প্র জ ন্মে র ফে স বু ক
উইংস অব বাটারফ্লাই
প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০১৪, ২১:২৪
ইসরাত জাহান তাতিয়ার বাড়ি টাঙ্গাইল। অনেকদিন যাবত তার ইচ্ছে ছিল টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী শাড়ি এবং তাঁতিদের নিয়ে কিছু করার। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সময় হচ্ছিল না তার। তখন অনলাইন ব্যবসা এদেশে মোটামুটি প্রসার লাভ করছিল। তিনি অনলাইনে ফেসবুক পেজগুলো একটু ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখলেন। তিনি একটু ভিন্ন ধারা অনুসরণ করে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাক বিশেষ করে টাঙ্গাইলের তাঁত শাড়ি নিয়ে পেজ খোলেন। টাঙ্গাইলের পরিচিত কিছু তাঁতিদের সাথে কথা বলে তাদের বোঝানোর চেষ্টা শুরু করলেন। কিন্তু তারা প্রথমদিকে বিষয়টা বুঝতে পারেনি। তাই তিনি খুব অল্প টাকা দিয়ে তাঁত বাড়ি থেকে কিছু শাড়ি কিনে নিয়ে এসে ছবি তুলে পেজে আপলোড দেন। তিনি অল্প বাজেট নিয়ে কাজটা শুরু করেন। যেহেতু এই বিজনেস সম্পূর্ণই ফেসবুক নির্ভর এবং ফেসবুক ব্যবহারকারীরা অধিকাংশই অল্প বয়সী তাই প্রথম দিকে খুব বেশি ক্রেতা পাননি। তবে সবার কাছ থেকে অনেক সাধুবাদ পেয়েছেন দেশীয় পণ্য নিয়ে পেজ খোলার জন্য। এরপর তাঁতীদের সাথে অনেক বার কথা বলার পর তাদের বোঝাতে সক্ষম হন। তারা এখন তাদের প্রোডাক্ট তাতিয়াকে পাঠিয়ে দেন পেজে আপলোড করার জন্য। কিন্তু এই ক্ষেত্রে তিনি খুব বাছাই করে শুধুমাত্র যারা গুণসম্পন্ন কাপড় তৈরি করেন তাদের প্রোডাক্ট নেন। ধীরে ধীরে তার ক্রেতা সংখ্যা বেড়েছে। তার প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল পেজের মাধ্যমে যেমন সবাই বিদেশি জিনিস কিনছে তেমনি তিনি তার দেশীয় জিনিস দেশের বাইরে পাঠাবেন। তার নিয়মিত গ্রাহকদের মাঝে বিদেশি গ্রাহকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। তিনি টাঙ্গাইলের শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, ঢাকার জামদানি, সিলেটের মণিপুরি এবং ঢাকার কাতান শাড়ি নিয়ে কাজ করছেন। এই কাজে অনেক সময় দিতে হয়। বিশেষ করে প্রচুর তথ্য জানতে চায় ক্রেতা। তরুণরা এই পেশায় সহজেই আসতে পারে কারণ এই পেশায় ঘরে বসেই কাজ করা যায়। এখন সবার কাছেই ল্যাপটপ এবং ভালো মানের মোবাইল আছে। যে সময়টা ফেসবুক অথবা অন্য কোনো সাইটে সময় দেবে সে সময়টা এই কাজে ব্যবহার করে ঘরে বসে বাড়তি উপার্জন করা সম্ভব। তাই তিনি উদ্যমীদের এই পেশায় আসার আহ্বান জানান।