আরবান প্ল্যানার
প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০১৪, ২০:৩১
একজন উন্নয়ন পরিকল্পনাবিদ পরিকল্পনা প্রক্রিয়ায় বিভিন্নভাবে কাজ করতে পারে; যেমন—আঞ্চলিক বিশ্লেষক, নীতিমালা বিশ্লেষক, পরামর্শক, কৌশল নির্ধারক, নীতি উদ্ভাবক, সমন্বয়ক, ব্যবস্থাপক এবং বাস্তবায়নকারী, এনিমেটর ও প্রভাবক এবং মূল্যায়নকারী ইত্যাদি হিসেবে। তরুণদের মাঝে থেকে উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় পেশা তৈরিতে ইচ্ছুক এমন চিন্তা যারা করেন তাদের জন্যও নগর ও আঞ্চলিক গ্রামীণ পরিকল্পনা বিষয়টি একটি যুগোপযোগী বিষয় হতে পারে। এ পেশা নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন প্রজন্মের সফল কয়েকজন আরবান প্ল্যানার। অনুলিখন করেছেন আহসান রনি
তাসফিন আজিজ
কমিউনিটি ডেভলপমেনট অ্যাসিস্ট্যান্ট ,
সিবিএসিসি-সিএফ প্রকল্প, ইউএনডিপি
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নগর পরিকল্পনাবিদরা শহর ও গ্রামীণ অবকাঠামো, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা, বাসযোগ্য পরিবেশ, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনাসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের নানাবিধ দিকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। একসময় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সকল স্তরেই নগর পরিকল্পনাবিদরা অবদান রাখবেন বলে আশা করেন তিনি। সকল শহর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলোতে নগর পরিকল্পনাবিদরা আরও বেশি সাফল্যের সাথে কাজ করবেন বলে প্রত্যাশা তার। সকল পেশাই জনপ্রিয় হয় তার কার্যক্রম ও কতটা সময়োপযোগী তার উপর ভিত্তি করে। পিএসসি-এর মাধ্যমে নিয়োগের ক্ষেত্রে নগর পরিকল্পনা একটি আলাদা ক্যাডার সার্ভিস হিসেবে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যার দাবি অনেক দিন ধরেই পরিকল্পনাবিদদের জাতীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) জানাচ্ছে। তিনি আশা করেন, সরকারি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার ক্ষেত্রেও পরিকল্পনা পেশাজীবীদের কাজের সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে। তিনি প্রত্যাশা করেন, গবেষণাধর্মী ও প্রায়োগিক পেশা হিসেবে অবশ্যই নগর পরিকল্পনা পেশা একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করবে। তবে তিনি স্বপ্ন দেখেন, আগামীতে প্রতিটি শহর ও গ্রামে পরিকল্পনার ছোঁয়া থাকবে এমন একটি বাংলাদেশের।
সায়মা রহমান
প্রভাষক, আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল বিভাগ
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), খুলনা
ভূমি ব্যবস্থাপনা, আবাসন ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার সুষম সংস্থানের মাধ্যমে পরিকল্পিত বাংলাদেশ গড়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রত্যয় নিয়েই এই পেশায় যোগ দিচ্ছেন অনেকে। আগের তুলনায় অধিক ছাত্র-ছাত্রী এ বিষয়ে পড়াশোনা করে পেশাজীবী হয়ে বের হতে পারছে। সরকার প্ল্যানারদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ দিয়ে তাদের মেধা প্রয়োগের ক্ষেত্র তৈরি করবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। উপজেলা পর্যায়ে প্ল্যানার নিয়োগের বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকার সচেষ্ট হবে বলে আশা করেন তিনি। প্ল্যানারদের জন্য স্বতন্ত্র বিসিএস পদ সৃষ্টির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে। প্ল্যানিং পেশাটি একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে অচিরেই দেখা দেবে বলে প্রত্যাশা করেন এই শিক্ষক। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, কনসালটেন্সি ও রিয়েল এস্টেট ফার্মগুলোতে প্ল্যানারদের কাজ করার ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে আশা করেন তিনি। এখন থেকে সামনের এক দশক পরে ব্যাপক উন্নয়নের ছোঁয়া লাগবে শহরে এবং গ্রামে। পরিকল্পিত আবাসন গড়ার প্রয়োজনীয়তা এখন মানুষ বুঝতে শিখেছে, সে সময় আরও বেশি করে বুঝবে। কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং প্ল্যানাররা পেশাগত দিক থেকে তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
সাখওয়াত হোসেন তানিম
সহকারী নগর পরিকল্পনাবিদ, প্ল্যানিং অ্যান্ড রিসার্চ ডিপার্টমেন্ট, শেলটেক (প্রা.) লিমিটেড
প্রজন্মের অনেক মেধাবী মুখ আসছে এই পেশায়। তারা যেন কাজ করে যায়, কঠোর পরিশ্রম করে এবং বেশি বেশি অভিজ্ঞতা অর্জনের চেষ্টা করে—এই প্রত্যাশাই করেন তিনি। তার বিশ্বাস, তরুণরা আরও বেশি করে প্ল্যানিং পেশায় নিয়োজিত হবে এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। প্রজন্ম তাদের মেধার সর্বোচ্চ প্রয়োগ করে দেশের জন্য কাজ করবে। তাদেরকে সকল শ্রেণীর মানুষের জন্য কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি। যেকোনো পেশার জনপ্রিয়তা নির্ভর করে সেই পেশায় যারা নিয়োজিত তাদের কমিটমেন্ট, সততা এবং দেশ সেবার মানসিকতার উপর। উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য কিছু দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠা করে পেশাকে নতুন প্রজন্মের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া হবে বলে আশা তার। প্ল্যানারদের জন্য পর্যাপ্ত কাজের সুযোগ না থাকায় বিপুল সংখ্যক প্ল্যানার বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। মেধাবীদের কাছ থেকে প্রত্যাশা থাকবে তারা নিজের দেশকে ভুলে যাবে না; তারা তাদের অবস্থান থেকে বাংলাদেশে এই পেশার উন্নয়নে কাজ করে যাবেন। সরকারের উচিত নগর পরিকল্পনা বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করা এবং দেশের মানুষকে নগর পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতন করে তোলা।