নির্বাচন হয়ে উঠেছে প্রহসন প্রয়োজন আমূল সংস্কার
প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০১৪, ২১:৫৮
আমাদের দেশে গণতন্ত্র আজ নানাভাবে আক্রান্ত। গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তিগুলোকে বিভিন্ন দিক থেকে দুর্বল করে ফেলা হচ্ছে। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার মর্মবাণী ক্রমান্বয়ে ক্ষয়ে যাচ্ছে। গণতন্ত্রের পথে প্রতিবন্ধকতা ও বিপদ ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। এই নাজুক ও বিপজ্জনক অবস্থা বিশেষভাবে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ‘প্রহসনে’ পরিণত করার সামপ্রতিক প্রবণতার মধ্যে। নির্বাচন আবার ‘প্রহসন’ হয়ে উঠলে তা দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য সর্বনাশ ডেকে আনবে।
প্রকৃত গণতন্ত্রের ভিত্তি হচ্ছে বহুমাত্রিক। তার যেমন রয়েছে নানা অর্থনৈতিক ও সামাজিক মাত্রিকতা, তেমনি তার রয়েছে রাজনৈতিক নানা উপাদান। উত্পাদন-উপকরণের ওপর সামাজিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, শ্রেণিগত শোষণ-বৈষম্যের অবসান, সমাজ জীবনের সর্বক্ষেত্রে জনগণের সমবেত ইচ্ছা-শক্তির কর্তৃত্ব স্থাপন, জাতিগত-ধর্মগত-জেন্ডারগত সমঅধিকারের নিশ্চয়তা— এসব ‘প্রকৃত গণতন্ত্রে’র অপরিহার্য শর্ত। রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনে ‘প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা’ স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠার জন্য এসব শর্ত পূরণ অপরিহার্য। কিন্তু সেজন্য প্রয়োজন দেশের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার আমূল বিপ্লবী পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদ অভিমুখে বিকাশের প্রক্রিয়া সূচনা করা। প্রয়োজন সুদূরপ্রসারী সমাজ বিপ্লব সংগঠিত করা। তবে, একথাও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন যে ‘প্রকৃত গণতন্ত্র’ ও সমাজ বিপ্লবের লক্ষ্যে গণমানুষের সংগ্রাম এগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি এবং তা এগিয়ে নেয়ার প্রয়োজনে, বর্তমান বুর্জোয়া ব্যবস্থার মধ্যেও, গণতন্ত্রের বহুমুখী উপাদানগুলো যথাসম্ভব প্রসারিত ও গভীরতর করার জন্য কাজ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
গণতন্ত্রের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে তার রাজনৈতিক মাত্রিকতা নিয়েই আলোচনা হয় বেশি। এটিকে আমরা ‘রাজনৈতিক-গণতন্ত্র’ বলে আখ্যায়িত করতে পারি। রাষ্ট্রীয় জীবনে ‘রাজনৈতিক-গণতন্ত্র’ স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের দেশের জনগণ কয়েক যুগ ধরে বুকের রক্ত ঢেলে সংগ্রাম করে আসছে। কিন্তু সে সংগ্রামে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাময়িক বিজয় অর্জন করা গেলেও, সাম্রাজ্যবাদ ও লুটেরা ধনিক শ্রেণির কারসাজিতে বারবার তা ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। আজো দেশবাসীকে নানা ধরনের স্বৈরতান্ত্রিক-ফ্যাসিস্ট কার্যকলাপ ও প্রবণতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানগুলো নৈরাজ্য ও সঙ্কটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। এসবই ঘটছে দেশের শাসক শ্রেণি ও তাদের অনুসৃত অর্থনৈতিক-সামাজিক-রাজনৈতিক নীতি-দর্শনের দেউলিয়াপনার এবং গোটা রাষ্ট্র ব্যবস্থার গভীর সংকটের অভিপ্রকাশ হিসেবে।
