যুক্তির লিলুয়া বাতাসে ছড়াক স্বাধীনতার আঘ্রাণ

সদ্য ঘুম ভাঙা একদল তরুণ-তরুণী লঞ্চের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে তাকাল পূর্ব দিকে। তাদের মধ্যে কেউ একজন হঠাত্ই বলে উঠল ‘পিঙ্ক স্কাই’। সূর্য ওঠার আগের গোলাপি আকাশ আর পায়ের নিচে কীর্তনখোলা নদীর ঢেউ রেখে লঞ্চ বারান্দায় রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে থাকা তরুণ-তরুণীরা সবাই বিতার্কিক। তারা বাংলাদেশের বিতর্ক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সংগঠন ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশ (এনডিএফ বিডি)-এর চেয়ারম্যান একেএম শোয়েবের নেতৃত্বে বরিশালে এসেছে একটি আয়োজনকে সফল করতে। আয়োজনটি হলো—৩য় এনডিএফ বিডি-বিডিএ বরিশাল বিভাগীয় বিতর্ক উত্সব ’১৪। সকাল থেকেই বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আসা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে মুখর হয়ে ওঠে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ অডিটরিয়ামের প্রাঙ্গণ। ‘যুক্তির লিলুয়া বাতাসে ছড়াক একুশের আঘ্রাণ’ স্লোগানে সকাল সাড়ে নয়টায় উত্সবের উদ্বোধন করেন বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. রণজিত্ খাঁ। বরিশাল ডিবেট অ্যাসোসিয়েশন (বিডিএ)-এর চেয়ারম্যান জাহিদ হাসান শওকতের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব মো. আব্দুল মোতালেব হাওলাদার এবং ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশ (এনডিএফ বিডি)-এর চেয়ারম্যান একেএম শোয়েব। প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. নূরুল আমিন। তিনি তার বক্তৃতায় সমাজে নিজ নিজ অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিতর্ক চর্চার প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করেন। বক্তৃতার মঞ্চে দাঁড়িয়ে ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশ (এনডিএফ বিডি)-এর চেয়ারম্যান একেএম শোয়েব উচ্চারণ করেন মার্কিন শিক্ষাবিদ নরম্যান কাজিনের বিখ্যাত সেই বাণী—‘দ্য ফার্স্ট পারপাস অব এডুকেশন ইজ টু এনাবল এ পারসন টু স্পিক ক্লিয়ারলি অ্যান্ড কনফিডেন্টলি।’ তিনি বলেন, বিতর্ক শিল্প মানুষকে যুক্তিবাদি হতে শেখায়, পরমত সহিষ্ণু হয়ে নিজের মত দৃঢ় ভাবে প্রকাশ করতে শেখায়। বরিশাল ডিবেট অ্যাসোসিয়েশন (বিডিএ)-এর চেয়ারম্যান জাহিদ হাসান শওকত বলেন, ২য় এনডিএফ বিডি-বিডিএ বরিশাল বিভাগীয় বিতর্ক উত্সব শেষে যে স্বপ্ন দেখা হয়েছিল আজ সে স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। উত্সবে বরিশাল বিভাগে বিতর্ক ক্ষেত্রে অবদানের জন্য প্রফেসর এম মোয়াজ্জেমকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে হয় উত্সব র্যালি। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আসা সহস্রাধিক শিক্ষার্থী দলে দলে যোগ দিয়ে র্যালিকে প্রাণোচ্ছল করে তোলে। উত্সব ব্যানার নিয়ে র্যালিটি বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজের প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে। সকাল এগারটায় শুরু হয় সংসদীয় মডেলের প্রদর্শনী বিতর্ক। বিতর্কের বিষয় ছিল—‘এই সংসদ মনে করে যে আজ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ না বাড়িয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়।’ বিতর্কে মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে এনডিএফ বিডি-এর কো-চেয়ারম্যান উত্তম রায়। বিতর্কে সরকারি দলে ছিল বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজের কোহিনুর করিম, আলিনা ফিরোজ ও দিব্য জ্যোতি পোদ্দার এবং বিরোধী দলে ছিল ফাল্গুনি মজুমদার, নাজমুল হুদা শিমুল ও আশিকুর রহমান আকাশ। স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন তথ্য ও যুক্তি-প্রতিযুক্তিতে বিতর্কটি জমে ওঠে। এরপর সংসদীয় বিতর্কের উপর কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালাটি পরিচালনা করেন আঠারতম টেলিভিশন বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য উত্তম রায়। কর্মশালা শেষে শুরু হয় বারোয়ারি বিতর্ক প্রতিযোগিতা। বিতর্কের বিষয় ছিল—‘তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার...’। বিতর্কে উত্সবে অংশগ্রহণকারী বিতার্কিকরা দারুণভাবে তাদের কথা তুলে ধরেন।