পাঠ্যপুস্তককে বিদায় বলছে আইটিউনস ইউ

পরীক্ষা নাগালের মধ্যে চলে আসলে যাবতীয় পাঠ্যবই এবং পাঠ্যসহায়ক পুস্তক হাতের নাগালে না থাকলে চলে না। প্রতি মুহূর্তেই রিভিশন করার জন্য একবার এই বইয়ে, একবার ওই বইয়ে নজর বোলানোর রীতি অনেক পুরোনো। সঠিক সময়ে সঠিক বইটি হাতের কাছে না থাকলে অনেকেরই মাথা খারাপ হওয়ার জোগাড় হয়ে পড়ে। কিন্তু যদি এমন হয়—হাতের কাছে কোনো বই নয়, বরং কোনো স্ক্রিন টাচ করে চাইলেই পাওয়া যাবে প্রয়োজনমতো সব টেক্সট এবং যাবতীয় রেফারেন্স, তাহলে কেমন হয়? এর মধ্যে আবার যদি থাকে কোনো শিক্ষার্থীর অংশ নেওয়া প্রতিটি ক্লাস এবং অনুপস্থিত থাকা ক্লাসের পুরো লেকচার ও ভিডিও তাহলে তো সেটা কল্পনার মতো বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এর সাথে যোগ করুন, প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে রয়েছে ্একটি করে ট্যাবলেট পিসি। আর এসব ট্যাবলেট পিসি থেকেই যেকোনো শিক্ষার্থী তার প্রয়োজনীয় যেকোনো পাঠ, ক্লাস লেকচার বা ভিডিও সংগ্রহ করে নিতে পারছে। আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে তো বটেই, আধুনিক বিশ্বের জন্যও উপরোক্ত দৃশ্যের বাস্তবায়ন অনেকটাই কষ্টকল্পনা। কিন্তু তা হলেও কেমব্রিজের একটি স্কুল কিন্তু এই চিত্রটিই বাস্তবায়ন করে ফেলেছে। এই স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সব পাঠ পাওয়া যায় টেক জায়ান্ট অ্যাপল’র আইটিউনস ডাউনলোড সার্ভিসের একাডেমিক সংস্করণ আইটিউনস ইউ-এর মাধ্যমে। ডিজিটাল এই স্কুলের কার্যক্রম একদিকে যেমন গতিশীল, অন্যদিকে বাস্তবমুখীও। কেমব্রিজের এই স্কুলটির নাম স্টিফেন পার্সি ফাউন্ডেশন স্কুল। এই স্কুলের শিক্ষকরা জিসিএসই (জেনারেল সার্টিফিকেট অব সেকেন্ডারি এডুকেশন), এ-লেভেল বা স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নিজ নিজ কোর্সের পাঠ, ভিডিও বা সহায়ক সব পাঠ নিয়ে নিজেই তৈরি করে থাকেন অনলাইন লাইব্রেরি। ইন্টার্যাক্টিভ এসব পাঠে ভিডিও লিংক, টিকাসহ নানা ধরনের সহায়ক তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে। আর এসব কোর্স ম্যাটেরিয়াল শেয়ার করে দেওয়া হয় আইটিউনস ইউ সার্ভিসের মাধ্যমে। ফলে ওই কোর্সের শিক্ষার্থীরা যেকোনো স্থানে বসেই ওই ম্যাটেরিয়ালগুলোতে অ্যাকসেস পেয়ে যায়। ফলে ওই কোর্সের যেকোনো ক্লাসের জন্য প্রয়োজনীয় সব পাঠই ঠাঁয় পেয়ে যায় তার আইপ্যাডে। এবার কেবল সেগুলোতে সময়মতো নজর বুলানোর অপেক্ষা। স্টিফেন পার্সি ফাউন্ডেশন স্কুলের এই অভিনব উদ্যোগের নেতৃত্বে রয়েছে স্কুলটির অধ্যক্ষ ট্রিসিয়া কেল্লেহার। তার ভাষ্য, ‘আজ থেকে কয়েকবছর পর আর ছাপা বইয়ের ব্যবহার থাকবে কি না, সেটিই একটি বড় প্রশ্ন। তাছাড়া প্রযুক্তি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে শিক্ষা খাতেও প্রযুক্তির ব্যবহারকে অন্তুর্ভুক্ত করতে হবে। সেই জায়গা থেকে আমাদের স্কুল বলতে গেলে একধাপ এগিয়েই চিন্তা করে এগিয়ে যাচ্ছে।’ আইটিউনস ইউ-এ আপলোড করা এই স্কুলের পাঠগুলো যেকোনো সময় শিক্ষকরা আপডেট করতে পারছেন। ফলে শিক্ষার্থীরা সবসময় একদম হালনাগাদ তথ্যগুলোই পেয়ে থাকে পাঠগুলোতে। তাছাড়া আধুনিক সময়ের শিশু-কিশোর বা তরুণরা অনেক বেশি প্রযুক্তি-নির্ভর। ফলে পাঠেও প্রযুক্তির ব্যবহার তাদের জন্য অনেক বেশি উত্সাহজনক। অনলাইনে সব ধরনের পাঠ রেখে তা অনেকের সাথে শেয়ার করার ধারণা নিয়ে অবশ্য আরও বেশকিছু পরিকল্পনা রয়েছে। ইউনাইটেড লার্নিং এডুকেশন চ্যারিটি ৪০টি স্কুলে একসাথে শিক্ষাদান নিয়ে কাজ করছে। অনলাইন শিক্ষার ক্ষেত্রেও এই ধরনের মডেল কার্যকরী হতে পারে বলেই মন্তব্য বিশ্লেষকদের।