৭ দিনের
সাত জানা
প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০১৪, ১৯:১৩
বিদ্যুত্ নীল রঙের দেখানোর কারণ
বজ্রপাতের আগে আমরা বিদ্যুত্ চমকাতে দেখি। আর এই বিদ্যুতের রং হয় নীল। এই বিদ্যুত্ বায়ুস্তরের ভেতর দিয়ে আসে বলে আমরা বিদ্যুতের নীল রংটা দেখি। প্রকৃতপক্ষে নীল বিদ্যুতের আসল রং নয়। বজ্রপাতের ফলে বিদ্যুত্ বাতাসের প্রতিটি কণার মধ্য দিয়ে চলার সময় শক্তি অর্জন করে এবং পরবর্তী স্তরে চলে আসে। এভাবে শক্তি অর্জনের এক পর্যায়ে ইলেকট্রন তার প্রকৃত শক্তি অর্জন করে এবং সেই সময়ে সে আলোর ফোটন বিচ্ছুরিত করে। বাতাসে এই ফোটন নীল রঙের দেখায়। কিন্তু অন্য গ্যাস ভিন্ন রং প্রদর্শন করে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আর্গন, ফসফরাস, পারদ কিংবা নিয়ন এই স্তর পার হয়ে আমাদের চোখে আলাদা আলাদা রং রূপে দেখা যায়।
টার্মিনাল বেগ
স্কাইডাইভাররা যখন বিমান থেকে লাফ দেন, তখন মাধ্যাকর্ষণজনিত টান তাদেরকে অধিকতর দ্রুত পড়তে সাহায্য করে। তারা যত নিচে নামবেন এই দ্রুত পতনের বেগ সেই হারে বাড়তে থাকবে। একই সময়ে বায়ুর বাধা তাদেরকে ধীরে পড়ার একটি বিপরীতমুখী বল দ্বারা বাধা দেয়। এই বলকে টান বলা হয়। স্কাই ডাইভাররা যত দ্রুত পড়বে, তারা এই বায়ুর বাধাও তত বেশি উপলব্ধি করতে পারবেন। এই দ্রুত পতনের হার এবং বায়ুর বাধার হার হ্রাস প্রায় সমমানের হয়ে থাকে। আর সে কারণে স্কাই ডাইভারদের পতন একটি নির্দিষ্ট বেগের মধ্যে থাকে। মানে, স্কাই ডাইভাররা পতনের অতিরিক্ত কোনো বেগ অর্জন করে না। আর এটাই হলো টার্মিনাল বেগ।
সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বলে কি কিছু আছে?
সকল বস্তুই কম্পনশীল। আর তাদের শক্তি যত বেশি তারা তত বেশি কম্পনশীল হবে। এই অভিজ্ঞতা থেকে আমরা তাপমাত্রা নির্ণায়ক স্কেল দিয়ে তাপমাত্রাও নির্ণয় করতে পারি। কিন্তু কেউই নির্দিষ্ট করে বলতে পারবে না, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কত হতে পারে। এর কারণ, এখন পর্যন্ত সেই তাপমাত্রা গণনা করাই সম্ভব হয়নি। কিছু বিজ্ঞানী ধারণা করছেন, ম্যাক্স প্ল্যাংক তত্ত্বের ১.৪১৬৭৯ (গুণ) ১০ (টু দি পাওয়ার) ১২ কেলভিনই সর্বোচ্চ তামপাত্রা হতে পারে। ম্যাক্স প্ল্যাংক অনুযায়ী এই তাপমাত্রার উপরে পদার্থ বিজ্ঞানের সমস্ত সূত্র আর কাজ করবে না। যাই হোক, এই থিউরিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কীভাবে পাওয়া সম্ভব তার অবশ্য কোনো উল্লেখ নেই।
বিলুপ্ত প্রাণীর ক্লোন
