয়ে নিতে পারেন চোখজোড়া।
খুব সহজেই চোখে পড়ে এই মেকআপ, তাই লিপকালার বেছে নেওয়ার সময় হতে হবে সাবধানী। খেয়াল রাখুন, চোখের মেকআপে কী রং ব্যবহার করছেন। নিওন পার্পল বা শকিং পিংক ফরসা ত্বকে বেশ জমবে। আর অরেঞ্জ, কোরাল উপযুক্ত একটু চাপা রঙের জন্য। সফট লুক তৈরির জন্য বেছে নিতে পারেন জেলি লিপ গ্লস।
শর্ট, স্কয়ার বা ওভাল শেপের নখে নিওন নেল কালার ভালো মানায়। ফরসা ত্বকে নীল, পার্পল, হলুদ অথবা সবুজ রঙের নিওন রঙগুলো বেশি মানানসই। আবার চাপা রঙের সঙ্গে কোরাল, অরেঞ্জ লাল বা পিংক নেইলপলিশগুলোই উপযুক্ত।
ব্লাশঅনের ব্যবহারও বেশ জরুরি নিওন মেকআপে। কারণ, উজ্জ্বল নিওন রঙা ব্লাশঅন নিমেষেই আপনাকে দিতে পারে দীপ্তিময়তা। চাইলে চুলও রাঙিয়ে নিতে পারেন নিওনের রঙে। সেই জন্য ব্লু, পিংক, ইয়েলোর মতো ভাইব্র্যান্ট কালারের হেয়ার মাশকারা ব্যবহার করুন। চুলের প্রতিটি অংশ আলাদাভাবে হাইলাইট করে নিতে পারবেন সহজেই।
মডেল ফারজানা ছবি
ছবি আশীষ সেনগুপ্ত