আইসিসি টি-টুয়েন্টি বিশ্ব কাপের পঞ্চম আসর
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০১৪, ২১:১৯
ক্রিকেটের সর্বশেষ সংস্করণ টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট অতি অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করিয়াছে। ইতোপূর্বে চারটি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হইয়াছে অত্যন্ত সফলভাবে । ২০১৪ সনের আইসিসি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের পঞ্চম আসরের আয়োজক বাংলাদেশ। গত বৃহস্পতিবার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ইহার উদ্বোধন করেন। আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের যেইখানে দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান তারকারা মাতাইয়া দিয়াছেন দর্শকদের। এই উপলক্ষে তিলোত্তমা ঢাকা সাজিয়াছে নানা সাজে। ক্রিকেট আনন্দে উদ্বেলিত বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমী কোটি কোটি মানুষ। ইহার আগে ওয়ানডে ক্রিকেট বিশ্বকাপেরও যৌথ আয়োজক ছিল বাংলাদেশ। আজ রবিবার বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যকার খেলাটি দিয়া শুরু হইতেছে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের এইবারের টুর্নামেন্ট। গত কয়েকদিন আগেই অনুষ্ঠিত হইয়া গেলো এশিয়া কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। কোন রকম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই সফলভাবে ইহার পরিসমাপ্তি ঘটে। বাংলাদেশের মানুষ প্রমাণ করিয়া দিয়াছে তাহারা ক্রিকেটকে ভালবাসে প্রাণভরে। জাতীয় খেলা না হইলেও বাংলাদেশে ক্রিকেটের একটি বিশেষ স্থান রহিয়াছে, সর্বজন সুবিদিত। ১৯৯৭ সনে ওয়ানডে এবং ২০০০ সনে টেস্ট ক্রিকেট মর্যাদা বাংলাদেশের ক্রীড়াজগতে নূতন মাত্রা যোগ করে। বলিবার অপেক্ষা রাখে না, বাংলাদেশ ক্রিকেটে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করিয়াছে যাহা ক্রিকেটের প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসারই ফল।
মূলত কয়েকটি পর্বে এই আয়োজন সম্পন্ন হইবে। মাসব্যাপী এই মহোত্সবে কয়েকটি বিষয় অতীব গুরুত্ব সহকারে আমলে লইতে হইবে স্বাগতিক দেশকে। বিদেশি খেলোয়াড় এবং আগত দর্শকদের নিরাপত্তা প্রদান, কোনোরূপ অনিয়ম যাহাতে না হয় সেইদিকে লক্ষ্য রাখা, খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় সবকিছুর ব্যবস্থা আছে এমন আবাসন ব্যবস্থা ইত্যাদি। তন্মধ্যে খেলোয়াড় এবং আগত অতিথিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ সর্বাগ্রে জরুরি। লক্ষ্য করা গিয়াছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই ব্যাপারে বেশ সচেতন। তৈরি করা হইয়াছে কয়েকস্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা বেষ্টনী। তথাপি শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বারংবার পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিকল্প নাই। পক্ষান্তরে খেলা চলাকালীন সময়ে যাহাতে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা না সৃষ্টি হয় সেইদিকেও মনোযোগ নিবিষ্ট করিতে হইবে । খেলার বড় বড় আয়োজনে টিকিট কালোবাজারি হইয়া থাকে। ইহা প্রতিরোধেও যথেষ্ট পর্যবেক্ষণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ বাঞ্ছনীয় বলিয়া আমরা মনে করি। প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার করিয়া টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করিতে হইবে। কেন্দ্রীয়ভাবে নিরাপত্তা ও নিয়ম-শৃঙ্খলা পর্যবেক্ষণ সেল গঠন করা যাইতে পারে। রাজধানীর বাহিরের ভেন্যুসমূহেও উন্নত প্রযুক্তিভিত্তিক এবং নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থার গত্যন্তর নাই। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে স্বদেশের মর্যাদা বৃদ্ধিতে কোনরকম গাফিলতি ব্যতিরেকে নিষ্ঠার সহিত দায়িত্ব পালন করিতে হইবে। এইদেশের শান্তিপ্রিয় ক্রিকেট দর্শক এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মিগণেরও এইক্ষেত্রে অবদান রাখিবার প্রয়োজন রহিয়াছে সমানভাবে। মনে রাখিতে হইবে এই আয়োজন আমাদের জাতীয় সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে জানান দেওয়ার একটি অনন্য সুযোগ। সারা বিশ্ব এই দেশের মানুষের ক্রিকেটীয় আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রত্যক্ষ করিবে এই আয়োজনের মাধ্যমে। এই আয়োজনের মাধ্যমেই বাংলাদেশের ক্রিকেট ভাবাবেগ ও ইতিহাসে যুক্ত হইবে নূতন মাত্রা। বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে পরিচিতি পাইতে পারে ক্রিকেটের প্রিয়ভূমি হিসাবে। বাংলাদেশের ক্রিকেট পৌঁছাইয়া যাইবে অনন্য এক উচ্চতায়। আগামীতে ক্রিকেট বিশ্বকে নেতৃত্ব দিবে বাংলাদেশ আমাদের। শুভকামনা উজ্জ্বল এই আয়োজনের জন্যে। জয় হউক ক্রিকেটের। এগিয়ে যাক বাংলাদেশ ক্রিকেট।