প্রতিভার জাদুতে
প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০১৪, ১৮:৫৯
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী তিনি। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পড়াশোনা করেছেন ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে। গান, নাচ, বিতর্ক, নাটক বা পড়াশোনা—কোনদিকে মেধা নেই তার! বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই মেয়েটির নাম জিহান নুর। তাকে নিয়ে লিখছেন আহসান রনি
প্রথম যেবার স্কুলের মঞ্চে একক সংগীত করেছিলেন, তার পরদিন অঙ্ক ক্লাসে স্যার ঢুকেই মাথায় হাত রেখে বলেছিলেন, ‘কিরে মা, তুই তো অনেক ভালো গান করিস?’ গানের জন্য প্রশংসা পাওয়া সেই প্রথম। এখনও ভাবলে মনটা ভালো হয়ে যায় জিহানের। গান নিয়ে তার সেই পথচলা এখনও থামেনি। বরং নানা ক্ষেত্রে প্রতিভার বিকাশ ঘটেছে। নিজের নানা প্রতিভার কথা নিজে বলতে গিয়ে জড়িয়ে ফেললেন তিনি। বললেন, ‘আমার সৃজনশীল কাজ বলতে শুধু গান, তার শুরু সেই ছোটবেলায়। নাচ, বিতর্ক, নাটক ইত্যাদি বিষয়ে আগ্রহ থাকলেও কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই।’ মুখে তিনি একথা বললেও সকলের মুখে তার প্রশংসা। বাংলা বা ইংরেজি যেকোনো ভাষায় তার গান মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শোনেন সবাই। নাচ, বিতর্ক, নাটক—যেকোনো বিষয়েই তিনিই যেন সকলের সেরা। যেকোনো অনুষ্ঠানে তার সম্পর্কে পূর্বধারণা থাকা সকলেই তার পারফর্মেন্সের জন্যই অপেক্ষায় থাকে। মঞ্চে উঠলে তার দিকেই থাকে সকলের নজর। এ বিষয়ে জিহান বললেন, ‘আসলে মঞ্চে পারফর্ম করতে আমার সবসময়ই ভালো লাগে। স্কুলে থাকতে বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সপ্তাহ, স্বাধীনতা দিবস ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে গান গাইতাম বেশ আগ্রহ নিয়ে। এছাড়া সুযোগ পেলে নাটক, বিতর্কেও অংশগ্রহণ করা হতো। তবে গানই সবচেয়ে প্রিয়। এছাড়া নানা অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা তো আছেই।’ তার উপস্থাপনার কথা আলাদাভাবে বলা যেতে পারে। উপস্থাপনার সময় তার শব্দের চমত্কার উচ্চারণ মুগ্ধ করে সবাইকে। কথা দিয়ে ও নিজের সৌন্দর্য দিয়ে মুগ্ধ করে রাখেন দর্শকদের। উপস্থাপনার শুরুর কথা জানতে চাইলে তিনি জানালেন, নানা অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে করতেই আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় একসময়, ফলে বেশ বড় কয়েকটি অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করে দর্শক মাতিয়ে তোলার সুযোগ আসে তার কাছে। কয়েকদিন আগে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন আয়োজিত ন্যাশনাল ইন্টার-মেডিকেল বিতর্ক উত্সবে উপস্থাপনা ও গান দিয়ে সারা দেশের দর্শক মাতিয়েছেন তিনি। জিহানের পাওয়া পুরস্কারের তালিকাও বেশ লম্বা। স্কুল ও কলেজের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতাগুলোতে কেউ হারাতে পারত না তাকে। রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি বা দেশাত্মবোধক গান—সবখানেই প্রথম পুরস্কার তার। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে আসার পর এখনকার সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় রবীন্দ্র, নজরুল আর আধুনিক গানেও যথারীতি তাকে পেছনে ফেলতে পারেনি কেউ। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেই পুরস্কার হাতে নিয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি। মেডিকেলে পড়াশোনার পাশাপাশি কিভাবে এতকিছু করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়ই। যেসব কাজে আমার আগ্রহ আছে, অনেক ব্যস্ততা থাকলেও সেগুলোর জন্য সময় ঠিকই বের হয়ে আসে।’ জিহান জানালেন ফ্যামিলি থেকে সব ধরনের সাপোর্ট পেয়েছেন তিনি। গান শেখা শুরু করেছিলেন মায়ের আগ্রহেই। সবকিছুতে অংশগ্রহণ করার ব্যাপারে বাবা-মা দুজনই উত্সাহ দিতেন সবসময়। তাছাড়া নিজের সৃজনশীল কাজগুলোতে সবসময় উত্সাহ পেয়েছেন সবার কাছ থেকেই। তবে আলাদাভাবে তিনি উল্লেখ করলেন তার গানের শিক্ষকের কথা। তার মতে, ‘সব বিষয়ে, যেকোনো সময় অনুপ্রেরণা পেয়েছি আমার গানের শিক্ষক ওস্তাদ প্রকাশ চন্দ্র শীলের কাছ থেকে। তিনি সকল বিষয়ে আমাকে পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করেছেন।’