বিচারকের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহিদ হোসেন (অব.)
প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০১৪, ২১:৫০
সমাজ, সংসার ও রাষ্ট্রের নিকট থেকে ন্যায় বিচার বঞ্চিত হয়ে মানুষ প্রাকৃতিক বিচারের প্রত্যাশায় অপেক্ষা করতে থাকে। তবে সেই প্রত্যাশা পূর্ণ হবার কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। অথচ একজন স্বাধীন, সার্বভৌম, নীতিবান, নিরপেক্ষ বিচারকের নিকট থেকে ন্যায় বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস থাকার কথা। কিন্তু এর অন্যথা হলে একজন বিচারক ইচ্ছা করলেও সকল ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ, ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে পারেন না। তাই যে কোন সমাজেই বিচারকগণের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একজন সাহসী, বিচক্ষণ বিচারকের পক্ষেই রাষ্ট্র ও সরকারের নিকট থেকে সেই স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা অর্জন করে নেয়া সম্ভব। তবে অনিয়ন্ত্রিত, অবাধ স্বাধীনতা ক্ষেত্র বিশেষে বিচার ব্যবস্থাকে স্বেচ্ছাচারিতা ও অনৈতিক পথে ঠেলে দিতে পারে।
সভ্যতার বিবর্তনে যখন থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হতে শুরু করে তখন সম্রাট বা শাসকরাই ছিলেন তাদের সাম্র্রাজ্যের প্রধান বিচারক। সেসময়ে সম্রাটগণ নিজেরাই সাম্র্রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান, সর্বোচ্চ ধর্মগুরু, প্রধান সেনাপতি, আইনের উত্স ও বিচারপতি ইত্যাদি সকল পদেই নিজেদের কর্তৃত্ব অক্ষুণ্ন রাখতেন। অর্থাত্ সম্র্রাট নিজেই ছিলেন সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী। প্রাচীন রোমান সম্রাটরাও তাই করতেন। এদের সবাই ছিলেন স্বৈরশাসক। তখন সৈনিকরা রাজার নামেই শপথ গ্রহণ করতো। কালের বিবর্তনে একটু একটু করে ক্ষমতার বিভাজন ও বিকেন্দ্রীকরণ শুরু হয়। তবে কোন কালেই কোন শাসক স্বেচ্ছায় বিচারকদের হাতে কর্তৃত্ব ছেড়ে দিতে রাজি হয়নি। সমাজে শান্তি-শৃংখলা, আইনের শাসন ও গণতন্ত্র নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও সার্বভৌম বিচার ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। প্রাকৃতিক নিয়মে প্রাচীন কাল থেকে ‘মাইট ইজ রাইট’ ছিল বিচারের মাপকাঠি। যুগের পর যুগ দুষ্টের হাতে শিষ্ট এবং সবলের হাতে দুর্বলরা অবহেলিত, বঞ্চিত, নির্যাতিত, নিগৃহীত ও শোষিত হতে হতে একটু একটু করে দীর্ঘ পথ পরিক্রম করে আজ মানুষ নীতি, আদর্শ, বিচার, মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার, ইত্যাদির কাছাকাছি আসতে পেরেছে। আজ হয়তো আক্ষরিক অর্থে মাত্স্যন্যায় কিংবা প্রকট সামাজিক অবিচার আমাদের চোখে পড়ে না। কিন্তু বিশ্বের অনেক স্থানে এখনো মানুষ সুবিচার বা ন্যায় বিচার পায় না। অথচ, মানুষের অভিযোগের ভিত্তিতে সুবিচার নিশ্চিত করা যেকোন রাষ্ট্রের জন্য একটি পবিত্র দায়িত্ব। আধুনিক রাষ্ট্রের সংবিধানের মধ্যেই বিচার বিভাগের বিস্তারিত বর্ণনা লিপিবদ্ধ থাকে। কারা বিচারক হতে পারবেন এবং কিভাবে বিচারক নিয়োজিত হবেন তা সেখানে উল্লেখ রয়েছে। তার পরেও দেশে দেশে সংবিধান লঙ্ঘিত হয়। বিচারের নিরপেক্ষতা হরণ করে সেখানে হস্তক্ষেপ করা হয়। এমন কি বিচারকের নিয়োগ প্রক্রিয়াতেই প্রভাব বিস্তার করা হয়। স্বাভাবিক কারণেই কোন আইন প্রণেতা বা প্রভাবশালী আমলার কৃপাভাজন হয়ে কেউ বিচারক নির্বাচিত হলে তার নৈতিক শক্তি বা মেরুদণ্ড দুর্বল হয়ে যায়। বিশ্বের যেখানেই ন্যায় বিচার বিঘ্নিত হচ্ছে সেখানেই দেখা যায় বিচারকরা কোন না কোনভাবে প্রভাবিত হয়েছেন অথবা প্রভাবশালীরা বিচারকের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেছেন।
প্রাচীন গ্রিক ও রোমানদের পরেই ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস (wales) এর বিচার ব্যবস্থাকে আমরা বিভিন্ন সময়ে উল্লেখ করে থাকি। ব্রিটিশ বিচার ব্যবস্থা এখনো সামাজিক বাস্তবতার নিরিখে বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করে পরিবর্তনের মাঝ দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। মাত্র দ্বাদশ শতকে এসে তাদের বিচারপতিগণ রাজতন্ত্র ও প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত হতে শুরু করে। এ্যাংলো স্যাকসন যুগে (৫৫০-১০৬৫), এমনকি নরমান অভিযানের পরেও (১০৬৬) বিচার ব্যবস্থা স্থানীয় ও রাজকীয় সরকারের সমন্বয়ে পরিচালিত হতো। একজন লর্ড অথবা তার মনোনীত কোন স্টুয়ার্ড স্থানীয় কোর্ট পরিচালনা করতেন এবং প্রথম দিকে রাজা স্বয়ং নিজেই ‘কিংস কোর্ট ’(Curia Regis) পরিচালনা করতেন। বৃটেনে আধুনিক বিচার ব্যবস্থার সূচনা হয় হেনরি-২ (১১৫৪-১১৮৯) এর হাতে। তিনি ১২ জন নাইটের সমন্বয়ে একটি জুরি গঠন করেছিলেন। ১৩ শতকে ধর্মযাজকরা বিচারক হিসাবে যোগ দিতে শুরু করেন। ফলে কিছুদিনের মধ্যেই দেখা গেল গীর্জাসমূহের সম্পদের পরিমাণ রাজার সম্পদের চেয়ে বেশি হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষিত সমাজ তখন যাজক হওয়াকে তাদের সাংসারিক আয় উন্নতির জন্য গ্রহণযোগ্য পেশা হিসাবে বিবেচনা করতে শুরু করে। তখন থেকে ইংল্যান্ডে পেশাগত জ্ঞানসম্পন্ন বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়। যারা বিভিন্ন সাধারণ কোর্টে উকিল হিসাবে কাজ করতেন তাদেরকে ‘সার্জেন্ট-এ্যাট-ল’ বলা হতো। এরাই বর্তমানে এডভোকেট হিসাবে পরিচিত এবং তাদের মাঝ থেকে এখনো বিচারক নিয়োগ দেয়া হয়।
১৩৪৬ সালে জজদের জন্য বাধ্যতামূলক শপথ গ্রহণের প্রচলন করা হয়। বাদী কিংবা বিবাদী কোন পক্ষ থেকে বিচারকদের উপহার বা প্রতিদান গ্রহণ এবং কোনরূপ পরামর্শ প্রদান নিষিদ্ধ করা হয়। বিচারকদের যাতে বিকল্প আয়ের উত্স খুঁজতে না হয় সেজন্য তাদের বেতনও বাড়ানো হয়। কিন্তু তাতেও দুর্নীতি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। ১৩৫০ সালে ‘কিংস বেঞ্চ’ এর প্রধান বিচারপতি উইলিয়াম ডি থর্প (William de Thorpe ) ঘুষের টাকায় বিশাল সম্পদ গড়ে তোলার দায়ে অভিযুক্ত হলে তাকে কারাবন্দী করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। যদিও পরে তাকে ক্ষমা করে পদাবনতি করা হয়েছিল।
