পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার বাড়ছে
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০১৪, ২২:২৭
গবেষণা তথ্য
‘বাংলাদেশের শিশু পরিস্থিতি-২০১৩ সংবাদপত্রের পাতা থেকে’ শীর্ষক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে বিভিন্ন কারণে শিশু মৃত্যুর হার বাড়ছে। এরমধ্যে ২০১৩ সালে কেবল পানিতে ডুবে মারা গেছে ৫০২ জন, সড়ক দুর্ঘটনায় ২৬৬ জন, আত্মহত্যা করেছে ১৬৬ জন, বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে ৪৮জন ও রাজনৈতিক সহিংসতায় মারা গেছে ৪১ জন শিশু। ২০১৩ সালে সংবাদপত্রে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ থেকে এই তথ্য উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ২০১৩ সালের শিশু পরিস্থিতি নিয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। শিশু পরিস্থিতি তুলে ধরেন, আয়োজক সংগঠনের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক আবদুল্লা আল মামুন।
আরো বক্তব্য রাখেন, আয়োজক সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, ট্রাস্টিবোর্ডের সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শাহনাজ হুদা ও পারভীন মাহমুদ। আরো উপস্থিত ছিলেন, মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশন-এর কোঅর্ডিনেটর শাহানা হুদা রঞ্জনা। ২০১৩ সালে সড়ক দুর্ঘটনার খবর প্রকাশিত হয়েছে ২২৮টি। এরমধ্যে ২৬৬জন শিশু নিহত ও ১৫জন আহত হয়েছে। এরমধ্যে গত ডিসেম্বর মাসেই কেবল ৪১জন শিশু দুর্ঘটনায় মারা যায়। সংবাদে উঠে এসেছে যে, এসব দুর্ঘটনার অধিকাংশই চালকের অদক্ষতা, অসতর্কতা ও বেসামাল গতির কারণে ঘটেছে।
সড়ক দুর্ঘটনা ছাড়া অন্য দুর্ঘটনার মোট ৫৮১টি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এরমধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ছাড়া অন্য দুর্ঘটনায় ৮৩৮জন শিশু মারা গেছে ও ২৯৮জন আহত হয়েছে। পানিতে ডুবে, সড়ক দুর্ঘটনায়, আত্মহত্যা, বিদ্যুত্স্পৃষ্ট ও রাজনৈতিক সহিংসতা ছাড়াও ১২ জন মিশু পাহাড় ধসে, ২৬জন বজ্রপাতে, ২৩জন ভবন ধসে, ২৭জন খাদ্যে বিষক্রিয়ায় এবং ১৯ জন সাপের কামড়ে মারা গেছে। ২০১২ সালে অন্য দুর্ঘটনায় মোট ৫৫৮ জন শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ছিল।
গবেষণা থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালে শিশুদের নিয়ে ইতিবাচক খবর ২০১২ সালের চেয়ে বেশি প্রকাশিত হয়েছে। বলা হয়েছে, ২৬ লাখ তিন হাজার ৭৯৯ জনেরও অধিক শিশু মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে ২৩৭টি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৫৬জন শিশু শিকার হয়েছে। এরমধ্যে ৪১জন মারা গেছে ও ১৭জন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। ৪২জন শিশু পাচারের খবর পাওয়া গেছে।
গবেষণাটি করা হয়, সংবাদ পত্রের মাধ্যমে বিষয়ভিত্তিকভাবে শিশুদের সমস্যা ও গবেষণার চিত্র নিরুপণ করা। সংখ্যাগত তথ্যের মাধ্যমে শিশু অধিকারের বাস্তবতা তুলে ধরা। শিশুদের জন্য নেতিবাচক বিষয়গুলোর কারণ ও সাম্প্রতিক প্রবণতা নির্ণয় করা। শিশুদের বেশি সংবাদ প্রচারিত হওয়া, প্রথম সারির ছয়টি সংবাদপত্রের শিশুদের সংবাদ থেকে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
তবে সড়ক দুর্ঘটনা, যৌন হয়রানি, শিক্ষকের অনৈতিক আচরণ এবং শিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ, সমাবেশ, মানববন্ধন, স্মারকলিপি দেয়া নিয়ে ১২৫টি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, যা ২০১২ সালের তুলনায় দেড়গুণ বেশি।