সেরাদের সেরা যারা
আলফ্রেড নোবেল
প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:০৩
১৮৩৩ সালের ২১ অক্টোবর সুইডেনের স্কটহোম শহরে জন্মগ্রহণ করেন বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেল। বাবা ইমানুয়েল নোবেল ছিলেন একজন প্রকৌশলী ও উদ্ভাবক। মা আন্দ্রিয়েতা ছিলেন গৃহিণী। ইমানুয়েল নোবেল সুইডেনের স্কটহোম শহরে সেতু ও ভবন কনস্ট্রাকশনের ব্যবসা করতেন। এ কাজে বিস্ফোরক হিসেবে বারুদ ব্যবহূত হতো। এই বারুদ আরও শক্তিশালী করার জন্য অনেক গবেষণা করেন তিনি। ব্যবসার যখন রমরমা অবস্থা, তখন ঘটে অঘটন। প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ তার একটি জাহাজ ডুবে যায়। ফলে বেশ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন তিনি। আর তেমনই একটি সময়ে মা আন্দ্রিয়েতাসহ সন্তানদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় ফিনল্যান্ডে। ১৮৪২-এ আলফ্রেডের বয়স যখন নয় বছর, তখন তার বাবার আর্থিক অবস্থা স্বচ্ছল হওয়াতে পুরো পরিবার সেন্ট পিটার্সবার্গে ফিরে আসেন। আর তত্কালীন বিজ্ঞান ও শিল্পসংস্কৃতির পীঠস্থান পিটার্সবার্গেই শুরু হয় আলফ্রেড নোবেলের শিক্ষা জীবন। নামকরা রসায়নবিদ নিকোলাইয়ের কাছে শিক্ষাগ্রহণ করেন তিনি। রসায়ন ও সাহিত্যপাঠের সঙ্গে সঙ্গে শিখেছেন বিজ্ঞান, দর্শনশাস্ত্র ও বিদেশি ভাষা। এভাবেই ছেলেবেলা থেকে আলফ্রেড বিভিন্ন ভাষায় পরদর্শী হয়ে ওঠেন। তিনি সুইডিশ ছাড়াও ইংরেজি, জার্মান, ফরাসি ও রুশ ভাষা সাবলীলভাবে বলতে পারতেন। ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত নিজ গৃহেই তিনি পড়াশোনা করেন। এর পর বাবা ইমানুয়েল তার সবচেয়ে ভালো ও মেধাবী এই ছেলেটিকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে পাঠিয়ে দেন বিদেশে। দুই বছর ধরে আলফ্রেড সুইডেন, জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ল্যাবরেটারিতে কাজ শেখেন। আলফ্রেডের গৃহশিক্ষক নিকোলাই ছিলেন প্যারিসের বিখ্যাত রসায়নবিদ পেলুজের ছাত্র। ফলে পেলুজের ব্যক্তিগত ল্যাবে কাজ শেখার সুযোগ পান তিনি। সেখানেই ইতালির তরুণ রসায়নবিদ আসকানিয়ো সব্রেরোর সঙ্গে পরিচয় হয় তার। আসকানিয়ো বছর তিনেক আগে আবিষ্কার করেছিলেন চমকপ্রদ বিস্ফোরক পাইরোগ্লিসারিন, যা পরে নাইট্রোগ্লিসারিন নামে পরিচিত হয়। এবার সেন্ট পিটার্সবার্গে ফিরে এসে নাইট্রিক অ্যাসিডকে কীভাবে বশ মানানো যায়, সেই পরীক্ষা শুরু করেন আলফ্রেড। এর মধ্যে ১৮৫৬ সালে ক্রিমিয়ার যুদ্ধ শেষ হয়ে যাওয়ায় বাবা ইমানুয়েলের মাইন তৈরির কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায় এবং তিনি নিঃস্ব হয়ে যান। তিনি ফিরে যান সুইডেনে। পৈতৃক ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য আলফ্রেড এবং তার দুই ভাই থেকে যান সেন্ট পিটার্সবার্গে। তারা এ বিষয়ে পরামর্শ চাইলেন গৃহশিক্ষক নিকোলাইয়ের কাছে। নিকোলাই তখন আলফ্রেডকে মনে করিয়ে দেন—নাইট্রোগ্লিসারিন দিয়ে রাসায়নিক বিস্ফোরক তৈরির সম্ভাবনার কথা। ১৮৯৫ সালে বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেল তার অর্জিত সম্পদ থেকে জনকল্যাণে হিতকর কাজ করার জন্য নোবেল দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করেন। ওই বছরের ২৭ নভেম্বর এ পুরস্কার দেওয়ার জন্য উইল করেন তিনি। জনকল্যাণে হিতকর কাজ করার জন্য আলফ্রেড নোবেল তার সম্পদের মোট ৯৪ শতাংশই পাঁচটি বিষয়ে ভালো কাজের স্বীকৃতি-স্বরূপ পুরস্কার দেওয়ার কথা লিখে যান। তিনি তার উপার্জিত সম্পদ জনকল্যাণে দান করার সিদ্ধান্ত আবেগের বশবর্তী হয়ে এক দিনে নেননি। বহু দিন ধরেই তিনি উইল তৈরি করেন। আলফ্রেড নোবেল তার উইল অনেকবার সংশোধনের পর প্যারিসের সুইডিশ নরওয়েজিয়ান ক্লাবে বসে ১৮৯৫ সালের ২৭ নভেম্বর চূড়ান্ত করেন। অবশেষে ১৮৯৬ সালের ১০ ডিসেম্বর ইতালিতে তিনি মারা যান। আলফ্রেড মারা যাওয়ার পর তার উইল খুলে অনেকেই বিস্মিত হয়েছিলেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নে নিবেদিতপ্রাণ আলফ্রেড নোবেলের প্রতি রইল আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা।