কাউখালীতে সন্ধ্যা নদীর অব্যাহত ভাঙন

সন্ধ্যা নদীর অব্যাহত ভাঙনে কাউখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বিলীন হয়ে যাচ্ছে। হুমকির মুখে পড়েছে আমরাজুড়ি ফেরিঘাট। বার বার স্থান পরিবর্তন করা হচ্ছে দুই পাড়ের ঘাট। বর্তমান ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙনের তীব্রতার কারণে আশংকা করা হচ্ছে যেকোন মুহূর্তে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পিরোজপুর মহাকুমার এক সময়ে আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর মাস্টার সামসুল আরেফিনের স্মৃতিবিজড়িত আশোয়া গ্রামটি আজ কেবলই স্মৃতি। আমড়াজুড়ি ও গন্ধর্ব গ্রামের সামান্য অংশ অবশিষ্ট থাকলেও দত্তেরহাট নামটি আজ সকলের স্মৃতি থেকে মুছে গেছে। গন্ধর্ব জানকি নাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করতে বার বার স্থান পরিবর্তন করা হলেও পুনরায় তা হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। তাও যেকোন মুহূর্তে বিলীন হতে পারে বলে বিদ্যালয়ের শিক্ষকমন্ডলীসহ এলাকাবাসী আশংকা করছে। আমড়াজুড়ি ফেরির কর্মচারীরা জানান, কম হলেও ২০বার পরিবর্তন করে ফেরিঘাট বর্তমান স্থানে এসেছে। ভাঙনের যা অবস্থা তাতে যেকোন সময় বিলীন হয়ে যাবে। আমড়াজুড়ি ইউনিয়নের সিংহভাগ, কাউখালী সদর ও সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের বিশাল এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় সহায়-সম্বলহীন নদী ভাঙ্গা মানুষগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছেন। যাদের অর্থ-কড়ি ছিল তারা অন্যত্র জমি কিনে বাড়ি করতে পেরেছেন। কিছু পরিবার আশ্রয়ন আর আবাসন প্রকল্পে স্থান পেলেও অধিকাংশ মানুষ কচুরিপানার মত ভেসে বেড়াচ্ছে। কেউ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আবার কেউ পরিচিতজনের বাড়ির আঙিনায় মাথাগোজার ঠাঁই করে নিয়েছে। কাউখালী উপজেলার এ দীর্ঘ এলাকা দুই তীর থেকে কোন না কোন এলাকা ভয়াল সন্ধ্যা গহ্বরে বিলীন হচ্ছে। ভিটেছাড়া হচ্ছে শত শত মানুষ। একসময়ে অতি পরিচিত জন মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে স্মৃতি থেকে মুছে যাচ্ছে। কেউ কারো খোঁজ রাখার সময় পাচ্ছে না। আমড়াজুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষ্ণ লাল গুহ জানান, ওই ইউনিয়নের জনসংখ্যার অর্ধেক মানুষ নদী ভাঙনের শিকার। নদী ভাঙা মানুষের জন্য তেমন সরকারি সাহায্য পাওয়া যায় না। সামান্য কয়েকটি পরিবারকে আবাসনে স্থান দেয়া সম্ভব হয়েছে। বাকিরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।