বিশ্বকাপ শুরু করছেন জিয়া-সোহাগ?

সুপার টেনের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ যে পরিবর্তিত একাদশ নিয়ে খেলতে নামবে, সেটা অনুমান করতে বিশেষজ্ঞ লাগে না। রুবেল হোসেন ইনজুরিতে ছিটকে গেছেন। ফলে তার বদলে কারো দলে ঢোকার পরিবর্তনটা তো অপরিহার্য। তবে পরিবর্তন এটুকুতেই শুধু সীমাবদ্ধ থাকছে না। গতকাল সংবাদ সম্মেলনেই মুশফিকুর রহিম বলে দিলেন, এই ম্যাচে সোহাগ গাজী ও জিয়াউর রহমানের খেলা এক রকম নিশ্চিত। এর বাইরে জোর গুঞ্জন, দলে ঢুকতে পারেন মুমিনুল হক ও সামসুর রহমানও। এর বাইরে শঙ্কা আছে মাশরাফিকে নিয়েও। গতকাল পর্যন্তও মাশরাফি পুরো ফিট না হলেও তাকে খেলানোরই পক্ষে টিম ম্যানেজমেন্ট। মাশরাফি নিতান্ত খেলতে না পারলে বাংলাদেশ এক পেসার ও এক পেস বোলিং অলরাউন্ডার নিয়েই খেলার সম্ভাবনা বেশি। সোহাগ গাজীর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, বিশেষ করে গেইলের বিপক্ষে যে ইতিহাস তাতে তাকে অস্বীকার করাটা খুব কঠিনই হবে। আর জিয়াউর রহমান যে ফরহাদ রেজার চেয়ে পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে বেশি কার্যকর হবেন, সেটাও বোঝা কঠিন নয়। এই দুই কথা মাথায় রেখে একটু প্রথা ভেঙেই মুশফিক বলে দিলেন, ‘জিয়া ভাই এসেছেন; ওনার ব্যাটিং-বোলিং দুটোই কাজে লাগবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সোহাগের ভালো মেমোরি আছে। গেইলের বিপক্ষে তো ভালোই রেকর্ড আছে। উইকেটে একটু সহায়তা থাকলে, গাজীর খেলার সম্ভাবনা অনেক বেশি। জিয়া ভাইও খেলতে পারেন। লোয়ার অর্ডারে একজন বিগ হিটার বা ফিনিশার প্রয়োজন, সেদিক থেকে সব ঠিক থাকলে হয়তো দুজনই খেলতে পারেন।’ সমস্যা হল মাশরাফি খেলতে পারবেন কি না, সেটা নিশ্চিত নয়। তবে মুশফিক আশা ছাড়তে রাজী নন, ‘আমাদের আর অপশন নাই। মাশরাফি ভাইয়ের অবস্থাটা উনি ছাড়া আর কেউ বুঝতে পারে না। উনি তো পাঁচ-দশ শতাংশ ফিট থাকলেও খেলার জন্য প্রস্তুত থাকবেন। আশা করবো যতটুকু ড্যামেজ না করে উনি খেলতে পারেন বা সহ্য করে যদি খেলতে পারেন উনি খেলবেন। আমাদের আর কোনো অপশন নেই।’ সে ক্ষেত্রে ব্যাপারটা দাঁড়ালো, ফরহাদের বদলে জিয়া এবং সর্বশেষ ম্যাচের রুবেলের বদলে মাশরাফির ফেরা। এখন সোহাগকে জায়গা দিতে কে বাদ পড়বেন? মাশরাফি খেলতে না পারলে আর কাউকে বাদ না দিয়েই সোহাগকে নেয়া হবে। আর মাশরাফি খেললে কপাল পুড়বে রাজ্জাকের। তার বদলে সোহাগ ঢুকবেন। এদিকে নাসির হোসেনকে বদলে সামসুর রহমান এবং সাব্বির রহমানকে বদলে মুমিনুলের ঢোকার সম্ভাবনা শোনা যাচ্ছে। যদিও দলীয় সূত্র বলছে নাসির ও সাব্বির দু’জনই থাকবেন। তবে মাশরাফি না খেলতে পারলে মুমিনুল ঢুকতে পারেন রাজ্জাকের বদলে! শুনতে অদ্ভুত শোনালেও মুমিনুলকে সে ক্ষেত্রে একটু নিচের দিকে এনে তার স্পিনটা বেশি ব্যবহারের চিন্তা থাকবে। তখন পেস বোলিং সামলাবেন আল আমিন ও জিয়া। আর স্পিনের সাকিব, সোহাগের পাশাপাশি রিয়াদ, মুমিনুল, সাব্বির থাকবেন ভরসা।