আশিকের জাদুর কাঠি

চলচ্চিত্র নির্মাতা নামটা শুনলেই মাথায় চলে আসে খুব গুরুগম্ভীর আর রাশভারী চেহারার একটা আদল। এমন আসাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সময় কি আর থমকে আছে? প্রযুক্তি যত দ্রুত এগিয়ে আসছে ঠিক তত দ্রুতই সেগুলো চলে আসছে তরুণ প্রজন্মের হাতের মুঠোয়। আর তাই নির্মাতা নামটাও শুধুমাত্র বয়স্ক আর গম্ভীর মানুষের ছায়া পেরিয়ে এসে পড়েছে তরুণদের সৃজনশীল মনের উঠোনে। এমনই একজন তরুণ নির্মাতার কথা নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন। লিখেছেন ইশরাত বিনতে আফতাব আশফাকুর রহমান আশিক, শৈশবে তার কাছে সবচেয়ে অবাক করা বস্তুটি ছিল টেলিভিশন। তখন কোনোভাবেই ভেবে পেতেন না এত্ত ছোট একটা বাক্সের ভিতর এত্তগুলা মানুষ কীভাবে থাকে। সেই অবাক হওয়া ছোট্ট বাচ্চাটিই বড় হয়ে ক্যামেরার মধ্যে বন্দী করে ফেললেন অনেক অনেক মানুষকে। রাজবাড়ী সরকারি কলেজের ছাত্র আশিকের পরিবারের সদস্য বাবা, মা এবং এক ভাই। পছন্দের তালিকা জিজ্ঞেস করলে আশিক জানান, ‘কম্পিউটার গেমস খেলতে আমার খুব ভালো লাগে। ছবি আঁকতে পারি, আমার প্রিয় খেলা ফুটবল। তবে বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র দেখতে আমার খুব ভালো লাগে।’ আর এই ভালো লাগাই নিয়ে এসেছে তাকে এতদূর। কিছুদিন আগে হয়ে যাওয়া ৭ম আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উত্সবের বিজয়ী আশিককে তার নির্মাণকৃত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘জাদুর কাঠি’র গল্প জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার বাবা পেশায় একজন ব্যবসায়ী হলেও, বাবা একজন ভালো ফটোগ্রাফার। সেজন্যই ছোটবেলা থেকেই ক্যামেরার প্রতি দারুণ একটা আকর্ষণ ছিল। ২০১২ সালে আমি জানতে পারি আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উত্সব বাংলাদেশের কথা। কিছুদিন পর আমার এক বন্ধুর নির্মিত একটা শর্ট ফিল্মে আমি অভিনয় করি। একসময় আমার মনে হলো আমিও ফিল্ম তৈরি করব। এর পর আমার বড় ভাইয়া মিজানুর রহমান বুলেটের সহায়তায় ফিল্ম মেকিং, এডিটিং, সিনেমাটোগ্রাফির উপর প্রাথমিক জ্ঞান নিই। এরপর ৭ম আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উত্সবে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিই। ভাইয়ার এক বন্ধু আমিন আল মাসুম ভাইয়ের গল্প অবলম্বনে নির্মাণ করি আমার প্রথম শর্ট ফিল্ম ‘জাদুর কাঠি’। একটা মজার ঘটনা বলি, ফিল্ম তৈরি শেষ, এডিটিংও শেষ কিন্তু তখনও ফিল্মের নাম ঠিক করতে পারছিলাম না। পরে ভাইয়ার এক বন্ধু জামিল আশরাফ খান নয়ন ভাইয়াকে ফোন করে বিস্তারিত বললাম। নয়ন ভাইয়া গল্প শুনেই বললেন, অসাধারণ। তোমার ফিল্মের নাম দাও ‘জাদুর কাঠি’। নামটা আমারও পছন্দ হলো, আর এভাবেই তৈরি হলো আমার প্রথম ফিল্ম।’ এত অল্প বয়সে চলচ্চিত্র তৈরি করা কোনো সহজ ব্যাপার নয়। পড়াশোনার পাশাপাশি কীভাবে এসব কাজ করে সে সম্পর্কে জানতে চাইলে আশিক তার সাফল্যের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব দেন মায়ের উপর। দিনের যতটুকু সময় পড়াশোনা করেন সে সময়টুকু মনোযোগ দিয়ে করার চেষ্টা করলেও অনেক সময় বাবা অথবা ভাইয়া রেগে যান, কিন্তু মায়ের সহযোগিতা সবসময় তাকে ঘিরে ছিল। আর অন্যান্য সকল সাহায্যের ক্ষেত্রে বন্ধুরা তো সবসময়ই পাশে থাকে আশিকের। এত অল্প বয়সে এই সাফল্য কেমন লাগছে জানতে চাইলে আশিক উচ্ছ্বাসের সাথে জানায়, ‘আমি ভাবিনি এত বড় একটি প্রতিযোগিতায় আমি প্রথম হব। তবে ভালো কিছু করব এই বিশ্বাস ছিল প্রথম থেকেই। বেস্ট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড জেতার পর অনুভূতি বলে বোঝাতে পারব না। অনেক অনেক খুশি আমি।’ ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা হিসেবে আর কিছুই না শুধু নিজের কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান। বাংলাদেশকে পুরো বিশ্বের সামনে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরতে চান তিনি। আশিকের মতে তরুণরা চাইলে যেকোনো কাজ করতে পারে। ছবি দীপঙ্কর দীপু