চাপে আছেন ক্রিকেটাররা!
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০১৪, ২২:০৫
কারো দর্শক বেশি দেখলে চাপ মনে হয়, কারো টেলিভিশনে খেলা দেখালে চাপ মনে হয়। কেউ প্রতিপক্ষের বোলারদের চাপে পড়েন, কেউ আবার প্রত্যাশার চাপে ভোগেন। ক্রিকেটারদের এই ‘চাপ’ নিয়ে এতো কথা শুনে ক্ষেপে গিয়ে কিথ মিলার বলেছিলেন, ‘ক্রিকেট খেলায় আবার কীসের চাপ! আমি আপনাকে বলছি, চাপ কাকে বলে। চাপ হল শরীরের নিচে সত্যিকারের বোমা নিয়ে বসে থাকা’!
সর্বকালের অন্যতম সেরা প্রতিভাধর অলরাউন্ডার মিলার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বোমারু বিমানে বসে থাকার অভিজ্ঞতা থেকে এ কথা বলতেই পারেন। কিন্তু তাতে ক্রিকেটারদের চাপ সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে বলে মনে হয় না। আজও কথায় কথায় চাপে পড়ে যান খেলোয়াড়রা। চাপে পড়ে খেলা ছেড়ে দেয়ারই দু’-চারটে নজির আছে। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্য এই চাপ শব্দটা আরও বিভ্রান্তিকর। সংবাদপত্রের লেখা থেকে শুরু করে বোর্ড কর্মকর্তাদের কথা; সবকিছুতেই তারা চাপ নিয়ে নেন। এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আরেকটি লজ্জার পর দিব্যি মুশফিকুর রহিম সংবাদ সম্মেলনে বললেন, তারা মুক্তভাবে খেলতে পারছেন না। এই মুক্ত হতে না পারার জন্য বোর্ড দায়ী, নাকি অন্য কেউ; সেটা পরিষ্কার করলেন না। তবে বললেন, ‘আমার মনে হয়, প্রধান সমস্যাই হল খেলোয়াড়রা আগের মতো নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারছে না। গত মাস তিনেক ধরে আমরা রেজাল্ট পাচ্ছি না। ফলে এখন দলে জায়গা থাকে কি না, এ নিয়ে অনেকেই চাপে আছে। এরকম চিন্তা নিয়ে নিজের খেলাটা খেলা যায় না। আর টি-টোয়েন্টিতে হল আপনার উইকেটে গিয়েই স্কোর করতে হবে। একদিকে ফর্মের বাইরে থেকে, অন্যদিকে এরকম চিন্তা নিয়ে সেটা করা খুব কঠিন। আমাদের আসলে এই চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে হবে।’
এই চিন্তা থেকে চাইলেই বেরিয়ে আসা যাবে কি না, সেটা খেলোয়াড়রাই ভালো বলতে পারবেন। তবে মুশফিক এখন নিজেদের লক্ষ্যটা কী, সেটা অন্তত বুঝতে পারছেন। শুনতে সেকেলে শোনালেও এখন লক্ষ্য তার পুরো ২০ ওভার খেলা, ‘পরের ম্যাচগুলোতে আমাদের লক্ষ্য থাকবে পুরো ম্যাচ খেলা, যাতে দেখাতে পারি যে, আমাদের খেলায় কিছুটা হলেও উন্নতি আছে। আমাদের ভালো খেলার সামর্থ্য আছে। সে জন্য ব্যাটে-বলে খুব ভালো শুরু দরকার। আর ফিল্ডিংটা তো অবশ্যই ভালো হতে হবে।’
মুশফিক মনে করছেন, তারা একবার আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠলে ভাগ্যও তাদের দিকে ঘুরতে শুরু করবে। কাছে গিয়ে হাতছাড়া হওয়া সাফল্যও ধরা দেবে, ‘গত দুই বছর এই দলটাই ভালো খেলেছে। কিন্তু এখন দলে জায়গা নিয়েই অনেকে একধরনের উদ্বেগের মধ্যে আছে। ভালো খেলছি না সেটাই বড় কথা। যেভাবেই হোক, আত্মবিশ্বাসটা ফিরিয়ে আনতে হবে। আমার বিশ্বাস, সবাই সবার স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারলে ভাগ্যও আমাদের দিকে আসবে।’
তবে সবকিছুর পর মুশফিক একটা ব্যাপার অন্তত বুঝতে পারছেন যে, এতোকিছুর পরও দর্শকদের সমর্থন পাওয়াটা অন্তত ভাগ্যের ব্যাপার। আর কিছু না হোক, সে জন্য হলেও কিছু ফল চান তারা, ‘আমরা ভাগ্যবান যে, তার পরও তারা মাঠে এসে আমাদের সমর্থন দিচ্ছে। কিন্তু গত কয়েক মাসে আমরা যে রকম খেলছি, তাতে তাদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। আশা করি, সামনের ম্যাচগুলোতে ভালো কিছু করতে পারবো।’