[ নি র্বা চ ন ]

‘আমার ভোট আমি দিব...’

নির্বাচন ব্যাপারটি এখন অনেকটাই স্রেফ তামাশা হয়ে উঠেছে। আগেও নির্বাচন নিয়ে তামাশার খেলা কম হয়নি। বিশেষত জেনারেল জিয়া, জেনারেল এরশাদ প্রমুখ সামরিক শাসকদের আমলে। ভোটারবিহীন নির্বাচন, পাতানো নির্বাচন, ব্লু-প্রিন্টের নির্বাচন, ফরমায়েশি ফলাফলের নির্বাচন ইত্যাদি নানান বাহারি নামের নির্বাচন সে সময় মঞ্চায়িত হতে দেখা গেছে। এসবের বিরুদ্ধে ও অর্থপূর্ণ নির্বাচনের জন্য দেশবাসীকে বহুদিন ধরে বুকের রক্ত দিয়ে সংগ্রাম করতে হয়েছে। নব্বইয়ের জানুয়ারিতে ‘আমার ভোট আমি দিব, যাকে খুশি তাকে দিব’— এই শ্লোগান নিয়ে আমি নিজে ১৯ দিনের পদযাত্রার নেতৃত্ব দিয়ে খুলনা থেকে পায়ে হেঁটে ঢাকা এসেছি। জেল খেটেছি। অগণিত শহীদ বুকের রক্ত ঢেলেছে। তীব্র গণআন্দোলনের মধ্যদিয়ে স্বৈরাচারী এরশাদ শাসনের অবসানের পর নির্বাচনের নামে প্রহসন অনুষ্ঠানের অবসান ঘটতে শুরু করেছিল। কিন্তু এখন সে অর্জনটিকেও ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। সমপ্রতি নির্বাচনে ‘ডবল জালিয়াতি’ করা হয়েছে। তিন মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত পরপর দু’দফায় নির্বাচনের নামে দু’ধরনের দু’টি প্রহসন সংঘটিত হয়েছে। ‘নির্বাচন’ ব্যাপারটি আবার কার্যত অর্থহীন তামাশায় পরিণত হয়েছে। বিপদ ও আশঙ্কার বিষয় এটিই। ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনটি ছিল চতুর রাজনৈতিক চালবাজির মাধ্যমে প্রতিপক্ষ বিএনপিকে ‘বয়কটের’ ফাঁদে ফেলে আওয়ামী লীগের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন একতরফা নির্বাচন। এটি ছিল ‘খালি মাঠে গোল দিয়ে’ জিতে আসার প্রহসন। অনেকটা ‘একজনের মধ্যে ফার্স্ট হওয়ার’ মতো তামাশার ব্যাপার। সব মহলের কাছে শুরু থেকেই সেই নির্বাচনটি ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ থেকেছে। এমনকি আওয়ামী লীগের নেতাদের ভাষায়ও সেটি ছিল ‘নিয়ম রক্ষার’ এবং ‘সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা পূরণের’ নির্বাচন। ১৫৩টি (অধিকাংশ) আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সরকার মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী (!) হওয়ায় এবং অবশিষ্ট ১৪৭টি আসনে ভোটার উপস্থিতি অতি নগণ্য হওয়ায় সরকারের জনসমর্থন কতোটা তা প্রামাণ্যভাবে পরিমাপ করা যায়নি। জনসমর্থনের পরিমাপ প্রশ্নবিদ্ধ হলে সেই নির্বাচন ও নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারও প্রশ্নবিদ্ধ হবে— এটিই স্বাভাবিক। ৫ জানুয়ারির ২ মাসের মাথায় ৫ পর্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে উপজেলা নির্বাচন। এটি ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন। তা ছিল জাতীয় নির্বাচনকে নিয়ে সৃষ্ট ‘প্রশ্নবিদ্ধতা’ নিরসনের অথবা তা প্রমাণের একটি সুযোগ। অবস্থা দাঁড়িয়েছিল এমন যে, সরকার যদি অধিকাংশ উপজেলায় বিজয় নিশ্চিত করতে পারে তাহলে সরকারের পেছনে সংখ্যাধিক্য মানুষের সমর্থন রয়েছে বলে দাবি করার একটি যুক্তিসংগত ভিত্তি রচিত হবে। তেমন হলে সরকার তার বৈধতার দাবিকে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে। অন্যদিকে, সরকারসমর্থিত প্রার্থীরা অধিকাংশ উপজেলায় জয়লাভে অসমর্থ হলে সরকারের বৈধতার নৈতিক ভিত্তি আঘাতপ্রাপ্ত হবে। ফলে, উপজেলা নির্বাচনে যে কোনো উপায়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ‘দেখাতে’ সরকার ছিল মরিয়া। উপজেলা নির্বাচনের প্রথম দু’দফায় তার জনসমর্থনে দুর্বলতার চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠায় সরকার তৃতীয় দফা থেকে জয়লাভের জন্য বেপরোয়া কৌশল গ্রহণ করে। নির্বাচন কেমন হলো— সে বিষয়টি তার কাছে ‘বিজয়ী’ হতে পারার তুলনায় তুচ্ছ বিষয় হয়ে ওঠে। ক্ষমতার রাজনীতির তাত্ক্ষণিক বিবেচনায় নির্বাচনের ন্যূনতম মর্যাদাকে বিসর্জন দেয়া হয়। উপজেলা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে গিয়ে, দলীয় সরকারের অধীনে যে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় সে মর্মে বিএনপির হাতে আওয়ামী লীগ একটি মোক্ষম প্রমাণ তুলে দেয়। ক্ষমতার ইস্যুতে বিজয় ধরে রাখার জন্য আওয়ামী লীগকে বিএনপির কাছে এভাবে অন্য আরেকটি প্রসঙ্গে রাজনৈতিক পরাজয় বরণ করে নিতে হয়েছে। উপজেলা নির্বাচনে নানা ধরনের লাগামহীন জালিয়াতির আশ্রয় গ্রহণ দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের ক্ষেত্রেও বিপদ বয়ে এনেছে। নির্বাচনের মাধ্যমে যে জনমতের প্রতিফলন ঘটার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে সে সম্পর্কে সাধারণ মানুষ প্রায় সম্পূর্ণভাবে আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। অন্যদিকে জালিয়াতির নির্বাচনকে ঘিরে সর্বত্র একটি ‘কাঠামোগত ব্যবস্থা’ ও এক ধরনের সামাজিক মনস্তত্ত্ব এবং সংস্কৃতি দাঁড়িয়ে গেছে। সদিচ্ছা থাকলেও ভবিষ্যতে এসব গণতন্ত্রবিরোধী উপাদান থেকে দেশকে মুক্ত করা সহজ কাজ হবে না। দুই বড় বুর্জোয়া দলের হাতে রাজনৈতিক আধিপত্য বহাল থাকলে দেশকে ‘জালিয়াতির নির্বাচনের’ সাথে সহবাস করে চলতে হবে। দেশে সংঘাত, নৈরাজ্য, অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকবে। নির্বাচনকে জালিয়াতির অধঃপতিত অবস্থা থেকে উদ্ধার করতে হলে এখনই মৌলিক ধরনের সংস্কারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ করণীয় হলো ‘ভোট অনুপাতে আসন’ তথা সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি চালু করা। এ বিষয়ে গত সপ্তাহে লিখেছি। কিন্তু সেটিসহ আরো যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন তার কয়েকটি হলো— এক) ‘ভোট অনুপাতে আসন’ তথা সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি চালু করা। (এ বিষয়ে গত সপ্তাহে বিস্তারিত লেখা হয়েছে। তাই, তা আজ পুনরাবৃত্তি করলাম না।) দুই) নির্বাচনে টাকার খেলা বন্ধ করা: একজন প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা কমিয়ে ৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। ভবিষ্যতে প্রার্থীদের প্রধান নির্বাচনী কর্মকাণ্ডের ব্যয়ভার রাষ্ট্রকে বহন করতে হবে। প্রার্থীদের ছবিসহ পোস্টার, হ্যান্ডবিল, পরিচিতি, ইশতেহার ইত্যাদি নির্বাচন কমিশন থেকে ছাপিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা হলে প্রার্থীদেরকে ব্যক্তিগতভাবে অতি সামান্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হবে। প্রার্থী হওয়ার জন্য জামানতের পরিমাণ সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা করতে হবে। ভোটার তালিকার সিডি কেনার বাধ্যবাধকতা বাতিল করে প্রার্থীদেরকে বিনামূল্যে ভোটার তালিকা সরবরাহ করতে হবে। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় একজন কর্মকর্তাকে প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় মনিটর করতে হবে এবং নির্বাচন কমিশনকে সে সম্পর্কে নিয়মিত রিপোর্ট দিতে হবে। প্রার্থী ও তার পরিবারের সদস্যদের সহায়-সম্পদের পূর্ণ বিবরণী এবং প্রার্থীর নির্বাচনী আয়-ব্যয়ের হিসাব সর্বসাধারণের জ্ঞাতার্থে উন্মুক্ত দলিল হিসেবে রাখতে হবে এবং প্রচার মাধ্যমকে তা সরবরাহ করতে হবে। যেকোনো ভোটারকে এসব বিবরণী ও হিসাবের তথ্য চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ দিতে হবে। নির্বাচনী কাজের আয়-ব্যয়ের হিসাব ৭ দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে এবং তা করতে না পারলে নির্বাচিত