আজকের বৃটেনে একটি আধুনিক বিচার ব্যবস্থা দাঁড় করানো গেলেও এখনো পর্যন্ত বলা যাবে না যে, তা সরকার থেকে সম্পূর্ণ পৃথক হয়েছে। সেই তুলনায় আমাদের দেশের অবস্থা একেবারে খারাপ নয়। তবে, মোটামুটিভাবে অধিকাংশ দেশেই শাসক দল এখনো বিচার বিভাগের উপর নিজেদের সূক্ষ্মনিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায়। বৃটেনে ২০০৬ সালের ৩ এপ্রিল লর্ড চিফ জাস্টিসকে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস এর সকল কোর্টের সভাপতি এবং বিচার বিভাগের প্রধান করা হয়। ইতিপূর্বে এই দায়িত্বটি পালন করতেন লর্ড চ্যান্সেলর। এটি একটি বড় ধরনের পরিবর্তন। কারণ, বৃটেনে একহাজার বছরের ইতিহাসে এই প্রথম বিচার বিভাগ সরকারের একটি স্বতন্ত্র শাখা হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে। সুতরাং এক্ষেত্রে আমরা বেশ পিছিয়ে রয়েছি একথা বলা যাবে না।
বর্তমান বিশ্বে বিচার বিভাগে একটি উল্লেখযোগ্য সমস্যা হলো বিচারক নির্বাচন প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি। এই পদ্ধতির মাধ্যমে সরকারের প্রতি অনুগত ও সহানুভূতিশীল ব্যক্তিদের পক্ষে বিচারক পদে নিয়োগ পাওয়া সহজতর। তবে কোন দেশে মনোনয়ন, কোন দেশে নির্বাচন, অথবা কোন দেশে প্রধান বিচারপতির উপর বিচারক নিয়োগের দায়িত্ব ছেড়ে দিলেও সরকারগুলো এবিষয়ে স্বস্তিবোধ করছে বলে মনে হয় না। মনে রাখা দরকার একজন বিচারক যতই জ্ঞানী ও অভিজ্ঞ হোন না কেন, দলীয় সম্পৃক্ততার কারণে নিরপেক্ষতা ভঙ্গ করার সাথে সাথেই তার আদর্শের মৃত্যু ঘটে। তাছাড়া পরাধীন, পরনির্ভর ও দুর্বলচিত্ত ব্যক্তির পক্ষে নিরপেক্ষ থাকা বেশ কঠিন কাজ। কারণ, প্রাণীমাত্রই অস্তিত্বের সংগ্রামে লিপ্ত। পরিবার পরিজন, সামাজ, সংসার, ইত্যাদির বিবেচনায় একজন বিচারক তার সুযোগ-সুবিধা, বেতন, পদোন্নতি, মান-মর্যাদা, ইত্যাদির প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করতে পারেন না। অন্যপক্ষে রাজনৈতিক দল এবং সরকারগুলো চায় তাদের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত অথবা পদোন্নতিপ্রাপ্ত বিচারকরা তাদের স্বার্থ রক্ষা করেই চাকুরি করবেন। এই ধরনের পরিস্থিতি একটি নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিরাট অন্তরায়। তাই, এমন সম্মানিত ব্যক্তিদেরই বিচারক হওয়া উচিত যাদের জীবনে অস্তিত্বের সংকট প্রকট নয় এবং যারা নির্ভয়ে সত্য উচ্চারণ করার ক্ষমতা রাখেন। বর্তমানে কোথাও কোথাও সত্য মিথ্যা একাকার হয়ে যাচ্ছে। মিথ্যা না বলার শপথ নিয়েও মানুষ অবলীলায় মিথ্যাচার করছে। যারা ঘুষ নিচ্ছেন তারা ঘুষের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। যে শিক্ষক, উপাচার্য দলীয় রাজনীতিতে আকষ্ঠ নিমজ্জিত হয়ে আছেন তাকেই দেখা যায় রাজনীতি ও দলীয়করণের বিপক্ষে কথা বলতে। অর্থাত্, নীতি-নীতিহীনতা, সত্য-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায়, বৈধ-অবৈধ, হারাম-হালাল ইত্যাদির মাঝে আমরা প্রতিনিয়ত গুলিয়ে ফেলছি। ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠীস্বার্থ এবং রাজনীতির ঘূর্ণাবর্তে পড়ে আমরা বুদ্ধিহীন, স্বার্থপর, অমানবিক এবং দিশেহারা হয়ে পড়ছি।
