বিশ্বকাপের পর পরিবর্তনের ইঙ্গিত

বিশ্বকাপ আর বিপর্যয় শব্দদুটো ইদানিং যেন একাকার হয়ে গেছে। ঘরের মাটিতে সে আয়োজন হলে তো আর কথাই নেই। ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের মতো এবারও ঘরের মাটির বিশ্বকাপে ইতিমধ্যে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ। এ অবস্থায় সাধারণ সমর্থক থেকে ক্রিকেটাররা সবাই খোঁজ করছেন সমাধান—কী হলে মান বাঁচবে? এই সমাধানের খোঁজে ক্রিকেট বোর্ডের টুর্নামেন্ট চলা অবস্থায় বারবার দলের অধিনায়ক ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলাটা উল্টো চাপ হয়ে যায় কি না, সেটা আলাদা তর্ক। তবে কথা তারা বলছেন। আগের দিনই বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন একবার কথা বলেছেন কোচ-অধিনায়কের সঙ্গে। গতকাল জাতীয় সঙ্গীতের পর আরও একবার কথা বললেন। এই কথোপকথনের পর সাংবাদিকদের পাপন যা বললেন, তাতে একটা ব্যাপার অন্তত পরিষ্কার হয়ে গেল—বিশ্বকাপের পর প্রয়োজনে দলে ব্যাপক রদবদলেরও চিন্তা আছে বোর্ডের। দলে এখন যা চলছে, সেভাবে চললে যে ফল আসবে না, এটা একরকম নিশ্চিত হয়েই পাপন বললে, ‘টুর্নামেন্টের পর আমার ধারণা, প্রচুর পরিবর্তন আসবে। যেখানে যেটা করা দরকার আমরা করব। নতুন নতুন খেলোয়াড় আনার ব্যবস্থা করতে হবে। এখন এটা বলে কারও মন খারাপ করতে চাই না। টুর্নামেন্ট চলছে এবং এটাই আশা করতে পারি প্রত্যেকটা খেলোয়াড় ভালো খেলতে পারে, অবশ্যই আমরা ভালো ম্যাচ খেলব।’ এই আশাবাদের বিপরীতে দেশের সবার মতো বোর্ড সভাপতিও যে খুব হতাশ আছেন, গত কয়েকটা ম্যাচের পারফরম্যান্স নিয়ে, সেটা লুকানোর চেষ্টা করলেন না। বিশেষ করে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এশিয়া কাপে এবং হংকং ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই টুর্নামেন্টে হারের ভঙ্গিতে হতাশ তিনি। তবে এই পারফরম্যান্সের কারণ হিসেবে মুশফিক যেটা বলেছেন, তার সঙ্গে একমত হতে পারলেন না পাপন। মুশফিক বলেছেন, খেলোয়াড়রা ‘ফ্রি খেলতে’ পারছেন না। পাপন বলছেন, তিনি অন্তত বাইরে থেকে খেলোয়াড়দের ওপর কোনো চাপই দেখতে পাচ্ছেন না। বিশেষ করে খেলোয়াড়রা যে জায়গা হারানো নিয়ে ভয়ে থাকবেন, এটা তার মনে হয় না, ‘এই কথার আমি কোন কারণ খুঁজে পাই না। আমাদের কাছে কিন্তু ওরকম কোন অপশন নেই। ওপেনিংয়ে খারাপ করলেও আমাকে তো তিনজনের মধ্যেই রাখতে হবে। এনামুল, শুভ আর তামিম। এখানে কি অনিশ্চয়তা দেখছে তারা আমি বুঝি না। আপনি যদি মিডল অর্ডারে যান সাকিব আর মুশফিককে নিয়ে তো কারও কোন কথাই নেই। পেস বোলারদের নিয়েও কথা নেই। স্পিনারদের তো নামাতেই হবে দু’জন। কথা আসতে পারে শুধুমাত্র রিয়াদ এবং নাসির। আপনারা দেখেন নাসিরকে এবছর অনেক সুযোগ দেয়া হয়েছে। খারাপ সময় যেতেই পারে একজনের।’ একই সঙ্গে পাপন বুঝিয়ে দিলেন, তার তরফেও খেলোয়াড়দের ওপর কোনো চাপ নেই, ‘আজকেও ওদের সাথে কথা বলেছি। বলেছি, একটা খারাপ দিন যেতেই পারে। আমাদের যে দলটা আছে বিশ্বের যে কোন দলকে হারাতে পারে। কিন্তু একসাথে ক্লিক করতে হবে।’ তবে একটা জায়গায় অন্তত সবাইকে খুব সতর্ক করে দিয়েছেন বোর্ড সভাপতি—শৃঙ্খলা। দল হারুক, জিতুক শৃঙ্খলা ভঙ্গ বরদাস্ত করা হবে না বলে পরিষ্কার বার্তা দিয়ে এসেছেন। বার্তাটা কার উদ্দেশ্যে, কী সেটা পরিষ্কার করলেন না পাপন। তবে ইঙ্গিতপূর্ণভাবেই বললেন, ‘ম্যাসেজ যার যা পাওয়া দরকার ইতোমধ্যে পেয়ে গেছে আমার কাছ থেকে।’