প্র জ ন্মে র ফে স বু ক
শর্বরী’স আর্টস ওয়ার্ল্ড
প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০১৪, ২০:৩৩
ছোটবেলায় হুজুরের কাছে আরবি পড়া শিখতেন। একদিন নেইলপলিশ দিয়ে পড়তে গিয়েছিলেন, এ কারণে হুজুরের বকা শুনতে হয়েছে। সেই থেকে নিষিদ্ধ ছিল তার নেইলপলিশ ব্যবহার করা। ১১ বছর তিনি নেইলপলিশ ব্যবহার করেননি। কিন্তু ২০১২ সালের দিকে ঘটল ভিন্ন ঘটনা। তখন নেইলপলিশ নিজে কিনতেন, গিফট পেতেন। যেহেতু প্রায় নেইল পলিশ ব্যবহার করতেন, তাই ভাবলেন এটা নিয়ে নতুন কিছু করা যায় কি না। ইন্টারনেট থেকে নেইল আর্ট দেখলেন, ইউটিউব থেকে আর্ট করার প্রক্রিয়াগুলো শিখে নিলেন; এভাবেই শুরু করলেন নেইল আর্টের চর্চা। শুরুতে নিজে করতেন, বান্ধবীদের করে দিতেন। সবাই প্রশংসা করত, উত্সাহ দিত। এরপর ফেসবুক পেজ খুললেন। সবাইকে তার আর্ট দেখার সুযোগ করে দিলেন। তার ফেসবুক পেজটির শুরু ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে। পেজের নাম দিলেন ‘শর্বরী’স আর্টস ওয়ার্ল্ড’। এই পেজের মালিকের নাম সাহিদা আক্তার জুঁই। ঢাকা সিটি কলেজ থেকে হিসাব বিজ্ঞানে অনার্স করছেন তিনি। নেইল আর্টের ভালো দিক বলতে গিয়ে তিনি বললেন এর সৃজনশীলতার কথা। নখ তার কাছে ক্যানভাসের মতো। যেখানে তিনি বিভিন্ন নকশা করতে পারেন, যেমন ফুল, পাখি। এমনকি নববর্ষ, একুশে ফেব্রুয়ারি, বিজয় দিবস—এগুলোও উঠে আসে তার ক্যানভাসে। আর এর আরেকটি ভালো দিক হচ্ছে, এটি সৌন্দর্যের বাড়তি মাত্রা প্রকাশ করে। যেকোনো কাজের ক্ষেত্রেই ধৈর্য এবং আগ্রহ থাকা জরুরি। সেটা জুঁইয়ের আছে। তিনি ধৈর্য নিয়ে প্রতিটা নকশা সুন্দরভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। যারা নেইল আর্ট করতে চান তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আর্ট শিখুন, এটাকে ভালোবাসুন। কোনো নকশাকে একটু অন্যরকমভাবে তুলে ধরুন, যেখানে আপনার সৃজনশীলতা প্রকাশ পাবে।’ জুঁইয়ের শৈশব কেটেছে গ্রামের বাড়ি দোহারে। তবে এখনও তিনি নেইল আর্ট প্রফেশনালি শুরু করেননি। পরিচিতদেরকেই মাঝে মাঝে নকশা করে দেন। সবার উত্সাহ এবং আগ্রহ তাকে অনুপ্রাণিত করছে। নিজে আরও শিখতে চান এবং অন্যকেও শেখাতে চান। এছাড়া ফটোগ্রাফির প্রতি তার আগ্রহ আছে। ভবিষ্যতে একজন ভালো ফটোগ্রাফার এবং একজন ভালো নেইল আর্টিস্ট হতে চান প্রজন্মের এই সফল উদ্যোক্তা।