টেলিফোনে পাঠকের মতামত
কেউ ভিনগ্রহ থেকে আসিনি
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০১৪, ২১:০৪
‘কেউ ভিনগ্রহ থেকে আসিনি’ উক্তিটির ভিন্ন ভিন্ন ‘তরজমা’ হতেই পারে। কারণ, এতে সরলতা, স্বচ্ছতা, সীমাবদ্ধতা, অস্পষ্টতা, বাস্তবতাসহ নানা অনুষঙ্গের যোগ-বিয়োগ করবার মতো পটুয়ার অভাব আমাদের দেশে নেই। নির্বাচন কমিশনের দোষ-দুর্বলতা দেখবার ও তুলে ধরবার লোকের কমতি যখন আমাদের দেশে নেই তখন কমিশনের বাণী, কর্ম ও অনুমোদন খুবই পরিপক্ক হওয়া সবার কাছে প্রত্যাশিত। ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ লিখে নূর হোসেনদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে নব্বইয়ের দশকের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে আমারা পাই গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আবহ এবং এ অর্জনকে কেউ কি হারাতে চায়? অথচ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সূচিত আস্থার সংকট নির্বাচন ব্যবস্থাকেই ক্রমশ জটিল করে তুলছে। যা কখনো কাম্য ছিল না। জাপানের প্রাচীন মিকাডো সভ্যতায় শাসকের ওপর আরোপিত ‘ট্যাবু’র (দেবত্ব) কারণে কেউ নাকি শাসক হতে চাইতো না। ফলে বিদেশ থেকে শাসক আমদানি করা হতো ! কিন্তু বর্তমানে তেমন সুযোগ না থাকলেও আমাদের উন্নয়ন অংশীদার বিদেশিগণ যেভাবে কথা বলছেন, প্রিয় দৈনিক ইত্তেফাকে স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে যে রিপোর্ট ছাপা হয়েছে তাতে সত্যিই বোঝা গেছে নির্বাচনের মান নিয়ে দিনে দিনে গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নে নতুন নতুন ব্যাখ্যা দাঁড় করানো সম্ভব। সন্দেহ নেই ‘কেউ ভিনগ্রহ থেকে আসিনি’ উক্তির মধ্যেও তেমনি এক ব্যাখ্যা খোঁজা যাবে। সবার অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন একটি উত্সব। সুতরাং সব নির্বাচন সবসময় সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকবে এটাই আমারও সবার মতো সব সময়ের প্রত্যাশা।
অধ্যাপক মোঃ আলী এরশাদ হোসেন আজাদ
বিভাগীয় প্রধান ইসলামিক স্টাডিজ
কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, কাপাসিয়া গাজীপুর -১৭৩০।
ধন্যবাদ ইত্তেফাক পত্রিকার সম্পাদককে, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের উক্তিটিকে গুরুত্বের সাথে দেখার জন্য। প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোঃ আব্দুল মোবারক সাহেবের মূল কথাটি ছিল - “আমরা কেউ ভিনগ্রহ থেকে আসিনি, ১৯৮৫ সালের উপজেলা নির্বাচনও আমরা দেখেছি। তখনও এ নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক ছিল” আর এর আগেরদিন উনি বলেছিলেন, ধরলাম আমরা কিছুই না, জিরো, তবুতো উনি আমাদের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন, নাকে খত দিয়ে । ক্ষমতাসীন দলের প্রধানদের সাথে সুর মিলিয়ে কিভাবে তিনি এমন মন্তব্য করতে পারলেন! এতে সাধারণ জনগণ অবাকই হননি হতাশও হয়েছেন। এমন উক্তি, এমন মেজাজ যা উনার পদ-পদবীর জন্য মোটেও কাম্য ছিল না। মানুষের মেজাজ তখনই খারাপ হয়, যখন মানুষ অনেক ভাল কাজ করেও এর কোন সুনাম পায় না। আমার তো মনে হয়, এই নির্বাচন কমিশন তা পেয়েছে।
ডা. মর্জিনা আক্তার
বারিধারা, ঢাকা।
ইসিকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে দেয়া বিএনপির বক্তব্যের জবাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারকের মন্তব্য, “আমরা এই দেশের নাগরিক। কেউই ভিনগ্রহ থেকে আসিনি” এবং আরও অপরাপর মন্তব্য তার মতো সাংবিধানিক পদে থেকে করা কতটুকু যুক্তিযুক্ত হয়েছে তা ভেবে দেখার অবকাশ আছে বৈকি। আমাদের দেশে সাধারণত রাজনৈতিক দল ও নেতাদের বক্তব্যকে মেঠো বক্তব্য হিসেবে অনেক সময় সংশ্লিষ্টরা এড়িয়ে যান এবং সেটাই বুদ্ধিমানের কাজ বলে বিদগ্ধজনেরা বলে থাকেন। “সদ্য অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে অনিয়মের কথা অস্বীকার করার জো নেই”। আমরা তার সরল ও সত্য স্বীকারোক্তিকে সাধুবাদ জানাই। তবে ধাপে ধাপে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় অনিয়মগুলো বেশি নজরে পড়েছে বলে জনৈক নির্বাচন কমিশনার যে মতামত দিয়েছেন তাকে বালখিল্য মন্তব্য বলে কেউ আখ্যায়িত করলে তাকে দোষ দেয়া যায় কী? মূলত স্ব স্ব পদে থেকে প্রচলিত ও বিধিবদ্ধ আইন-কানুন মেনে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতার মাঝেই সফলতা নিহিত থাকে।
ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী
সাধারণ সম্পাদক, ঢাকাস্থ বেগমগঞ্জ পেশাজীবী সমিতি
৫-বিসিসি রোড, নবাবপুর, ওয়ারী, ঢাকা-১২০৩।
আমরা এই দেশের নাগরিক। কেউই ভিনগ্রহ থেকে আসিনি এমন বক্তব্য পক্ষপাতদুষ্ট। জাতীয় ও উপজেলা নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে জনগণের মধ্যে এই ধারণা সৃষ্টি হয়েছে যে, এই আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোন নির্বাচনই সুষ্ঠু হবে না।
বীরমুক্তিযোদ্ধা, ওয়ারেন্ট অফিসার জাহাঙ্গীর আলম (অবঃ)
গ্রামঃ পায়ব, মুরাদনগর, কুমিল্লা।
নির্বাচন সংক্রান্ত কিছু বাস্তব চিত্র বেপরোয়া কেন্দ্র দখল, সীমাহীন সহিংসতা, প্রার্থীদের নির্বাচন বর্জন, নানাবিধ অনিয়মের পরেও নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, “আমরা কেউ ভিনগ্রহ থেকে আসিনি” দায়িত্বপ্রাপ্ত সিইসি মোহাম্মাদ আব্দুল মোবারকের আত্মপক্ষ সমর্থনের এটি কোন জুুতসই উত্তর নয়। বরং জাল ভোট, গণহারে কেন্দ্র দখল, সহিংসতা, প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং এজেন্টদের ব্যালটে সিলমারা, ভোটের আগের রাতে সিলমেরে ব্যালট বক্স ভরে রাখা, সর্বোপরি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি যদি হয় সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত তাহলে অনিয়মের নির্বাচন কতো কুিসত হতে পারে, তার সংজ্ঞা ভারপ্রাপ্ত সিইসি যদি দেশবাসীকে দিতেন, তাহলে ক্ষয়ে যাওয়া সমাজের বড্ড বেশি উপকার হতো এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের মানানসই উত্তরও হতো। প্রাতিষ্ঠানিক পদে থেকে সর্বজনিন ব্যবস্থা নিতে অপারগ, সিইসি উল্টো যখন নসিয়ত করেন। তখন সেলুকাসের বিচিত্র দেশের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। মোবারক সাহেবের অধীনে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন হচ্ছে, যা সহিংসতার জালে জড়িয়ে পড়া নির্বাচন হিসেবে বিবেচিতও হচ্ছে। তথাপিও তিনি এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে বলে আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেছেন। নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের বিপরীতে নিজের দায় এড়ানোর এই কৌশল, ব্যক্তিত্ব সর্বস্ব ব্যক্তির জন্য বেদনাদায়ক। আগ বাড়িয়ে অনাহূত বিতর্কে জড়িয়ে পড়াটাও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বরং সীমাবদ্ধতার কারণে ইচ্ছে থাকলেও কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটতে পারে এই সত্য স্বীকার করা, গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তির জন্য সম্মানের হতো। নাকে খত, ইট মারলে পাটকেল খেতে হয়—এই ধরনের রাজনৈতিক ভাষা প্রয়োগ পার্টিজান দোষে দুষ্ট হবার জন্য যথেষ্ট। যেহেতু পার্থিব বিষয়ে কোন অভাব নেই, সেহেতু সিইসি সাহেব স্বীকার করতেন, হাত-পা বাঁধা ও বিবেক বন্ধক রেখে আর যাই হোক জাতীর গুরুত্ব পূর্ণ পদে থেকে জাতির জন্য ভাল ইতিহাস সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। তাহলে ধন্য-ধন্য রব পড়ে যেত। দেশবাসীও ভারপ্রাপ্ত সিইসি সাহেবকে শ্রদ্ধার আসনে বসিয়ে দিত। সত্যকে মেনে নেয়া গর্বের বিষয় এবং ব্যক্তির আত্মমর্যাদা রক্ষার এটাই উত্তম পথ।
মুরাদ হোসেন
