নাসিরের প্রথম বাদ পড়া

এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০১১ সালের ১৪ অক্টোবর এই ঢাকাতেই টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয়েছিল। তারপর থেকে বাংলাদেশের খেলা ২০টি টি-টোয়েন্টি দলেরই অংশ ছিলেন তিনি। শুধু টি-টোয়েন্টি কেন? ২০১১ সালের আগস্ট মাসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার পর আসলে কখনোই একাদশের বাইরে থাকতে হয়নি নাসির হোসেনকে। গতকালই প্রথম স্বাদটা পেলেন বাদ পড়ার। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মুদ্রার উল্টো পিঠটাও এবার দেখে ফেলা নাসির প্রথম বারের মতো একাদশের বাইরে চলে গেলেন। একইরকম আব্দুর রাজ্জাক প্রায় তিন বছর পর ছোট ফরম্যাটের খেলায় ‘বাদ পড়া’র স্বাদ উপহার পেলেন। অধুনা ফর্ম মাথায় রেখে নাসির বা রাজ্জাকের বাদ পড়ায় খুব বিস্মিত হওয়ার কিছু না থাকলেও দীর্ঘদিন পর এই দু জনকে ছাড়া বাংলাদেশের খেলতে নামাটা একটু অন্যরকম অনুভূতি বৈকী। অবশ্য বাংলাদেশ কালকে এই দুটি নয়, আসলে চারটি পরিবর্তন নিয়ে খেলতে নেমেছিল। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে একই টুর্নামেন্টের মধ্যে একাদশে চারটি পরিবর্তন করার নজির এর আগে আছে কি না, তাও ভাবতে গলদঘর্ম হতে পারেন অনেকে। হংকংয়ের বিপক্ষে খেলা একাদশ থেকে গতকালকের একাদশে ঠাঁই হল না রাজ্জাক, নাসির, ফরহাদ রেজা এবং রুবেল হোসেন। তাদের জায়গায় দলে অনুমিত ভাবেই ঢুকলেন সোহাগ গাজী, জিয়াউর রহমান, মুমিনুল হক ও মাশরাফি বিন মুর্তজা। প্রথমে বাদ পড়াদের নিয়ে আলাপ করা যাক। এর মধ্যে রুবেল হোসেনের একাদশের বাইরে যাওয়ার বিকল্প ছিল না। হংকংয়ের বিপক্ষে প্রায় অসম্ভব এক ক্যাচ ধরতে গিয়ে ডান হাতের আঙুল ভেঙে স্কোয়াডেরই বাইরে চলে গেছেন রুবেল। ফলে তার বাদ পড়াটা আলোচ্য নয়। আলোচ্য নয় খুব একটা ফরহাদ রেজার বাদ পড়াও। ফরহাদ রেজার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনটা যাচ্ছেতাই-ই হয়েছে। প্রথম পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে তাকে সেভাবে প্রয়োজন না হলেও হংকংয়ের বিপক্ষে ব্যাটে-বলে দারুণ হতাশ করেছেন এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। বিশেষ করে রান-বলের সমীকরণ কাছাকাছি থাকা অবস্থায় তার বোলিংয়ের একরকম হাতছাড়া হয়েছে ম্যাচ। ফলে পরিষ্কার পারফরম্যান্সজনিত কারণেই বাদ পড়েছেন তিনি। রাজ্জাক ও নাসিরের ব্যাপারটাও পারফরম্যান্স জনিত। রাজ্জাক টেস্টে কখনোই সেভাবে জ্বলে উঠতে না পারলেও ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সেরা বোলার। কিন্তু এশিয়া কাপ থেকেই বড় নিষ্প্রভ হয়ে ছিলেন এই বাহাতি স্পিনার। যেন নিজের ছায়া হয়ে বল করছিলেন মাঠে। ফলে অনেক কষ্টের হলেও সিদ্ধান্তটা বাংলাদেশ দল নিতে বাধ্য হয়েছে। নাসিরের ব্যাপারটাও একইরকম কষ্টের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আবির্ভাবের পর থেকে ধারাবাহিক ফর্ম এবং ম্যাচ জেতানোয় বিশেষ দক্ষতা দেখিয়ে নজর কেড়েছিলেন নাসির। কিন্তু নাসিরও এশিয়া কাপ থেকে একেবারেই ছন্দে নেই। রান না পাওয়ার চেয়েও তার ফর্মহীনতার বেশি প্রভাব পড়ছিলো উইকেটে থাকার ভঙ্গিতে। শেষ পর্যন্ত তাকেও তাই প্রথম বাদ পড়ার স্বাদ পেতে হল ৬৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ফেলার পর। এই বাদ পড়াতে কপাল খুলেছে ফর্মে থেকেও স্রেফ টিম কম্বিনেশনের জন্য বাইরে বসে থাকা মুমিনুল হকের। যদিও মুমিনুলকে সেভাবে এই ছোট ফরম্যাটের ব্যাটসম্যান মনে করা হয় না। কিন্তু তার মারাত্মক ফর্মটা যে কাজে লাগবে, তাতে সন্দেহ নেই। একইরকম ফর্মে থাকা জিয়াউর রহমান দলে এসেছেন রুবেলের ইনজুরিতে এবং গতকালই সুযোগ পেয়ে গেছেন। সুযোগ পেয়েছেন সোহাগ গাজীও। আর মাশরাফির দলে আসাটাকে ফেরা বলাই ভালো। ইনজুরির কারণে সর্বশেষ ম্যাচে একাদশে ছিলেন না। পাজরে ব্যথা পাওয়া মাশরাফি গতকালও খেলতে পারবেন কি না, নিশ্চিত ছিল না। শেষ পর্যন্ত মাশরাফি তো মাশরাফিই। ব্যথা আর ইনজুরিকে পেছনে ফেলে ঠিকই মাঠে নেমে পড়লেন।