কোনো প্রাণীর ক্লোন করতে হলে প্রথমত সেই প্রাণীর ডিএনএ (বংশগতির মূল উপাদান) পেতে হবে। আর এই ডিএনএ থেকেই ক্লোন ডিম তৈরি করা হয়, যা পরবর্তীতে পোষক মায়ের দেহে বড় হয়ে উঠে। তবে অনেক আগেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে যেমন—ডাইনোসর কিংবা এমন কোনো প্রাণীর ডিএনএ পাওয়া অনেক সময়ই কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, এর বেশির ভাগই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিংবা অসম্পূর্ণ অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে অতি সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর ডিএনএ সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছেন এবং কিছু পুরোনো বিলুপ্ত প্রাণীর ভালোমানের ডিএনএ সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। যা থেকে যদিও তারা কোনো ক্লোন সৃষ্টি করতে পারেননি। তবে আশা করা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে কোনো বিপন্ন প্রাণীর অস্তিত্ব রক্ষায় এটা কাজে দেবে।
মধু কখনও নষ্ট হয় না
পৃথিবীর সিংহভাগ খাবারই পচনশীল। খাবারের পচনরোধে তা সীমিত সময়ের জন্য রেফ্রিজেটরে রাখা হয়। কিন্তু পৃথিবীতে মধুই একমাত্র খাবার যা কোনো রেফ্রিজেটরে রাখার প্রয়োজন হয় না। এটা কখনও নষ্ট হয় না। আশ্চর্য করা খবর হলো—সম্রাট তুতেন খানেমের পিড়ামিডের ভেতরে যে মধু পাওয়া গেছে, হাজার বছরের পরেও তা নষ্ট হয়নি। মধুতে অনেক বেশি সুগার মিশ্রণ রয়েছে এবং এর অ্যান্টিবায়োটিক উপাদানও পর্যাপ্ত, আর সে কারণে এর সংরক্ষণ ক্ষমতা অনেক বেশি। অনেকদিন হয়ে গেলে মধু ঘনীভূত হয়ে পড়ে ঠিকই, তবে সাবধানে গরম করলে এটি আগের মতোই হয়ে যায়। মধুতে ইস্ট জন্মাতে পারে, এর খাদ্যমান কমে যেতে পারে। তবে সঠিক আর্দ্রতায় রাখলে এটি কখনও নষ্ট হবে না।
গ্রহ ও নক্ষত্রগুলো গোলাকার কেন?
শক্তির বিকেন্দ্রিকরণের কারণেই গ্রহ এবং নক্ষত্রে আকার গোলাকার হয়ে থাকে। এর মানে, গ্রহ ও নক্ষত্রগুলোর প্রচুর ভর রয়েছে, আর সে কারণে তাদের অনেক মাধ্যার্কষণজনিত শক্তিও রয়েছে। আর এই শক্তি গ্রহ ও নক্ষত্রের প্রতিটি দিকে সমানভাবে পৌঁছে দিতে এগুলোর আকৃতি ফুটবল আকারের হয়ে থাকে। তবে, ছোটখাটো গ্রহাণুগুলোর এই মাধ্যাকর্ষণজনিত শক্তি কম থাকার কারণে তাদের অন্য আকৃতিতেও দেখা যায়।
হাতি কি লাফাতে পারে?
আমাদের সবারই জানা, হাতি স্থলের সবচেয়ে বৃহত্ প্রাণী। এদের ওজন অনেক টন, আর এরা লাফাবার জন্যও অনেক বেশি ভারি। তাছাড়া তাদের শারীরিক গঠনও তাদেরকে মাটি থেকে শূন্যে পা তোলার পক্ষে উপযোগী নয়। হাতিরা প্রকৃতির শিকারি প্রাণী নয়, যে কারণে বেঁচে থাকার জন্য তাদেরকে সংগ্রাম করতে হয়নি কিংবা তাদের লাফানোর গুণও অর্জন করতে হয়নি। তা ছাড়া, হাতি কখনও দুপায়ে দাঁড়াতেও পছন্দ করে না। যদিও অনেক ট্রেইনড হাতি তা করতে পারে।
গ্রন্থনা সাইফুল ইসলাম জুয়েল