মধুখালী, ঝিকরগাছা, যশোর।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে থেকে সঠিক কথাটিই বলেছেন। কারণ প্রায় সব নির্বাচনই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে তবে দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া বলে আমরা মনে করি। আসলে আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো জিতলে নির্বাচন সুন্দর হয়েছে। আর হারলে নির্বাচন অসুন্দর হয়েছে। এই সংস্কৃতি নিয়েই আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো চলছে। তবে তরুণ সমাজ এ ধরনের কথা আশা করে না। তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে বলবো, আপনারা নিজ নিজ দায়িত্বে থেকে সঠিক কথাটি বলুন।
মো. ইলিয়াস আলম সুমন
হারানিয়া, সন্দ্বীপ।
মহল্লায় মহল্লায় যখন বখাটে ছেলেদের সাথে প্রেমঘটিত চরদখলসহ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যে সংঘাত-সহিংসতা সৃষ্টি হয় তখন অনেক অতি উত্সাহিত ব্যক্তি বলে থাকেন বেটা আমাদের মহল্লায় আসিস, তোকে দেখে নেব। বর্তমান উপজেলা নির্বাচনের যে অনিয়ম, সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে বলে অনেকের মন্তব্য। বাস্তবতা জনগণ লক্ষ্য করেছে। কোনক্রমেই সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সংস্থা এর দায়-দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। দায়িত্বশীল আসনে দায়িত্ব নিয়ে কার্য পরিচালনায় এ ধরনের বক্তব্য দেশের নাগরিককে হতাশ করা ছাড়া আর কিছুই উপহার দিতে পারেনি দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনার।
মঞ্জু খন্দকার
চুয়াডাঙ্গা।
সাংবিধানিক পদে বসে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার যে মন্তব্য করেছেন তা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অতিকথন ও দলীয় আনুগত্য প্রদর্শনে তত্পর থাকার কাজটি করা সাংবিধানিক পদে বসে বেমানান। নির্বাচনের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে না পারাটা অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের দুর্বলতাই মনে করি।
এ কে এম শাহজাহান
সভাপতি, বিজ্ঞান সমিতি নরসিংদী।
দেশের নাগরিক অধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তি ভিন্ন গ্রহ থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসেনি। একজন নাগরিক তার অনেক কর্তব্য ও দায়িত্ব নিয়ে দেশে বসবাস করে। নাগরিক নির্বাচিত হওয়ার, ভোটদানের অধিকার, চাকরি অধিকার যেমন আছে তেমনি নাগরিকদের রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য, ভোটাধিকারের সত্ ব্যবহার ইত্যাদি প্রত্যেকটি নাগরিকের কর্তব্য। সুতরাং নাগরিক শব্দের অর্থ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। জন্মসূত্রে একটি দেশের নাগরিক হওয়া যায়, আবার স্বেচ্ছায় নাগরিকত্ব গ্রহণ করা যায়। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার একজন আদর্শ নাগরিক হিসাবেই তার বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা অন্য কোন গ্রহ থেকে আসিনি। সুতরাং আমরা আশা করবো, নির্বাচন কমিশনার সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করবে।
আশা এলিজাবেথ
প্রধান শিক্ষক, সেন্টমার্টিন কিন্ডার গার্টেন।
নির্বাচন কমিশনের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যসমূহ যেন দেশবাসীর বুকে শূলের মতো বিঁধেছে। দেশের মানুষ হতাশা প্রকাশ ছাড়া আর কিই বা করবে।
মো. ফখরুল ইসলাম টিপু
ছাত্র, সেনবাগ, নোয়াখালী।
দেশের মানুষ অধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তি হয়ে থাকে। তারা কখনো ভিন্ন গ্রহ থেকে অবশ্যই আসেনি। একজন দেশের নাগরিক জন্মসূত্রে নাগরিক। সুতরাং দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশন যে উক্তি করেছেন একেবারেই ঠিক। শুধু নির্বাচন কমিশনকে দোষারোপ করা যাবে না।
মোস্তাফিজুর রহমান (মিঠু)
মহাখালি, ঢাকা
জন্মসূত্রে আমরা এদেশের নাগরিক। যে কোন দেশের মানুষ যে স্থানে জন্ম সে সেখানকার নাগরিক এটাই সত্য। দেশের মানুষ আচার-আচরণ ভিন্নতর। রাজনৈতিক দলসমূহ এমনই স্বার্থের হানি হলেই তারা নানা কথা বলে থাকে, এটা ঠিক নয়।
