আরেকটা ‘বিরাট’ ইনিংস

ইনিংস শেষে বিরাট কোহলি নিজেকে কী গ্রীক ট্রাজেডির কোনো নায়ক ভাবছেন! শেষ পর্যন্ত দলের ফল যাই হোক আরও একবার ভারতের হয়ে একাই বুক চিতিয়ে লড়াই করে গেলেন। বলার মতো একটা শুরু পেল না তারা, শেষটা হল একেবারে যাচ্ছেতাই। তারপরও ভারত যে মান বাঁচানোর মতো একটা পুঁজি স্কোরবোর্ডে জমা করতে পারলো, তার ষোলো আনা কৃতিত্ব ওই বিরাট কোহলির। অবশ্য ‘কৃতিত্ব’ ব্যাপারটা প্রথম ইনিংস থেকে কাউকে দিতে গেলে সেটা অবশ্যই আগে শ্রীলঙ্কার বোলারদের এবং অধিনায়ক লাসিথ মালিঙ্গাকে দিতে হবে। অসাধারণ বোলিং করে শ্রীলঙ্কান পেসাররা প্রথম ৬ ওভারের পাওয়ার প্লেতে ভারতের বিখ্যাত টপ অর্ডারকে বেধে রাখলেন ১ উইকেটে মাত্র ৩১ রানে; ওভারপ্রতি রান ৫.১৬ করে! আবার শেষ ৪ ওভারে আরও করুণ অবস্থা বানিয়ে দিলেন কুলাসেকেরা ও মালিঙ্গা নিজে। যুবরাজ সিংয়ের দৃষ্টিকটু ব্যাটিং আর লঙ্কান দুই পেসারের নিয়ন্ত্রিত বোলিং মিলিয়ে ভারত শেষ ৪ ওভারে ২ উইকেট খুইয়ে মাত্র ১৯টি রান তুলতে পারলো! আর এর মাঝে ভারতীয় ইনিংসের সবটুকুই ওই ‘বিরাট-গল্প’! গতকাল আরও একটি ফিফটি করে ইনিংসে শেষ বলে আউট হওয়ার আগে নামের পাশে যোগ করে গেলেন ৫৮ বলে ৭৭ রানের ঝকঝকে এক ইনিংস। ৫টি চার ও ৪টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংস খেলে কোহলি আরও একবার প্রমাণ করে দিলেন, কেন তাকে ভারতের নতুন প্রজন্মের কান্ডারি বলা হচ্ছে। এই দূরন্ত ইনিংস খেলার ভেতর দিয়ে আগে থেকেই সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়ে থাকা বিরাট কোহলি এই টুর্নামেন্টে নিজেকে নিয়ে গেলেন স্পর্শের বাইরে। ৬টি ম্যাচ খেলেছেন; তাতে ১০৬.৩৩ গড়ে ৩১৯ রানের অবিশ্বাস্য সংগ্রহ; এর মধ্যে ৪টিই ফিফটি এবং ৩ বার ছিলেন অপরাজিত। দলকে ম্যাচ জেতানোর পথে ৩৬*, ৫৭* ও ৭২* রান করেছেন তিন ম্যাচে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে যেই ম্যাচটাতে আউট হয়ে গিয়েছিলেন সেটাতেও করেছিলেন ৫৪ রান। এ থেকেই বুঝতে পারছেন টুর্নামেন্টে ‘বিরাট-ফ্যাক্টর’টা কিভাবে ভারতকে টেনে এনেছে। ওয়ানডে ক্রিকেটে অনেকদিন ধরেই ভারতের সেরা ম্যাচ উইনার হয়ে আছেন বিরাট কোহলি। ১৩১টি ওয়ানডে ম্যাচেই তার ঝুলিতে আছে ১৯টি সেঞ্চুরি; এর ১৭টিতেই জিতেছে ভারত। এই কদিন আগে এশিয়া কাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে রান তাড়া করতে নেমে ১৩তম বারের মতো সেঞ্চুরি করলেন কোহলি। এর ১২টিতেই জিতেছে ভারত। ভারতীয়দের মধ্যে এক্ষেত্রে তার থেকে এগিয়ে আছেন কেবল লিটল মাস্টার শচীন টেন্ডুলকার। তিনি করেছিলেন ১৪টি ম্যাচ জেতানো সেঞ্চুরি। ম্যাচ জেতানোতে কোহলির দাপটটা আরও পরিষ্কার হবে পরিসংখ্যান দিয়েই। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক কোহলি। আর এই টুর্নামেন্টে ৩১৯ রান করার মধ্য দিয়ে কোন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ রান করা ব্যাটসম্যান হয়ে গেলেন। ২০০৯ সারে শ্রীলঙ্কার তিলকারত্নে দিলশান করেছিলেন ৩১৭ রান। ম্যাচ জেতানো ৪৭টি ইনিংসে ৮৫.৯৬ গড়ে করেছেন ২৮৩৭ রান। কমপক্ষে ১০০০ রান করা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ম্যাচজয়ী ইনিংসে তার থেকে বেশি গড় রয়েছে কেবল মাত্র তিনজন ব্যাটসম্যানের। ১০৩ গড় নিয়ে শীর্ষে আছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। ম্যাচ জেতানোয় ওয়ানডের এই ধারাবাহিকতা টি-টোয়েন্টিতেও ধরে রেখেছিলেন কোহলি; অন্তত গতকালকের আগ পর্যন্ত।