সাকিবের ব্যাপারে ব্যাখ্যা চায় বোর্ড

সাকিব আল হাসান যেন বাংলাদেশের শেন ওয়ার্ন হতে চলেছেন! নিঃসন্দেহে দেশের সেরা ক্রিকেটার সাকিব। সে সুবাদে সারা বছর আলোচনায়ও থাকেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, একেবারেই ওয়ার্নের মতো সারা বছরই প্রায় অক্রিকেটীয় কারণেও আলোচনায় থাকছেন এই অলরাউন্ডার। কখনো দর্শকের সঙ্গে অশোভন আচরণ, কখনো সতীর্থ বা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি, কখনো আলটপকা কথা বলা কিংবা কখনো ক্যামেরার প্রতি অশোভন ভঙ্গি! সর্বশেষ সাকিব আলোচনায় এসেছেন স্থানীয় একটি পত্রিকায় চাঁছাছোলা সাক্ষাত্কার দিয়ে। এই সাক্ষাত্কারে অত্যন্ত আক্রমণাত্মকভাবে সমর্থকদের নিয়ে, দেশের মানুষের দেশপ্রেম নিয়ে, খেলোয়াড়দের বেতন-ভাতা নিয়ে এবং পুষ্টি-খাদ্য নিয়ে মন্তব্য করেছেন সাকিব। এইসব মন্তব্যে যুক্তি থাকুক, আর নাই থাকুক; দেশের মানুষের আবেগে যে আঘাত লেগেছে, তাতে সন্দেহ নেই। অবশেষে এই সাক্ষাত্কার নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এ দফা এখনও কোনো শাস্তি-টাস্তি ঘোষণা করেনি তারা। তবে বিসিবি সভাপতি বোর্ডের প্রধান নির্বাহীর মারফত টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে এই সাক্ষাত্কার দেয়ার বৈধতা জানতে চেয়েছেন। গতকাল বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস নিশ্চিত করেছেন, বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজনকে বলা হয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়ার জন্য—টুর্নামেন্ট চলা অবস্থায় কার অনুমতি সাপেক্ষে সাকিব এই সাক্ষাত্কার দিলেন? সাকিব সর্বশেষ বড়সড় বিতর্কে জড়িয়েছিলেন এশিয়া কাপ চলা অবস্থায়। বাংলাদেশের পরাজয়ের পর ড্রেসিংরুমে ক্যামেরা ধরা হলে সাকিব সেদিকে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেন। সে সময় এই আচরণের জন্য সাকিবকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি ম্যাচে নিষিদ্ধ করে বোর্ড। এই প্রসঙ্গে সাকিব পরে ব্যাখ্যা দিয়েছেন—তিনি জানতেন না যে, ওই সময় ক্যামেরা ধরা হয়েছে। বরং সামনে অফলাইন ক্যামেরাম্যান তার পরিচিত বলে তার সঙ্গে দুষ্টুমি করছিলেন। এসব ব্যাখ্যার পাশাপাশি ওই সাক্ষাত্কারে সাকিব বলেছেন, দেশের সিংহভাগ মানুষ দেশপ্রেমের পরীক্ষা দিতে পারবেন না। তার আরও দাবি, বাংলাদেশের সমর্থকদের চাপেই দল খারাপ খেলে। তাই দলকে অন্তত দু’বছর দেশের বাইরে খেলানো উচিত; তাহলে যদি প্রত্যাশার চাপ কমে! এই সাক্ষাত্কারের সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখায়নি এখনও বোর্ড। তবে জালাল ইউনুস বললেন, ‘টুর্নামেন্ট চলা অবস্থায় খেলোয়াড়দের জবাবদিহিতা হল টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে। এ সময় বোর্ড সরাসরি কোনো অনুমতি দেয় না। তাই সভাপতি জানতে চেয়েছেন যে, টুর্নামেন্ট চলা অবস্থায় সাক্ষাত্কার দেয়ার জন্য কে সাকিবকে অনুমতি দিলো? এজন্য বোর্ডের হয়ে সিইওকে বলা হয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টের কাছ থেকে ব্যাখ্যাটা জানার জন্য।’