আরিফুজ্জামান
বাসাবো, ঢাকা।
দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক দুঃখ করে উক্ত কথাটি বলেছেন। কারণ আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এমন পর্যায়ে চলেছে যে নির্বাচনে জয়ী হলে নির্বাচন ভাল হয়েছে আর হেরে গেলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। এমন মনোভাবাপন্ন হলে দেশের রাজনীতি কোথায় গিয়ে ঠেকবে।
জসিম উদ্দিন
পুরান থানা, কিশোরগঞ্জ।
আমরা কেউই ভিনগ্রহ থেকে আসিনি কথাটি ঠিক। কিন্তু কথাটি যিনি বলেছেন তার বেলায় সঠিক নয়। সঠিক এজন্য নয়, এবারের উপজেলা নির্বাচনে জঘন্যতম কারচুপির পাশাপাশি সহিংসতায় একাধিক জীবননাশ হয়েছে। আমরা কেউই ভিনগ্রহ থেকে আসিনি কথাটার মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভ, দুঃখ, রাগ, এবং অহমিকাও আছে বলে আমরা মনে করি। নিজেকে অপর পক্ষের চেয়ে সামান্য হলেও অধিক যোগ্যতাসম্পন্ন এবং ব্যক্তিত্ববান বলে মনে করার সুযোগ এ বক্তব্যে আছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এ ধরনের একটি কথা একজন মানুষ কখন, কেন, কোথায়, কিভাবে, কি উদ্দেশ্যে বলছেন সেটাই বিবেচ্য বিষয়। নির্বাচন কমিশনের বড় কর্তা যখন একথা বলেন তখন ধরে নেয়া যায়, তার উপর বড় ধরনের চাপ আছে অথবা চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। কাউকে ব্যতিক্রমভাবে দেখার সুযোগ নেই সবাই সমান। এমন বক্তব্যই একথা প্রকাশ পায়। “তুমিও যা আমিও তাই” এরকম মমতাসূচক একটি সিদ্ধান্ত আমরা উপরের কথায় নিতে পারি। তবে সবচেয়ে বড় কথা একজন নির্বাচন কমিশনের বড় কথা যে চোখ দিয়ে সবাইকে সমানভাবে দেখার বিধান আছে সেটি কতটা পালিত হচ্ছে সেটাই সাধারণ মানুষের প্রশ্ন।
ওয়াহিদ মুরাদ
মিরপুর-২, ঢাকা
কেউই ভিন্ন গ্রহ থেকে আসিনি নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশন যে কথা বলেছেন ঠিক বলেছেন। নির্বাচন সংস্কৃতি আমাদের দেশে এমনই হয়েছে যে ভালো করলেই ভালো আর না করতে পারলেই নানা রকম দোষারোপ করা হয়। অথচ এমনটি আমরা আশা করি না।
জাহাঙ্গীর হোসাইন
পীরেরবাগ, ঢাকা।
প্রথম দফা বাদ দিলে এবারের উপজেলা নির্বাচনে চরম অনিয়ম আর ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচন যদি সঠিকভাবে ইসির দায়িত্বে থাকতো তাহলে এমনটি হতো না। তাদের নির্দেশমতো কাজ করতো।
আইরিন সুলতানা (সন্জু)
ধুপপুর, মাইজপাড়া, চট্টগ্রাম
প্রধান নির্বাচন কমিশনার যে উক্তিটি করেছেন, সেটা সঠিক কিন্তু আমার মনে হয় উনি ভিন্ন দেশের লোক নয়। তবে ভিন্ন লোক। একজন সরকারিকর্তার কথাবার্তা বলতে হবে নিয়ন্ত্রিত হয়ে। ওনার আচরণ হতে হবে অনেক সুন্দর ও মানুষের মন জয় করার মত। কিন্তু উনি যেভাবে কথা বলেন সেটা সঠিক নয়। ওনার আচরণ বদলাতে হবে তা-না হলে নিজে থেকেই সম্মান নিয়ে মরে যাওয়া ভালো বলে আমি মনে করি।
সৈয়দ হায়দার আলী
সভাপতি
মহাখালী যুব কল্যাণ সমিতি, মহাখালী, ঢাকা
বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অনেক দিন ধরেই বর্তমান ইসির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করে আসছে। বাস্তবে ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখল আর জোরপূর্বক সিল মারার অভিযোগের যথেষ্ট ভিত্তি আছে।
তবে আমাদের কথা হলো গোটা নির্বাচন কমিশনকেই ঢেলে সাজাতে হবে। এমন ব্যক্তিদের হাতে ইসির দায়িত্ব অর্পণ করতে হবে যারা প্রকৃতই নিরপেক্ষ, সত্ ও স্বাধীনচেতা।
মোঃ খায়রুল ইসলাম (ফুল)
আরাপপুর, ঝিনাইদহ
২৩ জেলায় ১৮ দল নির্বাচন বর্জন করে। দলীয় প্রার্থী কর্তৃক কেন্দ্র দখল, জাল ভোটে ব্যালট বাক্স ভরাট করা, বিরোধী প্রার্থীদের এজেন্টদের বিতাড়িত করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে ২৩টি উপজেলায় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় বিরোধী এবং বিদ্রোহী প্রার্থীরা। এ সমস্ত ঘটনা সারাদেশের মানুষ মিডিয়াতে দেখেছে। তাহলে নিরপেক্ষ রইলো কোথায়? নির্বাচন কমিশনার যে উক্তি করেছেন সেটা পুরোপুরি ঠিক নয়।
