বগুড়ায় খালেদা জিয়ার দুটি আসনে প্রার্থী মাহবুব, মিলটন ও বাদশা !

হাইকোর্টের এক আদেশে দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ আটকে যাওয়ায় বগুড়া-৬ সদর ও বগুড়া-৭ গাবতলী-শাজাহানপুর আসনে কে প্রার্থী হচ্ছেন তা নিয়ে শুরু হয়েছে সর্বত্র আলোচনা।

বিকল্প প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়নের চিঠি পাওয়া বগুড়া-৬ সদর থেকে বগুড়া পৌরসভার মেয়র অ্যাড.একেএম মাহবুবর রহমান, সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা প্রার্থিতার তালিকায় রয়েছেন। অপরদিকে খালেদা জিয়ার বগুড়ার-৭ আসনে গাবতলী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ মিলটন প্রার্থী হচ্ছেন বলে দলীয় সূত্র থেকে প্রচার করা হয়েছে।

বগুড়া-৬ সদর আসনে খালেদা জিয়াকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল গত সোমবার। তিনি কারাগারে থাকায় তার পক্ষ থেকে জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলামের হাতে দলীয় মনোনয়ন তুলে দিয়েছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কোনো কারণে খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে না পারলে বিকল্প হিসেবে বগুড়া পৌরসভার মেয়র অ্যাড.এ কে এম মাহবুবর রহমান ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বাদশাকেও মনোনয়নের চিঠি দেওয়া ছিল।

বগুড়া-৭ গাবতলী ও শাজাহানপুর আসনে ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ দফা সাংসদ নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া। এবারও তাকে এ আসনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তার পক্ষে উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু এ মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন। বিকল্প প্রার্থী হিসেবে এই আসনে চিঠি দেওয়া হয়েছিল গাবতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ মিলটন ও আমিনুর রহমান মাস্টারকে।

২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২ লাখ ৩২ হাজার ৭৬১ ভোট পেয়েছিলেন খালেদা জিয়া। তার নিকটতম মহাজোটের (জাতীয় পার্টি) প্রার্থী মোহাম্মদ আলতাফ আলী লাঙ্গল প্রতীকে ভোট পান ৯২ হাজার ৮৩৩।

খালেদা জিয়ার এই দুটি আসনে আগে থেকেই বিকল্প প্রার্থী প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। এই দুই আসনে দলীয়ভাবে চারজন প্রার্থীর হাতে বিএনপির মহাসচিব চিঠি তুলে দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার বিকেলে যখন খবর আসে খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না তখন থেকে সর্বত্র আলোচনা বগুড়া সদর আসন থেকে কে প্রার্থী হচ্ছেন। বগুড়ায় খালেদা জিয়ার আসনে নির্বাচন করার জন্য আগে থেকেই নাম শোনা গেছে পৌর মেয়র মাহবুবর রহমান, সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা ও জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলামের নাম। শেষ পর্যন্ত উপরের দু’জনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এই প্রথম খালেদা জিয়া ছাড়া এ দুটি আসনে অন্য কেউ প্রার্থী হচ্ছেন।

বগুড়া পৌর মেয়র অ্যাড. একেএম মাহবুবর রহমান ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, দলের চেয়ারপার্সন নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে তারা প্রার্থী হবেন এ কথা ভেবেই দল থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারা দু’জনই গতকাল বুধবার মনোনয়নপত্র উত্তোলন করবেন। তারপর দল থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে তাই মেনে নেওয়া হবে। বগুড়া-৭ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী মোরশেদ মিলটন বলেন, দল যদি মনে করে দলের চেয়ারপার্সনের আসনে ভোট করতে হবে তাহলে অবশ্যই নির্বাচন করবো।