বাংলাদেশের মেয়েদের বিশ্বকাপ শুরু আজ
প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০১৪, ২৩:১২
বাংলাদেশের মেয়েরা আজ বুধবার মহিলা ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি ওয়েস্ট ইন্ডিজের মোকাবেলার মধ্য দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে। কাগজে-কলমে ক্যারিবীয়দের ধারে কাছেও না থাকা বাংলাদেশ এই প্রথম সংক্ষিপ্ত ঘরানার ক্রিকেটের বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে। অপরদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপে খেলছে প্রথম থেকেই। সিলেট বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিকেল সাড়ে তিনটায় শুরু হবে খেলাটি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছেলেদের বিভাগে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের শিরোপাধারী হলেও তাদের শুরুটা অবশ্য ভাল হয়নি। ভারতীয়দের কাছে ক্রিস গেইল, স্যামুয়েলস, ব্র্যাভোদের ব্যাটিং ব্যর্থতা প্রথম ম্যাচে দাঁড়াতেই দেয়নি ক্যারিবীয়ানদের। কিন্তু বাংলাদেশে আসার পর থেকে একের পর এক সাফল্যে ক্যারিবীয় মেয়েরা রয়েছে দারুণ উজ্জীবিত। অনুশীলন ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে ধরাশায়ী করার পর ইংল্যান্ডকে ৯ রানে হারিয়ে মূল পর্বেও দারুণ সূচনা করেছে ম্যারিসা আগুইলেইরার দল।
স্বাগতিকদের অবশ্য এরপরও সমীহের দৃষ্টিতেই দেখছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক ম্যারিসা। গতকাল অনুশীলন পর্ব শেষে এ উইকেট কিপার কাম ব্যাটসম্যান বলেছেন, ‘সব ম্যাচকেই আমরা সমান গুরুত্ব দিচ্ছি। বাংলাদেশ নিজেদের মাঠে খেলবে। স্বাগতিক সুবিধার পাশাপাশি তাদের কেন্দ্র করে অনেক সমর্থক থাকবে। আমরা কিন্তু এমন দলকে মোটেও খাটো করে দেখছি না।’
আগুইলেইরা বাংলাদেশকে সমীহের চোখে দেখলেও বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। বিশ্বকাপের আগে পাকিস্তানের কাছে ২-০ ও ভারতের কাছে ৩-০ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারের পর দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ নিতে হয়েছে সালমা খাতুনের দলের। বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে উন্নতির ছাপ থাকলেও ব্যাটিংটাই আসল দুশ্চিন্তার কারণ স্বাগতিকদের। গতকাল সকালে জেলা স্টেডিয়ামে প্রস্তুতি পর্ব শেষে অধিনায়ক সালমা খাতুনও সে কথা অকপটেই স্বীকার করেছেন। বাংলাদেশ দলের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আমরা মোটেও ভাল ব্যাটিং করতে পারিনি। যার কারণ হতে পারে কক্সবাজার ও বিকেএসপির উইকেট যা বোলারদের জন্য সহায়ক। সিলেটের উইকেট কিন্তু ব্যাটিংয়ের জন্য চমত্কার। আশা করছি আমরা বড় ইনিংস গড়তে পারব।’
সালমার কথায় আশাবাদী হওয়া গেলেও পরিসংখ্যান মোটেও পক্ষে নেই। ১৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১৫ সদস্যের স্কোয়াডে কারোরই কোন ফিফটি নেই। তবে এই ম্যাচগুলোর সবকটিতে অংশ নেয়া সালমা, রুমানা আহমেদ কিংবা লতা মণ্ডলরা নিজেদের মাঠের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে দেশের ক্রিকেটামোদীদের আশার কতটা প্রতিফলন ঘটাতে পারেন সেদিকেই এখন সকলের দৃষ্টি।
প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ বলেই কাজটা যে খুব একটা সহজ নয় তা সহজে অনুমেয়। গত কয়েকটি বিশ্বকাপে দলটির ক্রমোন্নতির ধারা তেমনটাই প্রমাণ করে। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নকআউট পর্বে উঠতে ব্যর্থ হলেও ২০১০ সালে ইংল্যান্ডকে দুই রানে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছিল। সেবার নিউজিল্যান্ডের কাছে পরাজিত হয়ে বিদায় নিতে হয়েছিল ক্যারিবীয় মেয়েদের। ২০১২ সালে তারা নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠলেও অস্ট্রেলিয়ার কাছে পরাজিত হয়। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর এই ঘরানার ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজই সবচেয়ে বেশি (১৭টি)ম্যাচ খেলেছে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের মূল শক্তি হচ্ছে দলের দুই বিশ্বমানের ব্যাটসম্যান ডিনড্রা ডোটিন এবং স্টেফানি টেইলর। তাদের বোলিং আক্রমণও বৈচিত্র্যপূর্ণ এবং অভিজ্ঞ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেইলর ৪৫ বলে ৫৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। অপরদিকে ১২ রানে চার উইকেট দখল করে দলকে দারুণ এক জয় উপহার দেন ডোটিন। বাংলাদেশের কন্ডিশনে তাদের স্পিনার বিশেষ করে আনিসা মোহাম্মদ এবং শাকুয়ানা কুইনাটাইন নিজেদের প্রমাণে মুখিয়ে আছেন। যদিও তারা মাঝে মাঝে বিশেষ পরিস্থিতিতে ডোটিন এবং টেইলরের উপর বেশি ভরসা করে ফেলেন। এর মধ্যে আবার দুই বোন কিশোনা নাইট এবং কিসিয়া নাইট সমপ্রতি নিজেদের প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন বেশ ভালই।
স্কো
য়া
ড
বাংলাদেশ : সালমা খাতুন (অধিনায়ক), জাহানারা আলম, রুমানা আহমেদ, ফারজানা হক, আয়েশা রহমান. লতা মণ্ডল, সানজিদা ইসলাম, নুজহাত তাসনিয়া, খাদিজাতুল কুবরা, সোহেলী আখতার, শামিমা সুলতানা, শায়লা শারমিন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ :ম্যারিসা আগুইলেইরা (অধিনায়ক), শেমানি ক্যাম্বেল, ডিনড্রা ডোটিন, স্টিফেনি টেইলর, স্ট্যাসি-এ্যান কিং, শানেল ডালে, নাতাশা ম্যাকলিন, আনিসা মোহাম্মদ, সাবরিনা মুনরো, শাকেরা সেলমান, ট্রেমানে স্মার্ট, শাকুনা কুইনটাইন।