মোঃ ফারুক
মালিবাগ, ঢাকা
সত্ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তি দ্বারা ইসিকে দল নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী করা না গেলে তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুটির কোনদিনই কোন সমাধান আসবে না।
নির্বাচনী প্রক্রিয়াকেই ধ্বংস করবে। ইসির ওপর থেকে ভোটারদের আস্থা বিনষ্ট হওয়ারই আশঙ্কা থাকবে। কাজেই কেউই ভিনগ্রহ থেকে আসিনি। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার যে উক্তি করেছেন সেটাকে বাস্তবে কাজে লাগাতে হবে।
লাড্লা
পিলখানা, ঢাকা
“আমরা এই দেশের নাগরিক। কেউই ভিনগ্রহ থেকে আসিনি” দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের উক্তিটির সাথে বাস্তবে কাজের মিল নেই।
উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে ধাপে ধাপে হেরে যাচ্ছে বিএনপি। প্রথম দুইটি ধাপে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা ভালো করলেও পরবর্তী তিনটি ধাপে ক্রমান্বয়ে খারাপ করেছেন। সেই সাথে ধাপে ধাপে বেড়ে যায় ভোট কেন্দ্র দখলের ঘটনা, আমরা তো এরকম প্রত্যাশা করিনি।
মোঃ সেলিম
মহাখালী, ঢাকা
“আমরা কেউ ভিনগ্রহ থেকে আসিনি”। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনের এমন উক্তি চরম আপত্তিজনক। তিনি সাংবিধানক একটি পদের চেয়ারে থেকে এমন উক্তি করতে পারেন না। তাছাড়া বর্তমানে যে উপজেলা নির্বাচন হচ্ছে তাকে কোন সুস্থ ব্যক্তি নির্বাচন বলতে পারেন না। সরকার দলীয়দের ভোট ডাকাতি এবং ত্রাস প্রকাশ পাচ্ছে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা।
সাইফুল ইসলাম তানভীর
গুলশান-১, ঢাকা ১২১২
অবশ্যই আমরা ভিনগ্রহ থেকে কেউ আসিনি। ইসির দায়িত্বপ্রাপ্ত মোহাম্মদ আবদুল মোবারক যে উক্তিটি করেছেন সেটি ঠিক আছে। তবে বাস্তব ক্ষেত্রে অনেক বিষয় আছে যা বেমানান রূপ অনেক।
তাই নির্বাচন কমিশনকে বলছি একটি কার্যকর ও আস্থাভাজন নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
মোঃ মনির হোসেন
মনির বুক এন্ড সংবাদপত্র বিক্রয় কেন্দ্র
মিরপুর-১, ঢাকা
আমরা এই দেশের নাগরিক। কেউই ভিনগ্রহ থেকে আসিনি—দায়িত্বপ্রাপ্ত সিইসি মোহাম্মদ আব্দুল মোবারক সাহেবের বক্তব্যটি একেবারেই ঠিক। যেহেতু বিষয়টি অত্যন্ত জোরালো। ৫ জানুয়ারি ২০১৪ জাতীয় নির্বাচনের জয়লাভের পর এবারো উপজেলা নির্বাচনে বিজয় নিয়ে এসেছেন। এটা সত্যিকার অর্থে বর্তমান সরকারের বিশাল সফলতা। এই সফলতা পূর্ণতা এনেছে বর্তমান সরকারের। আমরা বর্তমান সরকারের উত্তোরত্তর উন্নতি কামনা করছি।
হোসনে আরা করিম নীলা,
এনায়েতগঞ্জ লেন, পিলখানা, ঢাকা
সত্যিকার অর্থে আমরা এদেশের নাগরিক। কিন্তু নাগরিক হলেও প্রকৃত অর্থে অনেক কিছুতে আজ ভিন্ন মত দেখা দিচ্ছে। গত ৫ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচন একতরফা নির্বাচনের পর উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আজ যা হচ্ছে সেটি আর বলার অপেক্ষ রাখে না। মনে হচ্ছে আজ পঞ্চম দফায় উপজেলা নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের ষোল কলা পূর্ণ হল।
মো. খায়রুল বাশার
কুতুবখালী, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
আমাদের দেশে এক সময় জনগণের মুখে মুখে উচ্চারিত হতো আমার ভোট আমি দেবো, যাকে খুশি তাকে দেবো। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় এখন আর সে অধিকার নেই। যেকোন দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়লে গণতন্ত্র চর্চার আর কোন সুযোগ সেখানে অবশিষ্ট থাকে থাকে না। আমরা কেউই ভিনগ্রহ থেকে আসিনি—দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের উক্তিটির সাথে একমত হতে পারছি না। আমরা মনে করি, নির্বাচন কমিশনারকে আরো বেশি দায়িত্ববান হতে হবে।
মো. শহীদুল ইসলাম (রয়েল)
নিশিন্দারা, মধ্যপাড়া, বগুড়া
