‘এবারও লক্ষ্য বিশ্বকাপ জয়’

ইতিহাস বা পরিসংখ্যান - একবার ম্যাচ শুরু হয়ে গেলে ক্রিকেটে আর এই দুটি শব্দের তেমন একটা জায়গা নেই। এমন যারা ভাবেন ড্যারেন স্যামি হচ্ছেন তাদের দলে। ইতিহাস মনে না রাখলে কি হবে, স্যামিরা মনে-প্রাণে চাইছেন ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে। ২০১২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের প্রভাব এবার কতোটা আছে? ড্যারেন স্যামি: আমাদের জন্য এটা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা টুর্নামেন্ট, আজ ভিন্ন একটা ম্যাচ। আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ মনোযোগ দিচ্ছি। ক্রিকেটে আসলে ইতিহাসটা খুব বড় ব্যাপার নয়। ম্যাচের দিনে কে কেমন খেলে তার উপরই ফলাফল নির্ভর করে। হ্যা, ২০১২ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে আমরা তাদের হারিয়েছি। কিন্তু এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তারা বেশ ভাল ক্রিকেট খেলছে। আজকের অনুশীলনেও আমরা এটাই মাথায় রেখেছি। আমরা মাঠে নিজেদের পরিকল্পনাটা সফলভাবে প্রয়োগ করতে চাই। কিছু জায়গায় এখনও আমাদের উন্নতির সুযোগ আছে। আশাকরি, আমাদের জন্য আরেকটি সফল সেমিফাইনাল হবে এটি। বিশ্বকাপের আগে আপনারা ফেভারিটের তালিকাতে ছিলেন না। সেটা কি ভাল খেলতে শক্তি যুগিয়েছে? ড্যারেন স্যামি: হ্যা, যখন আমরা ক্যারিবিয়ান ছাড়ি তখন এটা আমাদের মাথায় ছিল। শেষ বিশ্বকাপেও আমাদের মিশন ছিল বিশ্বকাপ জয়ের। এবারও মন্ত্রটা একই। একই দল, একই লক্ষ্য - শিরোপা ধরে রাখা। আমরা আগেও এটা করেছি, এবার তাই আত্মবিশ্বাসটা একটু বেশি। কিন্তু ফরম্যাটটার নাম তো টি-টোয়েন্টি। এখানে মোমেন্টাম ধরে রাখাটা জরুরি। এখন পর্যন্ত যতোটুকু খেলেছি, যা দেখলাম, তাতে মনে হয় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও আমরা একই কাজটা করতে পারবো। তারা টেবিলে কি আনে সেটা আমাদের দেখতে হবে আর আমাদের সেই অনুযায়ী নিজেদের কার্ড দিয়ে খেলতে হবে। শেষ দিন রঙ্গনা হেরাথ দারুণ পারফর্ম করলো। তার বিরুদ্ধে কি আলাদা কোন পরিকল্পনা আছে? ড্যারেন স্যামি: গেইল আর স্মিথকে একটা ভাল সূচনা এনে দিতে হবে। আমার মনে হয় না যে বামহাতি স্পিনারে আমাদের খুব একটা সমস্যা হবে। আর নিউজিল্যান্ড যেভাবে খেলেছে আমরা নিশ্চয়ই ওভাবে খেলতে যাবো না। আমাদের দলটা এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। তারা কি করতে পারে সেটা শেষ দুই ম্যাচেই দেখা গিয়েছে। শ্রীলঙ্কার ম্যাচগুলো ছিল চট্টগ্রামে। আর আপনারা ঢাকায় খেলেছেন। এটা আপনাদের কিছুটা এগিয়ে রাখবে? ড্যারেন স্যামি: আমি এটাকে এগিয়ে থাকা বলতে চাই না। আমাদের প্রথম ম্যাচের পর অনেকেই বলেছিল আমরা টুর্নামেন্ট থেকে কিছুই পাবো না। কিন্তু আমরা এ সবকিছুকে ভুল বলে প্রমাণিত করেছি। আসলে আমি আগেও বলেছি, ক্রিকেট হল পরিকল্পনার খেলা। ম্যাচের দিনে যে পরিকল্পনা অনুযায়ী ভাল খেলতে পারবে তারাই জিতবে। কোনদিন কি হবে কেউ বলে দিতে পারবে না। ক’দিন আগেই আমরা দেশের মাটিতে আয়ারল্যান্ডের কাছে হেরেছি। আর এখন আমরা সেমিফাইনালে। আমাদের সামনে আর মাত্র দুই ধাপ বাকি। একবার ফাইনালে পৌঁছে গেলে সবই সম্ভব। দেখা যাচ্ছে অন্যান্য ফরম্যাটের চেয়ে টি-টোয়েন্টিতে আপনারা কিছুটা ভাল খেলছেন? ড্যারেন স্যামি: আমি বলবো আমরা অনেক অভিজ্ঞ। আমরা সাত-আটজন খেলোয়াড় বিশ্বের নানা জায়গায় টি-টোয়েন্টি খেলে বেড়াই। আমরা এই ফরম্যাটটা ভালবাসি। আর আমাদের খেলোয়াড়রা এই ফরম্যাটের জন্যই সবচেয়ে বেশি মানানসই। তারপরও আমি বলবো টেস্ট ক্রিকেটের উপর কিছু নেই।