সকল নাগরিকের জন্য মৌলিক অধিকারগুলোর নিশ্চয়তা, সমান নাগরিক অধিকারের গ্যারান্টি, চিন্তা ও বিবেকের পূর্ণ স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, জাতি-ধর্ম-জেন্ডার নির্বিশেষে সব দেশবাসীর জন্য সামাজিক-সাংস্কৃতিক অধিকারের নিশ্চয়তা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, প্রশাসনের ওপর জনগণের কার্যকর নিয়ন্ত্রণের নিশ্চয়তা, রাষ্ট্রীয় নীতি-নির্ধারণ ও তার বাস্তবায়নে জনগণের কার্যকর কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা,— এসব হচ্ছে ‘রাজনৈতিক-গণতন্ত্রে’র মর্মবস্তু। ‘রাজনৈতিক-গণতন্ত্রের’ উপরোক্ত উপাদান ও বিষয়গুলো কোনোটিই একটি অপরটিকে বাদ দিয়ে নিশ্চিত করা যায় না। গণতন্ত্রের এই মর্মবস্তুর যথাযথ প্রতিফলনের জন্য একই সাথে প্রয়োজন গণতন্ত্রের কাঠামোগত ব্যবস্থা ও বিধি-বিধানের সুনির্দিষ্ট বিকাশ। এসব কাঠামোগত ব্যবস্থার অন্যতম একটি উপাদান হলো ‘নির্বাচন’। ‘নির্বাচন’কে অর্থবহ করতে হলে উপরোক্ত সবগুলো উপাদানকেই উপযুক্তভাবে বিকশিত করতে হবে।
গণতন্ত্রের মূল কথা হলো- জনগণের ক্ষমতায়ন। এই ক্ষমতায়নের সাথে, অন্যান্য অনেক বিষয়ের পাশাপাশি, যে বিষয়টি সরাসরিভাবে জড়িত তা হলো- অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা দেশের শাসন কাজ পরিচালনার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। সেক্ষেত্রে সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অবশ্য একথাও মনে রাখা দরকার, রাষ্ট্রের শাসন পরিচালনার বিষয়টি যে এককেন্দ্রিকই হতে হবে তার কোনো মানে নেই। বরঞ্চ গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে শাসন কাজ পরিচালনা করাটা জনগণের ক্ষমতায়নের উত্কৃষ্ট পথ। কেন্দ্রীয় সরকার ও স্থানীয় সরকার উভয় ক্ষেত্রে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পরিপূর্ণ কর্তৃত্বের নিশ্চয়তাই হলো গণতন্ত্রের একটি প্রধান উপাদান। উপযুক্ত ও সুষ্ঠু পদ্ধতিতে প্রকৃত জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের বিষয়টি গণতন্ত্রের জন্য তাই এতো গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি নির্বাচন তখনই নিশ্চিত হতে পারে যখন তা একটি অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়।
গত ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল কার্যত ‘একতরফা’ এবং প্রধানত সে কারণে ‘প্রশ্নবিদ্ধ’। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও তার মিত্ররাই শুধু অংশ নিয়েছে। বড় দুটি দলের একটি বিএনপি সেই নির্বাচনে অংশ নেয়নি। এ সংসদে ১৫৩ জন এমপি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি আসনগুলোতেও নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। সারাদেশে বিএনপি-জামায়াত ব্যাপক সন্ত্রাস চালিয়েছে। মানুষ একটি ভীতিপূর্ণ অবস্থার মধ্য দিয়ে সেই সময়টি অতিক্রম করেছে। নির্বাচনে সাধারণ মানুষ বিএনপি-জামায়াতের ভয়ভীতির কারণে ভোট দিতে যায়নি। তাছাড়া, ভোটের ফলাফল কী হবে এটা সবাই আগে থেকেই জানতো। এমনকি ৫ জানুয়ারির ভোটের দিনের আগেই নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই ভবিষ্যত্ সরকার গঠন হবে। ভোটের দিনের আগেই ১৫৩ জন বিনা ভোটে জিতে আসায় এবং অন্যান্য আসনে বাস্তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকায়, ভোটের প্রতি মানুষের কোনো আগ্রহ ছিল না। এমনকি আওয়ামী শিবিরের অধিকাংশ ভোটাররাও ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ভোট দিতে যায়নি। জনগণের মধ্যে ভোট প্রদানের জন্য কোনো স্বতঃস্ফূর্ত উত্সাহ ছিল না। ফলে, নানাবিধ কারণে সে নির্বাচনটি ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ হয়ে আছে।