একজন মানুষ হিসাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার যে ভিনগ্রহ থেকে এসেছেন সেটার বলার অধিকার বা তাকে গালি দেবার অধিকার যেমন কোন রাজনীতিবিদদের নেই, তেমনি একজন নির্বাচন কমিশনার হিসাবে উপযুক্ত কাজটি করতে পারেননি এমন বলার অধিকার আমাদের রয়েছে। কারণ নির্বাচন কমিশনার যে বক্তব্য দিচ্ছেন তা আমাদের দেশের বহুল প্রচারিত মিডিয়ার তথ্যের সাথে সাংঘর্ষিক। যদি আমরা নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য সঠিক বলে ধরে নেই তাহলে এটাও ধরে নিতে হবে যে, আমাদের মিডিয়াগুলো ভুল তথ্য প্রচার করছে।
মো. আসাদুজ্জামান
লোক প্রশাসন, তৃতীয় বর্ষ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মোবারক বলেছেন, গত ধাপের তুলনায় এবার নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। সহিংসতাও অনেক কমেছে। ইসিকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে বিএনপির বক্তব্যের জবাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সিইসি বলেছেন, আমরা যারা কমিশনে কাজ করি, তারা সবাই এদেশের নাগরিক। অন্যদিকে যারা রাজনীতি করেন তারাও এদেশের নাগরিক। আমরা কেউ ভিনগ্রহ থেকে আসিনি। ইসিকে গালি দেয়ার অধিকার রাজনৈতিক দলসহ কারোরই থাকে না। সহিংসতার কারণে নির্বাচন স্থগিত হয়, ফলে ভোটার ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের শ্রম বেড়ে যায়। ব্যয় হয় রাষ্ট্রীয় অর্থ। আমরা মনে করি, নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হয়েছে। উপজেলা নির্বাচনে ধাপে ধাপে বিএনপি হেরে গেছে। তাদের এই হেরে যাওয়া কোনভাবেই তারা মানতে পারছে না। কেননা এবার সরকারি দলের লোক জনপ্রিয় প্রার্থীদের মনোনয়ন দেবার ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থান নেয়া হয়। তাই সরকারি দলের বিজয় অনিবার্য হয়ে উঠে।
মো. মেজবা উদ্দিন সেলিম
ভোলা ড্রাগ হাউজ
পূর্ব ইব্রাহিমপুর, শেওড়াপাড়া
আমরা কেউ ভিনগ্রহ থেকে আসিনি—দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এই উক্তিটির সাথে একমত হতে পারছি না। আমরা মনে করছি বাংলাদেশকে শান্তি, স্বস্তি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে হলে গণতন্ত্র চর্চার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনতে হবে।
কেয়া আক্তার
স্টাফ রিপোর্টার, টাইমস ২৪ ডটনেট, মতিঝিল, ঢাকা
কেউই ভিনগ্রহ থেকে আসিনি—ইসির এই বক্তব্যের সাথে বাস্তবের কি কোন মিল আছে? বিএনপি অভিযোগ করেছে যে, ভোট ডাকাতি ও কেন্দ্র দখল না হলে তারা দুই-তৃতীয়াংশ উপজেলায় বিজয়ী হতো। তারা নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতকে দায়ী করেছেন। সুতরাং একজন নির্বাচন কমিশনকে সত্ ও নিরপেক্ষ হতে হবে এটাই প্রধান বিষয়।
মাসুম আহাম্মদ
শিকড়ের সন্ধানে, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
উপজেলা নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র দখল থামেনি, বরং ভোট কেন্দ্র দখলের মাত্রা পঞ্চম ধাপে ব্যাপকহারে বেড়ে যায়। প্রকাশ্য সরকার সমর্থক কর্মীদের কেন্দ্র দখল, জালভোট, এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রভাব বিস্তারের প্রতিবাদে নির্বাচন বর্জন করেছেন প্রার্থীরা। পঞ্চম ধাপে নির্বাচনে চার শতাধিক ভোট কেন্দ্র দখলের সংবাদ আমরা মিডিয়া থেকে জানতে পারি। তাহলে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনের যে উক্তি করেছেন সেটার সাথে আমরা কি দেখতে পাচ্ছি।
মো. ইফতেখার হোসাইন
হাইমচর, ৬নং চরভৈরবী ইউনিয়ন।
কেউই ভিনগ্রহ থেকে আসিনি—দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার যে উক্তিটি করেছেন তার বাস্তব কোন প্রতিফলন নেই। যেহেতু জনসাধারণ হতাশার সাথে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি জনপ্রশাসনের একটি উদ্বেগজনক পশ্চাদমুখী যাত্রা প্রত্যক্ষ করেছে মাত্র। কারণ গত ৫ জানুয়ারি বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনের পর প্রধান বিরোধী দলের অংশগ্রহণে উপজেলা নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু তা হয়নি।
