যদি বাংলাদেশের জন্ম না হতো
প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০১৪, ২১:৫০
বাংলাদেশ নামক একটি রাষ্ট্রের অভ্যুদয় আমাদের জাতীয় জীবনে সূচনা করেছিল অন্য এক নতুন দিগন্ত। যারা পাকিস্তানের সেই নির্মম নির্যাতন-অত্যাচার স্বচক্ষে অবলোকন করেনি তারা অনুভব করতে পারবে না কী বিভীষিকাময় জীবন ছিল বাঙালির। সেই বিষাদপূর্ণ জীবন থেকে নতুন এক আনন্দময় জীবনের উন্মেষ ঘটেছিল ১৯৭১ সালে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি হয়ে উঠেছিল স্বাধীনতার প্রথম সোপান। এভাবেই বাংলাদেশ আর বঙ্গবন্ধু নাম দুটি একীভূত হয়ে গেছে। এখন আমরা যে স্বপ্নের কথা বলি, যে আনন্দের কথা বলি, যে জীবন ও জয়গানের কথা বলি তা সম্ভব হতো না যদি বাংলাদেশের জন্ম না হতো।
স্বাধীনতা আমাদের অহংকার, আমাদের অস্তিত্ব। এই অস্তিত্বকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য তার শিকড়ে প্রতিনিয়ত পানির প্রক্ষালন জরুরি। জরুরি এই কাজটি করা আমাদের সকলেরই নৈতিক দায়িত্ব। পূর্বসূরি যেভাবে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য প্রাণপণ লড়ে গেছেন এবং কেউ কেউ এখনো লড়ছেন, ঠিক একইভাবে নতুন প্রজন্মকেও ভূমিকা নিতে হবে। আজকের তরুণদের স্বপ্ন আরো গভীর, আরো প্রগতিশীল, আরো অধিক বোধ ও মেধাসম্পন্ন। সুতরাং এই তরুণরা আরো ভালোভাবেই অস্তিত্বের শিকড় তরতাজা রাখতে সক্ষম হবে বলে বিশ্বাস। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে তাদের হাতের মুঠোয় বিশ্ব, চোখের আয়নায় বিশ্বব্রহ্মাণ্ড। ফলে জগতের সবকিছুর সঙ্গে তারা পরিচিত। কীভাবে একটি দেশকে সুন্দর করে গড়ে তোলা যায় সেটাও তাদের অজানা নেই। বাংলাদেশ যখন ক্রিকেট খেলায় অন্য একটি দেশকে হারায় তখন সব তরুণের চোখে-মুখে প্রত্যাশার আলো ঝলমল করে ওঠে। চাঁদ সূর্য কী নক্ষত্রের আলোও সেই আলোর কাছে গৌণ হয়ে যায়। অথচ এই তরুণরাই যখন দেখে রাজনৈতিক দলের কোন্দলে অস্ত্রবাজি-বোমাবাজি, যখন দেখে নির্বাচনি সহিংসতা, যখন দেখে হরতাল-অবরোধ-অগ্নিসংযোগ তখন তাদের চোখে-মুখে দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে অন্য এক আগুন। এই আগুনের ভয়াবহতা অনেকেই অনুভব করতে পারে না, আর অনুভব করতে পারে না বলেই নির্দ্বিধায় এইসব অপকর্ম করে যাচ্ছে কিছু লোক।
নতুন প্রজন্ম ধ্বংসাত্মক বা হিংসাত্মক কোনো কর্মকাণ্ডকেই প্রশ্রয় দেয় না। তাদের ভাবনাটা বড় বেশি দেশাত্মক। আমরা একটি জাতি বাঙালি, আমাদের একটি দেশ বাংলাদেশ, আমাদের একটি স্বাধীনতাদিবস, একটি বিজয়দিবস, একটি একুশে ফেব্রুয়ারি— এরকম একটি একটি করে অনেক অর্জন আমাদের। এসব অর্জন বিসর্জন দেওয়ার অপচেষ্টায় যারা লিপ্ত, তাদেরকে কোনোভাবেই ক্ষমা করা যায় না। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরেও আমরা কেন একাত্ম হতে পারলাম না? এখনো কেন স্বাধীনতা-বিরোধীদের দৌরাত্ম্য অব্যাহত থাকলো? প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠে তরুণসমাজ, আত্মবিশ্বাসে বেড়ে ওঠার এ অদম্য স্পৃহা দেখে প্রাণ জুড়ায়। তারাই তো আগামীতে এই রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, তারাই সকল অনিয়ম-বিশৃংখলা ভেঙে ফেলবে, তারাই এগিয়ে যাবে প্রত্যয়ের পথে— সমুন্নত রাখবে কষ্টার্জিত স্বাধীনতা। আজ মহান স্বাধীনতাদিবসে দেশের সকল তরুণ এই প্রত্যয় ব্যক্ত করতেই পারে।
ঢাকা