মজার বিষয় : ব্যাঙের ছাতা

একসময় ব্যাঙের ছাতা বলে ঘৃণায় হাত দিয়েও ছুঁতো না কেউ যাকে, আজ তা বিভিন্ন চাইনিজ রেস্টুরেন্টের হালকা আলোর নিচে সবার কাছে সম্ভবত প্রথম পছন্দের খাবার, স্যুপ হিসেবে। অনেক পরিবারের ডাইনিংয়ে আজকাল মাশরুম ডিশ টেবিলের শোভা বাড়াচ্ছে। একটা ক্রেজ হয়ে উঠছে বলা চলে। ছাতার মতো দেখতে এই জিনিসটি কি আদপেই ব্যাঙেরা মাথায় দিয়ে চলে? বাচ্চাদের গল্পে কিংবা রূপকথায় চলে হয়তো। বাস্তবে নয়। বাস্তবে সব ব্যাঙের ছাতাই ছাতার মতো দেখতে নয়। এদের আছে চটকদার রূপ। বর্ণাঢ্য রং। ম্যাকডোনাল্ডসের যে বার্গারটি আপনার পছন্দ তা কিন্তু আসলে এই ব্যাঙের ছাতার আদল। কিছু আছে যেগুলো দেখতে সুন্দর হলেও প্রকৃতপক্ষে অত্যন্ত বিষাক্ত। এতটাই বিষাক্ত যে মানুষ মেরে ফেলার ক্ষমতা রাখে এরা। আবার মাশরুম হিসেবে যে ব্যাঙের ছাতা খাওয়া হয় তার গুণাগুণও অনেক। তবে মাশরুমের শ্রেণীবিভাগ করা মোটেও সহজ নয়। মাশরুমকে আমরা যেমন বলি ব্যাঙের ছাতা, তেমনি ইংরেজরা বলে ‘টোডস্টুল’। আর এই নাম চলে আসছে শত শত বছর ধরে। এই ‘টোডস্টুল’ নামটি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয় বিষাক্ত মাশরুমের বেলায়। ১৪০০ থেকে ১৬০০ শতকে আমাদের ‘ব্যাঙের ছাতা’টিকে কত নামেই না ডাকা হতো— ফ্রগস্টুলস, প্যাডকস্টুল, ট্যাডস্টোলেস, ফ্রগি স্টোলেস ইত্যাদি। একটি বিষাক্ত ব্যাঙের ছাতা হলো আমানিয়া মাস্কারিয়া। এসব বিষাক্ত মাশরুমকে চিনে ওঠা বেশ কষ্টকর। তাই মাশরুম সম্বন্ধে ভালো ধারণা না থাকলে মাঠেঘাটে মাশরুম পেলেই তা তুলে আনা ঠিক হবে না। একই সাথে এটাও জেনে রাখুন, এ্যাগারিকাস বাইস্পোরাসে যেটি আমরা মূলত মাশরুম হিসেবে খেয়ে থাকি তাতে ‘অ্যাগারিটাইন’ নামের একটি ক্যান্সার উত্পাদনকারী ‘কারসিনোজেন’ থাকে। মাশরুম ডায়াবেটিস, রক্তের উচ্চ কোলেস্টেরল, মেদভুড়ি, উচ্চ রক্তচাপ, ভাইরাসজনিত রোগ, কিডনির রোগ, যৌন রোগ, এইডস, স্তন ও পায়ুপথের ক্যান্সার, জন্ডিস ও ডেঙ্গুজ্বর ইত্যাদি বিভিন্ন জটিল রোগের প্রতিরোধক, নিরাময়ক বা নিয়ন্ত্রক হিসেবেও কাজ করে।