নীলুফা আক্তার
টোলারবাগ, মিরপুর-ঢাকা
নির্বাচন কমিশনের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ৪৮৭টির মধ্যে এ পর্যন্ত ৪৫৮টি নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে চতুর্থ ধাপে সহিংসতা ও অনিয়মের কারণে কয়েকটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত থাকার কারণে তিনটি উপজেলার ভোট গ্রহণ বন্ধ রাখা হয়। ৪৫৫টি ফলাফল পাওয়া যায়। পঞ্চম ধাপে মোট কেন্দ্রের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ঘিরে নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছে। এরকম যদি হয় তাহলে এদেশে নির্বাচন প্রক্রিয়া ভেঙ্গে পড়তে শুরু করেছে বলে মনে হয়। নির্বাচনের ওপর ইসি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে। তবে এর জন্য দায়ী রাজনৈতিক দলসমূহ। শুধু নির্বাচন কমিশনকে একা দায়ী বলা যাবে না।
হাসান মোহাম্মদ হোসাইন চৌধুরী
সাবেক ভিপি,, কবিরহাট সরকারি কলেজ, নোয়াখালী
উপজেলা নির্বাচনের পঞ্চম দফায় সংঘাত সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুরে মানুষ মারা গেছে। ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেয়া হয়েছে। বিএনপি বলেছে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে তাদের বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে। বর্তমান ইসির অধীনে কোন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না বলে তারা জানিয়েছেন। অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত সিইসি দাবি করেছেন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। আবার আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, নির্বাচন পূর্বের নির্বাচনগুলোর চেয়ে সুষ্ঠু হয়েছে। তাহলে ‘কেউই ভিনগ্রহ থেকে আসিনি’ দায়িত্বপ্রাপ্ত সিইসির এই মন্তব্যের সাথে কাজে-কর্মে অমিল দেখা যাচ্ছে।
মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহীদ উল্লাহ
ফেনী
ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো:আব্দুল মোবারক রাজনীতিকদের মতোই একটা হাস্যকর কথা বলেছেন, “আমরা বাংলাদেশের নাগরিক কেউই ভিনগ্রহ থেকে আসিনি”। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন একটা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এটার নীতিমালা রয়েছে। সেই নীতিমালার বিধান অনুযায়ী এই প্রতিষ্ঠানটি চলার কথা, এই প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে রয়েছে বিতর্কের প্রচণ্ড ঝড়। নির্বাচন কমিশন তখনই বিতর্কিত হয় যখন নির্বাচন শুরু হয়ে যায়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার যদি রাজনীতিকদের সাথে সুর মিলিয়ে কথাবার্তা বলতে থাকেন তাহলে তো নির্বাচন কমিশন বিতর্কিত হতে বাধ্য।
শাহ মোহাম্মদ হেলালউদ্দিন হিরো
কালিহাতি, টাঙ্গাইল
নির্বাচন চলাকালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইসির নির্দেশ মোতাবেক চলে। কিন্তু উপজেলা নির্বাচনে তাদের ইসির নির্দেশ মতো কাজ করতে দেখা যায়নি। তাহলে কেউ ভিনগ্রহ থেকে আসিনি উক্তিটির সাথে রাজনৈতিক বক্তব্যের দৃশ্য দেখা যায়। তাই সিইসিকে সম্পূর্ণভাবে নিরপেক্ষ, সত্, আদর্শবান হতে হবে বলে আমরা মনে করছি।
এম,কে আকন্দ
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি,
টাইমস ২৪ ডট.নেট, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
স্বাধীনতার ৪৩ বছর পেরিয়ে গেলেও বড় রাজনৈতিক দলগুলোর অনড় অবস্থানের কারণেই ক্রমাগত সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েই চলেছে। আমাদের নেতৃবৃন্দ ন্যূনতম মুখ দেখাদেখির সৌজন্যমূলক সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত নন। “কেউই ভিনগ্রহ থেকে আসিনি” দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার যে উক্তি করেছেন কথাটির সাথে একমত। শুধু নির্বাচন কমিশনকে দোষারোপ করলেই চলবে না। রাজনৈতিক দলগুলোকে অনেক সহনশীল হওয়া দরকার।
