কঠোরতার কোনো বিকল্প নাই
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০১৪, ২১:২০
সরকারি খাদ্যশস্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম হইল রেলওয়ে। শুধু তাহাই নহে, প্রাচীনতম জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসাবে এই মাধ্যমটিই সর্বাপেক্ষা নির্ভরযোগ্য হইবে—ইহাই প্রত্যাশিত। অথচ বাস্তব চিত্রটি ভয়াবহ। রেলওয়ের মালবাহী ট্রেনে করিয়া খাদ্য আনা-নেওয়ার সময়ে খাদ্য বিভাগের প্রায় ২ শত ১৮ কোটি টাকার খাদ্যশস্য লোপাট হইয়া গিয়াছে। উদ্বেগজনক এই তথ্যটি উদ্ঘাটিত হইয়াছে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অডিট প্রতিবেদনে। একই সাথে উত্থাপিত হইয়াছে এই সংক্রান্ত দুই সহস্রাধিক অডিট আপত্তিও। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও ইহার সত্যতা পাওয়া গিয়াছে। পরিবহনকালে সরকারি খাদ্যশস্য চুরির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ যে আত্মসাত করা হইয়াছে তাহা নিশ্চিত। ইহার দায়দায়িত্ব যে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের তাহা লইয়াও দ্বিমত নাই। সঙ্গত কারণেই খাদ্য বিভাগ হইতে লিখিতভাবে ক্ষতিপূরণও দাবি করা হইয়াছে তাহাদের নিকট। কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায় নাই। দুর্নীতি দমন কমিশন এই ব্যাপারে অনুসন্ধান চালাইতেছে। কিন্তু যেই প্রশ্নটি সবকিছুকে ছাপাইয়া উঠিয়াছে তাহা হইল, এতো কাঠখড় পোড়াইয়া শেষাবধি লোপাট হইয়া যাওয়া খাদ্যশস্য বা অর্থ উদ্ধার হইবে কি? সর্বোপরি, এই অপকর্মটি যাহারা করিয়াছে এবং যাহাদের সহযোগিতায় করিয়াছে— তাহারা কি যথোচিত শাস্তি পাইবে? ইহার উত্তরে এই ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি বিষয়ে যিকঞ্চিত্ অভিজ্ঞতা যাহাদের আছে তাহারা যে গভীর হতাশা ব্যক্ত করিবেন—তাহা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।
বিষয়টি গুরুতর। ইহাকে হালকাভাবে দেখিবার কোনো অবকাশ নাই। রেলওয়ে সরকারনিয়ন্ত্রিত একটি প্রতিষ্ঠান। আর এই প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে থাকা অবস্থায় শত শত কোটি টাকার খাদ্যশস্য চুরি হইয়া যাইবে—ইহা কোনোভাবেই মানিয়া লওয়া যায় না। শুধু কি খাদ্যশস্য? কোনো পণ্যই যে নিরাপদ নহে—তাহাও সুবিদিত। সরকারি প্রতিষ্ঠানে সরকারি সম্পদেরই যদি নিরাপত্তা না থাকে তাহা হইলে সেই প্রতিষ্ঠানের উপর অন্যরা ভরসা রাখিবে কীভাবে? ইহা বিশ্বাস করিবার সঙ্গত কারণ রহিয়াছে যে চুরি কাহারা করে, কী উপায়ে করে এবং সেই অর্থ কোথায় যায়—সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাহা জানেন। জানেন রেলওয়ের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গও। কিন্তু কোনো প্রতিকার হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দায়ী ব্যক্তিরা ধরাছোঁয়ার বাহিরেই থাকিয়া যায়। এইভাবেই চলিয়া আসিতেছে। প্রতিকারহীনতার কারণে অসাধু চক্রটি আরও বেপরোয়া হইয়া উঠিয়াছে। অপরাধী যখন নিশ্চিত হয় যে তাহাদের কিছুই হইবে না—তখন তাহারা ধরাকে সরাজ্ঞান করিবে, ইহাই স্বাভাবিক। এই অবস্থার অবসান হওয়া দরকার। আর ইহার জন্য কঠোরতার কোনো বিকল্প নাই।
অনতিবিলম্বে খাদ্যশস্য চুরির সহিত জড়িত ব্যক্তিবর্গকে গ্রেফতার করিয়া বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাইতে হইবে। আইনের আওতায় আনিতে হইবে নেপথ্যের ইন্ধনদাতাদেরও। বন্ধ করিতে হইবে সকল ফাঁকফোকর। সেই সাথে ইহাও নিশ্চিত করিতে হইবে যে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ যাহাতে বজ আঁটুনি ফস্কা গেরোতে পরিণত না হয়। প্রয়োজনে যথোপযুক্ত সংস্থার উপর তদন্তের দায়িত্ব ন্যস্ত করিতে হইবে। সর্বোপরি, দায়ী ব্যক্তিদের বিচার সম্পন্ন করিতে হইবে দ্রুত বিচার আইনে। নিশ্চিত করিতে হইবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।