তরুণ সমাজ কি হতাশ

অপসংস্কৃতি ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে তরুণ সমাজ হতাশ বর্তমানে তরুণ সমাজ হতাশ। এর প্রধান দুটি কারণ হলো অপসংস্কৃতি ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। এছাড়াও বিভিন্ন কারণ রয়েছে। দেশে সুষ্ঠু রাজনৈতিক অবস্থা বিরাজ না করার কারণে তরুণ সমাজ আজ হতাশায় নিমজ্জিত। কিন্তু এরপরেও সমাজের বিশাল তরুণ সমাজ একেবারে নষ্ট হয়নি। তাদের অনেকের সৃজনশীল কাজ অন্য তরুণদের মাঝে প্রাণের সারা জাগিয়েছে। তবে আমাদের ভুল রাজনীতি পরিহার করতে হবে। তরুণদের ভুল পথ থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এ জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। সরকারেরও উচিত তরুণ সমাজের জন্য একটা কিছু করা। অপসংস্কৃতি আমাদের তরুণ সমাজের ক্ষতি করছে অনেক। আমাদের সংস্কৃতিকে বিজাতীয় সংস্কৃতির প্রভাব থেকে মুক্ত করতে হবে। তরুণ সমাজ যাতে এই অপসংস্কৃতির জোয়ারে ভেসে না যায় সেজন্য সুশীল সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। ফারহানা ইয়াসমিন আঁখি সম্মান, ২য় বর্ষ(বাংলা) গৌরীপুর কলেজ, ময়মনসিংহ। ০০০০০০০০০০০০০ নিঃস্বার্থভাবে দেশের স্বার্থে নিজেকে বিলিয়ে দিবে এমন লোকের আজ বড়ই অভাব ‘তোরা যে যা বলিস ভাই আমার সোনার হরিণ চাই’। বর্তমানে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো এই মন্ত্রে দীক্ষিত। তারা সোনার হরিণ পাওয়ার আশায় হানাহানিতে মেতে উঠেছে। ক্ষমতা হারানোর ভয় এবং ক্ষমতা পাওয়ার লোভে তারা মত্ত। হানাহানি, রাহাজানি, রক্তারক্তি এই দেশে আর নতুন কিছু নয়। তাদের হিংস্রতার কবলে পড়ে প্রাণ হারান সাধারণ জনগণ। আর্থিকভাবে হতাশাগ্রস্ত বেকার তরুণ সমাজকে একদল লোক টেনে নিয়ে যাচ্ছে ধ্বংসের পথে। টাকার লোভ দেখিয়ে তাদের দিয়ে করানো হচ্ছে অপকর্ম, হত্যার মত জঘন্যতম কাজ। নিঃস্বার্থভাবে দেশের স্বার্থে নিজেকে বিলিয়ে দিবে এমন লোকের আজ বড়ই অভাব। তাই তরুণ সমাজ নিজেদের গতিতেই সফলভাবে এগুনোর চেষ্টা করলেও সহিংসতার জন্য তাদের হতাশার গ্লানি বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। তরুণদের আহ্বানে জাতি সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছে। আজকের তরুণ সমাজই আগামী দিনের ভবিষ্যত্। তরুণ সমাজ যতটাই হতাশাগ্রস্ত হোক না কেন, তারা যদি তাদের লক্ষ্যে অটুট থাকে, সাফল্য নিশ্চিত। তারা তাদের মেধা ও মননের বিকাশ ঘটিয়ে জাতিকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে পারবে। আফরোজা শামীম (তানিয়া) হিসাববিজ্ঞান বিভাগ (২য় বর্ষ) পটিয়া সরকারি কলেজ। ০০০০০০০০০০০ দেশে সুষ্ঠু রাজনৈতিক ব্যবস্থা বিরাজ করলে তরুণ সমাজ ধ্বংসের পথ থেকে উঠে আসবে দেশের বর্তমানে অসম রাজনীতির কারণে তরুণরা সামাজিক ক্ষেত্রে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে বা বাধ্য হচ্ছে। শিক্ষিত তরুণরা আজ বেকার। তাদের চাকরি নেই। তারা হতাশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশন জটে তারা দারুণভাবে হতাশাগ্রস্ত। এ বিষয়টি নিয়ে কেউ ভাবছেন না। তরুণরা যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি না পওয়ায় হত্যা, ছিনতাই, মারামারি, খুনাখুনি করে টাকা উপার্জন করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে তরুণদের পাশাপাশি দেশের জনগণের ক্ষতি হচ্ছে। অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ হচ্ছেন। দেশের বর্তমান অর্থনীতিকে অধিকতর সক্রিয় করতে তরুণরা কাজে আসছে না। তারপর আবার অপসংস্কৃতিও ক্ষতি করছে। তরুণদের হতাশার হাত থেকে রক্ষা করতে হলে সরকারের পাশাপাশি সমাজকেও আজ এগিয়ে আসতে হবে। জনগণের মাঝে ঐক্য, প্রীতি স্থাপন করে গঠনমূলক কাজে তাদের ব্যবহার করতে হবে। দেশে সুষ্ঠু রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তা হলেই আমাদের তরুণ সমাজ ধ্বংসের পথ থেকে উঠে আসবে। কৌশিক সরকার সম্মান (২য় বর্ষ) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ নেত্রকোনা সরকারি কলেজ, নেত্রকোনা ০০০০০০০০০০ সুশীল সমাজ টকশোতে অনেক কথাই বলেন, কিন্তু তরুণদের নিয়ে ভাবেন না যে তরুণ আগামী দিনের কান্ডারী, যারা এগিয়ে নিয়ে যাবে দেশ ও জাতিকে তথা পৃথিবীকে তারাই আজ হতাশ, তারাই আজ মর্মাহত, তারাই আজ অন্ধকারের অতল গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপট বিচার করলে আমরা দেখতে পাই, আজকের এই তরুণদের দুর্দশা বা হতাশার মূল কারণ অপরাজনীতি, অপসংস্কৃতি এবং গুণগত শিক্ষার অভাব। বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক দলগুলো সঠিক নেতৃত্ব দিতে না দিয়ে তরুণদের অপকাজে ব্যবহার করছে। তরুণরা আজ হয়ে গেছে রাজনৈতিক দলগুলোর খেলার পুতুল। তরুণরা খারাপ পথে চলতে বাধ্য হচ্ছে। তারা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। সমাজের কথিত অভিভাবকরা তরুণদের কথা মোটেই চিন্তা করছেন না। সরকারও একই রকম আচরণ করছে। কথিত সুশীল সমাজ টকশোতে অনেক কথাই বলেন, কিন্তু তরুণদের নিয়ে কি করা যায় সে বিষয়ে কোন কথা বলেন না। তারা শুধু দোষ দিয়েই খালাস। জাতি যতদিন পর্যন্ত এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে না পারবে ততদিন তরুণরা হতাশার মধ্যেই থাকবে। রনি আহমেদ সম্মান, ২য় বর্ষ (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) গুরুদয়াল কলেজ,কিশোরগঞ্জ