আলোকপাত
স্বাধীনতা আমার গৌরব, আমার অহংকার
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০১৪, ২২:০৯
স্বাধীনতা দিবস জাতীয় জীবনের গৌরব ও তাত্পর্যময় দিন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ। এ দিনটি জাতীয় জীবনের ঐতিহ্য, অগ্রগতি ও বিকাশের প্রতীক।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানী স্বৈরশাসকের মন্ত্রণা ও পরিকল্পনায় পাকিস্তানী বাহিনী নিরস্ত্র অসহায় বাঙালিদের উপর নৃশংসতম গণহত্যার মাধ্যমে এক রক্তাক্ত অন্যায় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল। ২৫ মার্চ গভীর রাতে পাকিস্তানী বাহিনী বের হলো ট্রাংক, অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে। বঙ্গবন্ধু তখন ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডে তার বাসায় ছিলেন। তাকে গ্রেফতারের ঠিক আগের মুহূর্তে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করলেন। ইপিআর ট্রান্সমিটারে এই বার্তা প্রচার করা হয়। ২৫ মার্চ রাত বারোটার পর এই বার্তাটি প্রচারিত হয়। চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতারা এই বার্তা ২৬ মার্চ লিফলেট আকারে প্রচার করেন। এ কারণে ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস বলা হয়।
অপারেশন সার্চলাইট (পাকিস্তানী বাহিনী বাঙালিদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়া) অনুযায়ী হানাদার পাকিস্তানী বর্বর বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর। সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক-ছাত্র শহীদ হন। সারা ঢাকায় এক তাণ্ডবের সৃষ্টি হয়। সেদিনের সেই ছোট্ট রুনু, বয়স সাত অথবা আট হবে। তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। তার মনে আজো ভাসে সেই বীভত্স দিনের স্মৃতিকথা। কালরাত, চারিদিক নিস্তব্ধ, থমথমে ভাব। প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ। কানে তালা লাগার মত। খাটের নীচে উপুর হয়ে শুয়ে থাকা। চারিদিকে নিকষ অন্ধকার। থেমে থেমে গুলি বিনিময়। পাশাপাশি শুয়ে তবুও কারোর কথা যেন কানে যাচ্ছে না। প্রচণ্ড শব্দে কামানের গোলা, মর্টার শেলের আঘাত। কুন্ডলী পাকানো ঘন ধোঁয়ার বলয় আকাশের দিকে ধাবমান। অন্ধকারে আগুনের স্ফূলিঙ্গ সে এক বুক কাঁপানো দৃশ্য। দাউদাউ আগুনে জ্বলে উঠলো রাজারবাগের পুলিশ ব্যারাক। তবুও নেতৃত্বহীন পুলিশ সদস্যরা পিছু হটেনি। থ্রি নট থ্রি রাইফেলে মুহুর্মুহু গুলিতে চালিয়ে গেছে প্রতিরোধ যুদ্ধ। ২৫ মার্চের সেই মর্মান্তিক গণহত্যাকাণ্ডের পর থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ দেশের অগুনতি মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তারই ফলশ্রুতিতে বিজয় আমাদের ললাটে জোটে। বাংলাদেশ যেমন একদিনে সৃষ্টি হয়নি, তেমনি স্বাধীনতার যুদ্ধও একদিনে শুরু কিংবা শেষ হয়নি। এর জন্য বিসর্জন দিতে হয়েছে। ত্যাগ করতে হয়েছে অনেক কিছু। এত ত্যাগ আর বিসর্জনের পর স্বাধীন যে বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে তাকে সমুন্নত রাখা আজ আমাদের একান্ত নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পরিস্থিতি একদিনে সৃষ্টি হয়নি। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের কবল থেকে পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পরও পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পায়নি। ব্রিটিশের পর পাকিস্তানের পশ্চিমা শাসকদের উপনিবেশে পরিণত হয়েছিল বাংলাদেশের ভূখণ্ড। এ দেশকে দমিয়ে রাখার জন্য তারা প্রথম আঘাত হানে বাঙালিদের মাতৃভাষার উপর।
তাই পরাধীনতার নাগপাশ ছিন্ন করে যে স্বাধীনতা আমরা অর্জন করেছি, তা রক্ষা ও সুসংহত করার জন্য আমাদের সকলের গুরুদায়িত্ব পালন করতে হবে।
লেখক :এসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার, সোনালী ব্যাংক লি:, ঢাকা