মোঃ হানিফ মিয়া
সোর্স ইন্ট্রিগ্রেশন সেন্টার (রিক), ধানমন্ডি, ঢাকা
একটি সমাজে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য ক্রমাগতভাবে সংস্কার করে যেতে হয়। দেশে মৌলিক কিছু সংস্কার এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। যায় মধ্যে একটি স্বাধীন ও স্বচ্ছ নির্বাচন কমিশন। শুধু ব্যক্তির রদবদল নির্বাচন কমিশন সংস্কার হয়ে যাবে তা ভাবা ঠিক নয়।
শিশির
আজিমপুর, ঢাকা
শুধু নির্বাচন কমিশন সংস্কারেরই সীমাবদ্ধ থাকলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাকরণ পুরোদমে হয়ে গেল তা ভাবার কোন কারণ নেই। আমরা এদেশের নাগরিক, “কেউই ভিনগ্রহ থেকে আসিনি” দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার যে উক্তিটি করেছেন একবারে সত্য।
বিপ্লব আলম
উর্দুরোড, লালবাগ, ঢাকা
আজ আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক। যখন স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের আওতায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের পছন্দের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হচ্ছে তখন দেশ বিরোধীরা এদেশের জনগণের চিন্তা করেনি। নির্বাচন কমিশন ঠিক কথাই বলেছেন। অসাম্প্রদায়িক দেশে যারা সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করছে তারা ভালো রাজনৈতিক দল বলে পরিচিত নয়, এর আইন জরুরি। সবাই বসে আগামী নির্বাচনগুলো কিভাবে সুষ্ঠু করা যায়, এখন থেকে তা ঠিক করতে হবে দেশ ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে। বিএনপি ক্ষমতা থাকতে ঢিল মেরেছিল এখন তো পাটকেল টা খাবেই।
ফারুক আহম্মেদ
বাগমারা, রাজশাহী
সত্যি কথা বলেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবারক। যে কথাটি এখন পর্যন্ত কেউ বলেননি। তিনি বলেছেন, বিগত বিএনপি-জামায়াত সময়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের চেয়ে এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে দেশ ও জাতির চাওয়া পাওয়ার লক্ষ্যে সবাই বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আগামী নির্বাচনগুলোর জন্য।
এস, কে, মোঃ রমিজউদ্দিন
প্রশিকা
প্রধান কার্যালয়, মিরপুর-২, ঢাকা
আমরা কেউই ভিনগ্রহ থেকে আসিনি একথাটি ঠিক। কিন্তু আমাদের মধ্যে এমন মানুষও মাঝে মধ্যে দেখা যায় যে, তাদের আচার-আচরণে বোঝা যায় না তারা বাংলাদেশের মানুষ। অর্থাত্ ভিন্ন গ্রহেরই মানুষ তারা। দায়িত্বপ্রাপ্ত মাননীয় প্রধান নির্বাচন কমিশন জনাব মোহাম্মদ আব্দুল মোবারক এই উক্তিটি কোন্ বিষয়ের উপর ভিত্তি করে ব্যক্ত করেছেন তা তিনি নিজেই ভালো করে বলতে পারবেন। মূল কথা হলো- আমাদের দেশের ভিতরে জনগণের শান্তি-শৃঙ্খলা পরিপূর্ণভাবে প্রতিপালিত হতে পারছে না বলেই মানুষ এ ধরনের মন্তব্য করতে সাহস পাচ্ছেন। তারা যদি এ দেশকে অপছন্দ করেন তবে তারা এদেশের বাহিরে বা অন্য কোন গ্রহে গিয়ে বসবাস কেন করছেন না? কিন্তু আমাদের দেশে বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য যেমন আপ্রাণ চেষ্ট করে যাচ্ছেন তেমনি বিদেশের সাথেও সু-সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। অপরদিকে জাতীয় স্থানীয় নির্বাচনগুলোও প্রায় কিছু কিছু অঘটন ছাড়া অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে। মোট কথা দেশের প্রশাসনসহ স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে যেমন- নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, সরকারি রাজস্ব বোর্ড, ডাক ও তার বিভাগ, সওজ, জনপ্রশাসন ইত্যাদি স্থানে যোগ্য লোকদের দায়িত্ব পালন করতে সুযোগ দিলে আশা করা যায়, দেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হবে।
আলহাজ্ব হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী (হিফজু)
নজরুল একাডেমী
উপদেষ্টা, হাউজিং স্টেট, রাজশাহী-৬২০২