বিবির বিরিয়ানি
প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:১৮
বনানীর এক রেস্তোরাঁ কীভাবেই যেন পেয়ে গেল সেই সুস্বাদু খাবারের রেসিপি। এরকমই এক পুরাকাহিনীর আবর্তে গড়ে ওঠা বিবি বিরিয়ানি ঘুরে এসে লিখেছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র ও ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু
এই রেঁস্তোরায় ঢুকতেই কানে ভেসে আসবে মুঘল আমলের সংগীত। কিছুটা আচ্ছন্নতা আরও গ্রাস করে ফেলবে যখন ভেতরের সাজটাতে নজর দেবেন। চেয়ার টেবিল থেকে শুরু করে মাথার উপরের ছামিয়ানা, সবগুলোই নিয়ে যায় যেন সেই সময়টাতে। একটু মানিয়ে নিতেই ওয়েটার চলে আসবে আপনার কাছে। মেন্যু দেখে অবাক হবেন না। খাবার ওই গুটি কয়েকই। আগেই বলেছি, বিবির হাতের সেই ঘরোয়া রেসিপি কেমন করে যেন তারা পেয়ে গেছেন! কাজেই অল্পতেই তুষ্টি আপাতত। বিরিয়ানির একটা সেটই আছে এদের। ৩৮০ টাকায় রীতিমতো উদরপূর্তি করে খেতে পারেন। আর বিশেস আকর্ষণ হলো—এই বিরিয়ানির মধ্যে পেয়ে যাবেন উটের কোফতাও। মজার বিষয় হলো, এত্ত সাজানো বিরিয়ানি আপনি আগে কোথাও দেখেননি হয়তো। সালাদটাও আলাদা প্যাকে, মসলাটাও। পছন্দসই সাজিয়ে নিন নিজেই। খাবার শেষে মিষ্টি না হলে যাদের হয়ই না, তারা বিরিয়ানি মুখে দিয়ে তাকিয়ে থাকবেন গোলাপজামটার দিকেই। কখন
পেটে পড়বে রসালো এই মিষ্টিটা! আসলেই, মিষ্টির স্বাদটাও ভোলার নয় একদমই। এর বাইরে শুধুই বিরিয়ানি অর্ডার করলে ২৬০ টাকাতেই খানাপিনা কমপ্লিট! সকাল ৮টার আগেই খুলে যায় বিবির এই আয়োজন। এদের নাস্তার আয়োজনেও রাজসিক এক ব্যাপার রয়েছে। শ দেড়েক টাকাতেই জাফরানি পুরি, হালুয়া আর লটপটি দিয়ে শুরু হতে পারে কোনো এক মিষ্টি সকাল। আর সন্ধ্যায় বসে কেল্লু কাবাবের বিশেষ এক কাবাব, ‘কাবাব নাইট’! কেমন এই কাবাব, সেটা আপনার বিচারের উপরেই ছেড়ে দিলাম। কাবাব খাওয়ার জন্য রয়েছে খোলা হাওয়ায় বসার ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে গোটা চল্লিশেক মানুষ নিয়ে হাজির হলেও বিবি আপনাকে না করবে না। রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। সায়মন ইমরান হায়দার হলেন সেই তরুণ, যিনি এই বিবির বিরিয়ানির স্বপ্নদ্রষ্টা। ক’দিন হলো যাত্রা শুরু, তবে স্বাদের ভিন্নতাই বিবির বিরিয়ানিকে দেবে আলাদা পরিচয়। এমন চেষ্টাই করছেন সায়মন ইমরান হায়দার।
এক নজরে
কোথায় :বাসা-২৮, সড়ক-১৭/এ, ব্লক-ই, বনানী, ঢাকা
কবে যাবেন :যেকোনো দিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টার আগে গেলেই হবে।
কী খাবেন :উটের বিরিয়ানি, আর অবশ্যই গোলাপজাম। পারশিয়ান শরবতটাও সাথে রাখতে পারেন।
ব্যবস্থাপক বলেন :আমাদের আভিজাত্যের প্রতীক এই বিরিয়ানির মানের পসারের জন্যই তার এই উদ্যোগ। স্বাস্থ্যসম্মত তো বটেই, জিভে জল আনা এই স্বাদগুলো বাঙালিয়ানারই ষোলোআনা বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করেন তিনি।
যোগাযোগ :০১৯৭০০০০৯০৭।