সদস্যের শপথ গ্রহণ বন্ধ রাখতে হবে। ঐ বিবরণীর যথার্থতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। আয়-ব্যয় ও সম্পদের মিথ্যা তথ্য প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। তিন) নির্বাচনকে সন্ত্রাস, পেশিশক্তির প্রভাব ও দুর্বৃত্তমুক্ত করা: নির্বাচনে সকল প্রকার বল প্রয়োগ, অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে এবং এ ধরনের ঘটনায় কঠোর শাস্তির বিধান করতে হবে। নির্দিষ্ট মেয়াদে ফৌজদারি দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেয়া যাবে না। কোনো প্রার্থী অথবা রাজনৈতিক দলের পক্ষে পেশিশক্তির মহড়া, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভয়-ভীতি প্রদর্শন, নির্বাচনী কাজে সন্ত্রাসী-অপরাধী ব্যক্তিকে ব্যবহার ইত্যাদি কঠোরভাবে রোধ করতে হবে। চার) নির্বাচনে ধর্ম, সাম্প্রদায়িকতা ও আঞ্চলিকতার অপব্যবহার রোধ করা: নির্বাচনে ধর্মের সর্বপ্রকার অপব্যবহার ও সাম্প্রদায়িক প্রচার-প্রচারণার ভিত্তিতে ভোট চাওয়া নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে। ধর্মীয় উপাসনালয়, মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, মঠ, ওয়াজ মাহফিল, ধর্মসভায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচার, পোস্টার-হ্যান্ডবিল বিলি নিষিদ্ধ করতে হবে। ‘আঞ্চলিকতা’র ধুয়া তুলে প্রচারণা ও ভোট চাওয়া নিষিদ্ধ করতে হবে। পাঁচ) নির্বাচনে সকলের সম-সুযোগ নিশ্চিত করা: পোস্টার, লিফলেট, বৈদ্যুতিক বিজ্ঞাপন, মাইক, নির্বাচনী ব্যানার, দেয়াল লিখন, গেইট নির্মাণ ইত্যাদি বিষয়ে যেসব নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা আছে তা ব্যতিক্রমহীনভাবে পালন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনকেই ‘সুয়োমটো’ ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার দিন থেকে বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় নির্বাচনী কর্মকর্তার মাধ্যমে সকল প্রার্থী ও দলের সমাবেশ, মহাসমাবেশ, র্যালি, জনসভা ও অন্যান্য সকল নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করার ক্ষেত্রে আচরণবিধি ও অন্যান্য বিধি-বিধান মেনে চলা হচ্ছে কিনা তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মনিটরিং ও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এসব প্রতিটি বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানের ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং লঙ্ঘনকারীদের প্রার্থিতা বাতিল করতে হবে। ছয়) নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণে ও নির্বাচন পরিচালনায় স্বচ্ছতা বিধান করা: নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণের জন্য প্রকাশ্য শুনানির ব্যবস্থা আরো স্বচ্ছ, উন্মুক্ত ও কার্যকর করতে হবে। সাধারণভাবে ভোটারের সম-সংখ্যার ভিত্তিতে নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ করতে হবে। প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের তালিকা এবং ভোট গ্রহণ কেন্দ্রের তালিকা নির্বাচনের কমপক্ষে দু’সপ্তাহ আগেই প্রার্থীদের সরবরাহ করতে হবে, যাতে এ বিষয়ে কারো কোনো আপত্তি থাকলে তা নির্বাচনের আগেই নিষ্পত্তি করা যায়। সাত) নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনী আইন ও বিধির সংস্কার করা: নির্বাচন কমিশনকে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও পর্যাপ্ত ক্ষমতাসম্পন্ন কর্মক্ষম সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নসহ যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সেই লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলসমূহ ও দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট, প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি, গণ্যমান্য নাগরিকদের নিয়ে ‘সিলেক্ট কমিটি’ গঠন করতে হবে এবং সেই কমিটির পরামর্শের ভিত্তিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারদের নিযুক্তি প্রদান করার ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে আর্থিকভাবে পরিপূর্ণ স্বাধীন করতে হবে এবং এজন্য বাজেটে এমনভাবে সরাসরি অর্থ বরাদ্দ রাখতে হবে যাতে ঐ অর্থ ছাড় করার ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্তৃত্ব না থাকে। নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণ ও হস্তক্ষেপমুক্ত স্বাধীন সংস্থা হিসেবে নির্বাচন কমিশনের সচিবালয়ের কাজ নিশ্চিত করতে হবে এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে স্বতন্ত্র টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাসহ আধুনিক ব্যবস্থাদিতে সজ্জিত করতে হবে। নির্বাচন কমিশনই তার কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিবে। নির্বাচন কমিশনকে সবসময় বিশেষ করে নির্বাচনের সময় যথেষ্ট সংখ্যক জনবল ও পর্যাপ্ত সাহায্য সরবরাহ করতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে রিটার্নিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার এবং নির্বাচনের নিরাপত্তা বিধানের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়োগের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে। নির্বাচনকালীন সময় নির্বাচন পরিচালনার সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা নির্বাচন কমিশনে ন্যস্ত হবেন। এই সময়কালে তারা কোনো অপরাধ বা কর্তব্যে অবহেলা করলে সেজন্য নির্বাচন কমিশন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে এবং সরকার ও প্রশাসন তা মানতে বাধ্য থাকবে। নির্বাচনী বিধি প্রণয়নের অধিকার নির্বাচন কমিশনের থাকবে। নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের জন্য নির্বাচন কমিশন নির্বাচন এবং অতি গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে এমনকি নির্বাচনী ফলাফলও বাতিল করতে পারবে, আইন লঙ্ঘনকারীদের আটক ও কারাদণ্ড প্রদান করতে পারবে। আট) নারী আসনে সরাসরি নির্বাচন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা: সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা বৃদ্ধি ও সরাসরি ভোটে নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করতে হবে। নয়) প্রতিনিধি প্রত্যাহার করার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা: নির্বাচিত প্রতিনিধি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে এলাকার জনগণ প্রয়োজনে যাতে ওই প্রতিনিধি প্রত্যাহার করতে পারে তার বিধান প্রবর্তন করতে হবে। দশ) ‘না’ ভোটের বিধান যুক্ত করা: কোন প্রার্থীকে পছন্দ না হলে অথবা অন্য কোনো কারণে কোনো ভোটার যদি ভোট দিতে না চান— তাহলে তার সেই অভিমত প্রকাশের জন্য ‘না’ চিহ্নে ভোট দেয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। নির্বাচনকে যেভাবে তামাশা করে তোলা হলো তার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। চলতি ব্যবস্থা অব্যাহত রেখে নির্বাচনের ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। গোটা নির্বাচন ব্যবস্থা ও নির্বাচন পদ্ধতিকে ঢেলে সাজানোর মাধ্যমেই কেবল সেই আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে। সেজন্য আবার কোটি কণ্ঠে গর্জে উঠতে হবে সেই বজ্রনিনাদে— ‘আমার ভোট আমি দিব, যাকে খুশি তাকে দিব।’ এটি এখন খুবই জরুরি। লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি E-mail : selimcpb@yahoo.com