‘নিয়ম রক্ষার’ এই নির্বাচনের মাধ্যমে দশম জাতীয় সংসদ গঠিত হলেও এবং প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নিয়ে সরকারি দায়িত্ব পালন শুরু করলেও এ সরকারের পেছনে জনসমর্থন আছে কী নেই প্রদর্শিত হওয়ার সুযোগ ঘটেনি। ফলে তা নিয়ে দেশে-বিদেশে সঙ্গতভাবেই প্রশ্ন থেকে গেছে। জনসমর্থনহীন সরকারের পক্ষে শাসন চালানোর নৈতিক ভিত্তি থাকে না। এসব প্রশ্নের মুখে বর্তমান সরকারের সামনে তাই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো একথা প্রমাণ করা যে, তার পেছনে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সমর্থন রয়েছে। বিএনপির সামনেও চ্যালেঞ্জ হলো একথা প্রমাণ করা যে আওয়ামী লীগের পেছনে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসমর্থন নেই। এভাবে, জাতীয় নির্বাচনের দলীয়-রাজনৈতিক টানাপড়েন প্রায় ষোল আনা পরিমাণে উপজেলা নির্বাচনে উপচে এসে পড়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটেই একটি ‘নিয়ম রক্ষার’ জাতীয় নির্বাচনের দুই মাসের মাথায় সারাদেশে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচন ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় নির্বাচনের মতো এক তরফা হচ্ছে না। এখানে আওয়ামী লীগের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে আছে বিএনপি-জামায়াত। সিপিবি-বাসদসহ কিছু দলও কয়েকটি উপজেলায় তাদের প্রার্থী দিয়েছে।
উপজেলা নির্বাচনে দিন-দুপুরে ভোট ডাকাতি, খোলামেলা কারচুপি, বুথ দখল, সিল-মারা ভোট, ভোটার আগমন প্রতিরোধ, ব্যালট ছিনতাই, ব্যালট বক্স ভাঙচুর, ভুয়া ভোট প্রদান ইত্যাদি ঘটনা বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়েছে। সবচেয়ে বিপদের কথা, প্রকাশ্যে টাকা-পয়সার লেনদেন একটি রেওয়াজ হয়ে উঠেছে। প্রকাশ্যে হাতে-হাতে কাঁচা টাকা ছড়ানো হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারপত্র হাতে পেয়ে ভোটাররা প্রশ্ন করেছে ‘এটাতো পেলাম, কিন্তু সঙ্গের টাকা কই?’ ‘নগদ প্রাপ্তির’ বিষয়টি এখন জনগণের জন্য স্বাভাবিক একটি ব্যাপার ও দেশের নির্বাচনী-সংস্কৃতির অংশে পরিণত হচ্ছে। নির্বাচনী আচরণবিধি অহরহ অগ্রাহ্য করে নির্বাচনী কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। অপরদিকে সরকারি প্রার্থী এমনকি প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার জন্য এবং অন্যান্য বিষয়ে প্রতিপক্ষকে ক্রমাগত হুমকি দেয়া হচ্ছে। নির্বাচনের নামে ভয়ঙ্কর সব কাণ্ড-কারখানা চলছে। অথচ এসব ঘটতে দেখেও রিটার্নিং অফিসাররা নিশ্চুপ। আইনের প্রয়োগ নেই। নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকেও আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করার জন্য তেমন কোনো নড়াচড়া বা চাপ আছে বলে দেখা যায় না। সহিংস পরিস্থিতি ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশন ব্যর্থতা প্রদর্শন করছে।
সবচেয়ে দুশ্চিন্তার বিষয় হলো, নির্বাচন নিয়ে যে সব কাণ্ড-কারখানা ঘটছে তা কেবল এবারের উপজেলা নির্বাচনের ফলাফলকেই প্রভাবিত করছে না। তার স্থায়ী প্রভাব এসে পড়বে দেশের নির্বাচনী সংস্কৃতির ভবিষ্যতের উপরেও।
