নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের নিতাইবাড়ি মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি শিক্ষক সংকট, শ্রেণিকক্ষ সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
গতকাল বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়টির একমাত্র খেলার মাঠটি গত দুই বছর আগে বন্যার পানিতে ধসে যাওয়ার পর দীর্ঘদিনেও সংস্কার না করায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারছে না। এছাড়া বিদ্যালয়ে টয়লেট সুবিধা না থাকায় শিক্ষার্থীরা অসুবিধায় থাকে।
বিদ্যালয়সূত্রে জানা গেছে, নিতাই ইউনিয়নের মুশরুত পানিয়াল পুকুর হাজিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মরহুম খয়ের উদ্দিন সরকার এলাকার শিক্ষার মান বৃদ্ধিকল্পে ১৯৫২ সালে ৪৫ শতক জমির ওপর নিতাই বাড়ি মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর তত্কালে সরকারি অর্থায়নে দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি পাকা ঘর নির্মাণ করা হয়। পরে ২০০৬ সালে এলজিইডির অর্থায়নে ১২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা ব্যয় করে দুই কক্ষ বিশিষ্ট আরও একটি একতলা বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ১৯৭ জন। শিক্ষকের পদ রয়েছে ৭টি। কিন্তু কর্মরত আছেন চারজন শিক্ষক। একটি পুরনো পাকা ঘর ও একটি একতলা বিল্ডিং মিলে মোট চারটি কক্ষ থাকলেও শিক্ষকের একটি রুম ও অপর তিনটি রুমে অনেক কষ্টে গাদাগাদি করে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করে আসছে।
বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আব্দুল মোতালেব মিয়া (বর্তমানে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্বপ্রাপ্ত) বলেন, গত ২০১৩ সালে নিতাই বাড়ি মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য একটি দুইতলা ভবন (বিল্ডিং) বরাদ্দ আসে। কিন্তু কি কারণে আজ পর্যন্ত বিল্ডিংটি হচ্ছে না তা আমরা জানি না। তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়টিতে শ্রেণিকক্ষ এবং শিক্ষক সংকটের কারণে প্রতিদিন সকাল ৯টার পরিবর্তে সকাল ৭টা থেকে স্কুলে ক্লাস নেওয়া হয়।
নিতাইবাড়ি মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুন্নাহার বেগম বলেন, আমার স্কুল গত ২০১৭ সালে বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টে কিশোরগঞ্জ উপজেলা চ্যাম্পিয়ন ও নীলফামারী জেলায় রানার্স আপ হয়েছিল। ২০১৮ সালেও আমার স্কুল উপজেলা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সেই আমার স্কুলে শ্রেণিকক্ষ এবং শিক্ষক সংকটের কারণে আমরা ভাগ করে প্রতিদিন সকাল ৭টায় স্কুলে এসে ক্লাস নেই। পাশাপাশি স্কুলের খেলার মাঠটি বন্যার পানিতে ধসে যাওয়ায় বাচ্চারা ঠিতমতো খেলতে পারছে না এবং টয়লেট না থাকায় শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে খোলা মাঠে টয়লেট করে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শরীফা আক্তার বলেন, আমি কয়েকদিন ওই স্কুলে গিয়েছিলাম, স্কুলটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। খুব দ্রুত বিদ্যালয়টির সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।