এখানে ইলিয়াসশাহী বংশের সুলতান গিয়াসুদ্দীন আজম শাহের সেই বিখ্যাত গল্পটি উল্লেখ করা যেতে পারে ঃ একদিন সুলতান তীর ছোঁড়ার সময়ে আকস্মিকভাবে এক বিধবার পুত্রকে আঘাত করেন। বিধবা এসে কাজী সিরাজুদ্দীনের আদালতে এর প্রতিকার প্রার্থনা করলেন। কাজী চিন্তিত হলেন। একদিকে রাজা অন্যদিকে আল্লাহ। শেষপর্যন্ত তিনি সমন জারি করলেন। সমন পেয়ে সুলতান কাজির দরবারে রওয়ানা দিলেন। যাবার সময়ে বগলের নীচে একটি ছোট তরবারি লুকিয়ে রাখলেন। কাজী তার আসনে বসে রইলেন। রাজাকে কোন অভ্যর্থনা বা সম্মান প্রদর্শনে উঠে দাঁড়ালেন না। দরবারে বৃদ্ধার অভিযোগ শোনার পর কাজী রাজাকে বললেন, মহাশয়, এই বৃদ্ধাকে শান্ত করুন। রাজা বৃদ্ধাকে মা ডেকে প্রচুর অর্থ দিয়ে শান্ত করলেন। রাজার সামনেই কাজী পুনরায় বৃদ্ধাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, হ্যাঁ আমি উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পেয়ে সন্তুষ্ট হয়েছি। কাজী সানন্দে উঠে দাঁড়ালেন এবং শ্রদ্ধার সাথে সুলতানকে মসনদে বসতে বললেন। রাজা বগল থেকে তলোয়ারখানা বের করে বললেন, আমি আইনের বিধান পালনে বাধ্য বলে এখানে যথাসময়ে হাজির হয়েছি। আজ যদি আইনের বিধান থেকে আপনাকে একচুল বিচ্যুত হতে দেখতাম তাহলে এই তলোয়ার দিয়ে আপনার মাথা কেটে ফেলতাম। আল্লাহর কাছে শোকরিয়া, সবকিছু ঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে কাজী তার মসনদের তলা থেকে বেতখানা বের করে বললেন, হুজুর যদি আজ আপনাকে আমি আইনের সামান্যতম লঙ্ঘন করতে দেখতাম- তাহলে আল্লাহর কসম এই বেত আমি অন্যান্য আইন অমান্যকারীদের মতোই আপনার পিঠে চালিয়ে দিতাম। যাক্ একটি বিপদ এসেছিল, কিন্তু তা ভালয় ভালয় কেটে গেছে। রাজা খুশী হয়ে কাজীর জন্য অনেক উপহার ও পারিতোষিক ঘোষণা দিয়ে ফিরে গেলেন।
আজকের বিশ্বে কোথাও সুলতানের তরবারি ও বিচারকের বেত্র সঞ্চালনের মতো পরিবেশ নেই। তবে যুগে যুগে কাজী সিরাজুদ্দীনের মতো সত্, ন্যায়পরায়ণ, স্বাধীনচেতা, নীতিবান, সাহসী ও বুকের পাটাওয়ালা বিচারকরাই পারেন নিরপেক্ষ রায় প্রদান করতে। একজন বিচারকের জন্য নিরপেক্ষ, নির্লিপ্ত ও নির্মোহ থাকার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হলো স্বাধীনতা। ব্যক্তি স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা না থাকলে একজন বিচারকের পক্ষে প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ রায় প্রদান করা কষ্টকর। সম্মানিত বিচারকদের জন্য সেই স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা রাষ্ট্রকেই নিশ্চিত করতে হবে এবং স্বয়ং বিচারকগণকেই সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় অবিচল যোদ্ধার ভূমিকায় এগিয়ে আসতে হবে। কারণ, একটি কল্যাণধর্মী রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।
লেখক :সাবেক সেনা কর্মকর্তা