বৈশাখের রঙে সাজানো

অরণ্য! তবে গহীন অরণ্য নয়। এই ইট-কাঠের শহরে নিখুঁত হস্তশিল্পের এক অরণ্য। আশির দশকে রুবী গজনবী শুরু করেছিলেন এই স্বপ্ন দেখা। এর আলোকে ১৯৯৬ সালে প্রথম বনানীতে তাদের শো-রুম করা হয়। সামনে আসছে বৈশাখ। আর তাদের যাত্রা যেখানে প্রাকৃতিক রঙের নবজাগরণ নিয়ে সেখানে বৈশাখে অরণ্য সাজবে না তা কি হয়? বনানীতে অরণ্য ঘুরে এসে লিখেছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র, ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু উপরে উঠতেই প্রথমে চোখে পড়বে সুন্দর কিছু অর্নামেন্টস আর সিডি-বই। খাঁটি বাঙালিয়ানাকে ধারণ করেই এগিয়ে চলছে তারা। পাবেন অনেক রকম চুড়িও। এদের সংগ্রহে রয়েছে কয়েক রকমের শাড়ি। সেগুলোর দাম শুরু হয়েছে হাজার দুয়েক থেকে। এর বাইরেও অনেক রকম সালোয়ার-কামিজ রয়েছে। সেগুলোর দামও হাতের নাগালেই পাবেন। রয়েছে অনেক রকম পাঞ্জাবি, সেগুলো সুতি, সিল্ক যে কাপড়েরই হোক না কেন, ডিজাইন অনেকটা নতুন রকমের মনে হবে। আর এর বাইরে মেয়েদের অনেক ডিজাইনের ওড়না রয়েছে। অরণ্যের সংগ্রহে আছে বেশকিছু বই আর গানের অ্যালবাম। এর মাঝেও রয়েছে শতভাগ বাঙালিয়ানা। আর মনে প্রাণে তাদের লক্ষ্য একটাই, আমাদের দেশীয় ঐতিহ্যকে সবার সামনে তুলে ধরা, সবার সামনে আমাদের দেশকে পরিচিত করানো। তাদের শো-পিসগুলো দেখলেও কয়েকবার নেড়েচেড়ে নিয়ে নিতে মন চায়। বিদেশিরা এই জিনিসগুলো পছন্দ করছে খুব। আর আমাদের দেশেও এ ধরনের জিনিসের চাহিদা দিনকে দিন বাড়ছে বৈ কমছে না। বর্তমানে এটি বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের আওতাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। এখানে রয়েছে সুতি, সিক্ল, জামদানি, মসলিন, খাদিসহ দেশীয় তাঁতের কাপড়ে তৈরি নানা পোশাক। এসব পোশাকের মধ্যে আছে মেয়েদের শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া, ওড়না, ছেলেদের পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শার্ট ও লুঙ্গি। এসব পোশাকে ব্যবহার করা সব রঙই প্রাকৃতিক। অরণ্যের ব্যবস্থাপক জানালেন, ‘অরণ্য সবসময়ই দেশীয় ঐতিহ্যকে লালনের চেষ্টা করে। যে পণ্যগুলো তাদের সংগ্রহে আছে, তার বেশিরভাগই তাদের তৈরি। কিছু জিনিস ডিজাইনের পর অভিজ্ঞ কারিগরদের দিয়ে তৈরি করে আনা নয়। অরণ্য কাপড়ের মানের উপরেও অনেক জোর দিয়ে থাকে, যা গুণে মানে নকশায় সবক্ষেত্রেই অনন্য। আর তারচেয়ে বড় বিষয় অরণ্য বরাবরই প্রাকৃতিক রং নিয়ে খেলতে পছন্দ করে। তাদের উত্পাদিত পণ্যে প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করা হয় বেশিরভাগ সময়।’ অরণ্য যে ধারাবাহিকতায় কাজ শুরু করেছে, সে যাত্রায় তাদের প্রাপ্তিও অনেক। দেশের ও দেশের বাইরের বাঙালি-অবাঙালি সবাই তাদের পণ্যকে সাদরে গ্রহণ করেছে। এই পথ ধরে তারা এগিয়ে যাবেন অনেকদূর, সেই শুভকামনা। এ ক ন জ রে কোথায় :৬০ ই, কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী, ঢাকা কবে যাবেন :রবিবার বাদে যেকোনো দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে। কী কিনবেন :পোশাক ছাড়াও অরণ্য ক্রাফটসে পাওয়া যায় নানা ধরনের গহনা। এসব গহনা তৈরি করা হয়েছে রুপা, বিভিন্ন ধাতব, পাট-নারকেলের আচাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে। এছাড়া অরণ্যে ক্রাফটসে নানা ধরনের উপহার সামগ্রী রয়েছে। যোগাযোগ :০১৭৫৫৫০৯৯০১, ৯৮৮২৫৪২।