জিয়াউর রহমান ও এরশাদের সামরিক শাসনামলে নির্বাচনকে ‘প্রহসনে’ পরিণত করা হয়েছিল। সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে বাংলাদেশের মানুষকে সংগ্রাম করতে হয়েছে। অনেক মানুষ বুকের রক্ত দিয়েছে। নূর হোসেন, তাজুল ইসলাম, ডা. মিলন, ময়েজউদ্দিনের মতো অগণিত শহীদের রক্তে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পথে অগ্রসর হওয়ার ধারা সূচিত হয়েছিল। আজ তা আবার বিলীন হতে বসেছে। নির্বাচন আবার একটি ‘প্রহসনের’ রূপ ফিরে পেতে চলেছে।
নির্বাচন ব্যবস্থাকে ‘প্রহসনে’ পরিণত হতে দিলে দেশে গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। গণতন্ত্র রক্ষা ও বিকশিত করার প্রয়োজনে নির্বাচন ব্যবস্থাকে ‘প্রহসনে’ পরিণত করার এই প্রয়াসকে রুখতে হবে। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং সেজন্য একটি যথোপযুক্ত নির্বাচনী ব্যবস্থা ও তার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা বর্তমানে একটি আবশ্যিক কর্তব্য হয়ে উঠেছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রত্যেক নাগরিকের সমান সুযোগ এবং অবাধ-ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত ইচ্ছা ও মতামতের প্রতিফলন নিশ্চিত করে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করা একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও অর্থবহ নির্বাচনের প্রাথমিক ও মৌলিক উপাদান।
কিন্তু আমাদের দেশের জনগণকে এই ন্যূনতম সুযোগটি থেকেও বার বার বঞ্চিত করা হয়েছে। ক্ষমতাসীনরা দলীয় স্বার্থে নির্বাচন ও নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রহসনে পরিণত করতে কুণ্ঠিত হয়নি। বর্তমানে শাসক শ্রেণির ‘মুক্তবাজার অর্থনীতি’র দর্শনের ভিত্তিতে পরিচালিত লুটপাটের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অনুষঙ্গ হিসেবে নির্বাচন বহুলাংশে এক কুিসত ‘টাকার খেলা’, ‘পেশীশক্তির প্রতিযোগিতা’, ‘প্রশাসনিক কারসাজি’ ও ‘সামপ্রদায়িক ধূম্রজাল ও বিভাজন সৃষ্টির ওস্তাদি’তে পরিণত হয়েছে। জনমত নয়, ‘অর্থ-অস্ত্র-ম্যানিপুলেশন-সামপ্রদায়িকতা’ই নির্বাচনের ফলাফলের ক্ষেত্রে নির্ধারক হয়ে উঠেছে। গরিব শ্রমজীবী মানুষসহ বিত্তহীন, স্বল্পবিত্ত, মধ্যবিত্ত সাধারণ মানুষের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেয়াকে কার্যত অসম্ভব করে তোলা হয়েছে। নির্বাচনের নামে কোটিপতিদের প্রতিযোগিতার এই খেলায় ‘জনগণের প্রকৃত ইচ্ছা ও মতামত প্রতিফলনের’ কোনো সুযোগ আর থাকছে না। এভাবে নির্বাচন আজ বস্তুত প্রহসনে পরিণত হয়েছে।
এমতাবস্থায় অবাধ নিরপেক্ষ অর্থবহ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য কেবল কিছু লোক দেখানো উপরভাসা সংস্কারে আর কাজ হবে না। এজন্য আজ প্রয়োজন গোটা নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন। এ বিষয় নিয়ে জোরেশোরে কথা তোলা এবং সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা প্রস্তুত করে জনমত গড়ে তোলা এখন জরুরি একটি কাজ। জাতীয় কনভেনশন ডেকে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করে তা বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এ বিষয়ে আগামীতে আলোচনা করা যাবে। [চলবে]
লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
E-mail : selimcpb@yahoo.com