ঘরেও থাকুক
বৈশাখী
ছোঁয়া
প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:১৮
আসছে পহেলা বৈশাখ, এই উত্সবকে ঘিরে শুরু হয়েছে নানা আয়োজন বাঙালির। নিজেকে সাজিয়ে তোলার পাশাপাশি গৃহিণীরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন তাদের গৃহকোণ সাজানোতে। যেহেতু দিনটি ছুটির দিন তাই করতে হয় অতিথি আপ্যায়ন। শুধুই যে অতিথির জন্য তা নয়, অনেকেই এই দিনটিকে বাংলা ঐতিহ্যের আবরণে সাজিয়ে তুলতে চান দৈনন্দিন জীবনে কিছুটা ভিন্নতা আনতে। যেহেতু এই দিনটিতে বাড়িতে থাকে অতিথিদের আনাগোনা, তাই বসার ঘর ও খাবার টেবিলে এই দিনটিতে থাকা চাই বিশেষ সাজ।
যেহেতু বাংলা নববর্ষ মানেই হচ্ছে বাংলা সংস্কৃতির ছোঁয়া তাই এমন দিনে ঘরের চারপাশে থাকতে হবে বাংলার শৈল্পিক নিদর্শন। তাই ব্যবহার করুন দেশীয় অন্দরসজ্জার জিনিসপত্র। বসার ঘরের একপাশে পেতে দিতে পারেন শতরঞ্জি। তার ওপর ছড়িয়ে দিতে পারেন নকশীর কাজ করা কুশন। বৈশাখ মানেই সারি সারি মুখোশ নিয়ে চারুকলার মঙ্গলশোভাযাত্রা, ঘরেও সেই আমেজ আনার জন্য করতে পারেন মুখোশের ব্যবহার। দেয়ালে ঝুলিয়ে দিতে পারেন নকশা আঁকা মুখোশ বা ডালা। মাটির গৃহসজ্জার নানা উপকরণ পাবেন অতি সহজেই আর কম দামে, যা রেখে দিতে পারেন ঘরের এক কোণায়। সন্ধ্যায় জ্বালিয়ে দিতে পারেন মোমবাতি। পহেলা বৈশাখ মানেই যেহেতু লাল-সাদার খেলা, তাই এ সময় সব কিছুর রং বাছাইয়ে প্রাধান্য দিতে পারেন এ দুটি। বৈশাখ বাঙালির একান্তই নিজস্ব সংস্কৃতির উত্সব। তাই অন্দরের সাজে দেশীয় জিনিসের ব্যবহারে সহজেই আনা যায় বৈশাখের আমেজ। বিভিন্ন আকৃতির মাটির পটারিতে রাখা যেতে পারে বিভিন্ন রংয়ের ফুল এবং ইনডোর প্লান্টস। শুধু মাটির পটারিতে নয়, গাছের শিকড় দিয়ে নান্দনিকভাবে তৈরি ফুলদানিতে শোভা পাবে পানিতে রাখা মানিপ্লান্ট। যেকোনো নতুনকেই আমরা ফুল দিয়ে বরণ করি, আর সবুজ আমাদের মনকে ভরিয়ে ফেলে প্রশান্তিতে পুরোনো সব জীর্ণতা বিদায় জানিয়ে ভোরের আলোয় নতুন প্রত্যয় নিয়ে সবাই বরণ করে নতুন বছরটি। ভোরের আলোর প্রতীকরূপে মোমের আলোয় ঘরে আসে মঙ্গল বারতা। সে ক্ষেত্রে একটি মাটির পাত্রে পানি নিয়ে পছন্দমতো ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে তার মধ্যে জ্বালিয়ে রাখুন রংবেরংয়ের মোমবাতি। দেখুন, মোমের আলোর মায়াবিকতায় মুহূর্তেই কেমন পাল্টে গেছে ঘরের পরিবেশ। শুধু মোমের আলোতেই নয়, পুরো জায়গাটিকে আলোকিত করতে করা হয়েছে ল্যাম্পশেডের ব্যবহার। বৈশাখের দিন শুধু বসার ঘরেই নয়, খাবার টেবিলেও থাকা চাই দেশীয় আমেজ। সে ক্ষেত্রে খাবার পরিবেশনে মাটির বাসনের বিকল্প কিছু নেই। মাটির থালা, বাটি, গ্লাস, জগ ইত্যাদি দিয়ে সাজিয়ে নিন খাবার টেবিলটি। টেবিলের মাঝখানে মাটির পাত্রে রাখুন তাজা ফুল। ন্যাপকিনগুলোকে কোণাকৃতিতে ভাঁজ করে রাখুন প্লেটের সামনে। এ ছাড়া বিকেলবেলায় হালকা খাবার পরিবেশনের সঙ্গে খাবার টেবিলের সজ্জাটা হতে পারে অন্য রকম। সে ক্ষেত্রে আদিবাসী থিম ধরে সাজাতে পারেন খাবার টেবিলটি। টেবিলক্লথ হিসেবে বিছিয়ে দিন নীল-কালো রংয়ের সমন্বয়ের থামি। এর ওপরে রানার হিসেবে রাখুন রেশমি সুতার আদিবাসীদের হাতে বোনা ওড়না। আদিবাসীদের তৈরি বাসনকোসনে বিকেলে পরিবেশন করুন খই, মুড়ি, বাতাসা, নিমকিসহ দেশীয় মুখরোচক খাবার। পানি রাখার জন্য লাউয়ের তৈরি বিশেষ ডিজাইনের জগ ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া নারিকেলের মালা দিয়ে তৈরি বাঁশের ট্রেতে একটি মালায় রাখুন তাজা কিছু ফুল, অপর মালায় রাখুন মোমের ছোট ছোট শোপিস। গোধূলির মায়াবি আলোয় দেখুন না কেমন জমে উঠেছে পয়লা বৈশাখের বিকেলের এই আনন্দ আয়োজন। পয়লা বৈশাখের এই দিনটিতে সবকিছুতেই আমরা দেশীয় জিনিসের ব্যবহার করে থাকি। নতুন করে কিছু কিনে নয়, বরং ঘরের মধ্যেই থাকা বিভিন্ন ধরনের দেশীয় লোকজ জিনিসকে একটু এদিক-সেদিক করে গুছিয়ে রেখে পয়লা বৈশাখের এই দিনে ঘরে আনা যায় এক শৈল্পিকতার ছোঁয়া। সেই শৈল্পিকতার পরশে বছরের প্রথম দিনটিতেই আপনার মন ভরে উঠবে সেই বাঙালিয়ানা ভাবে, যা আপনাকে নিয়ে যাবে আমাদের সেই হাজার বছরের লোকজ সংস্কৃতির কাছাকাছি। সব মিলিয়ে দিনটিকে পালন করুন দেশীয় ধারায়। আর শুরু করুন আনন্দ-উত্সবে নতুন বাংলা বছরটি।