বাচ্চার কান্না থামানোর উপায়
প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০১৪, ১৮:৪৮
শিশু সন্তানের চোখে একটু পানি দেখলেই বিচলিত হয়ে ওঠেন মা-বাবা। দ্রুত শিশুর কান্না থামানোর জন্য ছুটে গিয়ে নানা কৌশল অবলম্বন করেন তারা। এটি সবার জানা বাচ্চা মাত্রই কাঁদে। তবে কেউ কম কাঁদে, কেউ বা বেশি। একটি শিশুর কখন কী প্রয়োজন, সে আরাম চায় না আদর চায়, নাকি তার খিদে পেয়েছে, ন্যাপি ভিজিয়েছে—এসবই সে জানান দেয় কান্নার মধ্য দিয়ে। কখনও কখনও খুব সহজেই তাদের প্রয়োজনটা বুঝে উঠা যায়, কান্নাকাটিও বন্ধ করা যায়। কখনও বা তা থাকে সাধ্যের বাইরে। তবে জন্মের পর প্রথম তিন মাসের মধ্যে শিশু কোনো কারণ ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে ২৪ ঘণ্টায় ১ থেকে ৩ ঘণ্টা কাঁদতে পারে। আর যদি শিশুর বয়স ৩ মাসের বেশি হয় আর কান্নাটা যদি বেশি সময় ধরে হয় সেসব ক্ষেত্রে প্রায় সময়ই কিছু না কিছু কারণ খুঁজে পাওয়া যায়। মাথা থেকে শুরু করে পা পর্যন্ত যে কোনো জায়গায় অসুবিধায়-ই কান্নার কারণ হতে পারে। যেমন ক্ষিদে পাওয়া, প্রস্রাব বা পায়খানা করে ন্যাপি ভিজে যাওয়া, পেট ব্যথা, সর্দিতে নাক বন্ধ, মুখের ভেতরে কোনো ঘা, শক্ত পায়খানা, পায়খানার রাস্তায় ঘা, প্রস্রাবে ইনফেকশন, প্রস্রাব আটকে যাওয়াসহ যেকোনো কারণে শিশুর অসুবিধা হলে কিংবা পরিবেশ পছন্দ না হলেও শিশু তা কান্নার মাধ্যমে প্রকাশ করে। আপনার বাচ্চাটিকে একটু খেয়াল করুন। দেখুন, সে হয়তো দিনের কোনো একটা সময়কে বেছে নিয়েছে কান্নার জন্য। প্রতিদিন একই সময়ে রুটিন করে সে কাঁদে। কিছুতেই তাকে সামাল দেওয়া যায় না। বিশেষ করে সন্ধ্যার আগের মুহূর্তটিকে ওরা বেছে নেয় কান্নাকাটির জন্য। দিনের ওই সময়টাতে আপনি যখন সারাদিনের কাজ শেষে ক্লান্ত বোধ করছেন, তখনই শুরু হয় তার কান্না। এর সাথে মানিয়ে নেওয়া আপনার জন্যও হয়ে উঠে কঠিন। মা যদি বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ান, তাহলে তাকে দুধ খাইয়ে দেখা যেতে পারে। যদি সে বোতলে দুধ খায়, তবে তাকে বোতল জাতীয় কিছু একটা দিতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে বোতলগুলো স্টেরিলাইজড হতে হবে। দাঁতের ক্ষতি রুখতে মিষ্টি জাতীয় কিছু দিবেন না। অনেক শিশু আছে যারা তাদের বুড়ো আঙুল চুষে। কেউ কেউ আবার কাপড়ের টুকরাও মুখে দেয়। বাচ্চাকে এমনভাবে রাখুন, যাতে সে আপনার কাছেই থাকে। তার চারপাশে আস্তে করে হাঁটুন, গুনগুন করে গান করুন, নাচুন, কথা বলুন তার সাথে। বাচ্চাটিকে সামনে-পিছনে দোলান। অথবা সম্ভব হলে তাকে নিয়ে হাঁটতে বের হোন, গাড়িতে নিয়ে কোথাও থেকে ঘুরে আসুন। অনেক বাচ্চা আছে, যারা গাড়িতে ঘুমাতে পছন্দ করে। গাড়ি বন্ধ করে দিলেই ওরা বুঝে ফেলে এবং ঘুম ভেঙে জেগে উঠে ও কান্না শুরু করে। মোট কথা হলো, আপনি সবরকম প্রক্রিয়া অর্থাত্ আপনার বাচ্চা কোন পরিস্থিতিতে কী চায় সেগুলো ঠিক করে তারপর সেগুলো বাচ্চার নানা ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে দেখবেন। দেখবেন নিজেই পেয়ে যাবেন এর উত্তর। অনেক সময় বাচ্চার সাথে নাচানাচি করলে বা গান গাইলে বাচ্চারা জেগে থাকে। সেক্ষেত্রে তাকে খাওয়ানোর পর শুইয়ে দিয়ে দেখতে পারেন। কাজে আসতেও পারে। মনে রাখবেন, কখনও বাচ্চা অতিরিক্ত কান্না করাসহ কোনো কারণে বিরক্ত লাগলেও, ক্লান্তিবোধ করলেও বাচ্চাকে মারবেন না, রাগও করবেন না। কারণ এতে করে হিতে-বিপরীত হতে পারে, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, এমনকি মারাত্মক ক্ষতিও হয়ে যেতে পারে। এটা বোঝা খুব প্রয়োজন যে, আপনার শিশু আপনারই, অন্য কারও নয়। যতই কষ্ট হোক না কেন, তাকে আগলে রাখা, মানুষের মতো মানুষ করা আপনারই দায়িত্ব। শিশুর কান্না বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সামান্য অসুবিধার জন্যই হয়, তাই আপনার শিশু কাঁদলে সব ক্ষেত্রেই ভেঙে না পড়ে আপনি নিজেই তার কিছু কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। আর কান্না কিছুতেই না থামলে অবশ্যই চিকিত্সকের পরামর্শ নিন।
মডেল অরণ্য
ছবি দীপঙ্কর দীপু