তরুণ সমাজ কি হতাশ

বাধা সত্ত্বেও এগিয়ে যাচ্ছে তরুণ সমাজ তারুণ্য শক্তি, তারুণ্য জয়। এই মন্ত্রে দীক্ষিত তরুণ সমাজ। তরুণ সমাজের উপর নির্ভর করে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠনে তরুণ সমাজ বদ্ধপরিকর। তরুণরা উদাহরণ সৃষ্টি করে গেছে, যেগুলো ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। দেশের চলমান উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করে দারিদ্র্য মোকাবিলায় মানব সম্পদ হিসাবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে তরুণ সমাজ। কিন্তু তরুণ সমাজের বিরাট একটা অংশ বেকার ও হতাশ। রাজনৈতিক কারণ, অযৌক্তিক কোটা পদ্ধতি, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, দুর্নীতি ইত্যাদির কারণে তারা মেধানুযায়ী চাকরি থেকে বঞ্চিত। ফলে দেশ তরুণ মেধাবীদের শাসন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমাদের উন্নয়নের গতিধারা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে আশার কথা এই যে, সব বাধা উপেক্ষা করে এগিয়ে যাচ্ছে তরুণ সমাজ। মো. ফজলুল করিম (আবিদ) বি.এড (অনার্স), ১ম বর্ষ সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ঢাকা আজকের তরুণ আগামীর অরুণ তরুণরাই হলো একটা দেশ বা জাতির উজ্জ্বল ভবিষ্যত্। আজকের তরুণ সমাজ হবে আগামীতে জাতির কর্ণধার। তাইতো জাতীয় কবি “যৌবনের গান” প্রবন্ধে তারুণ্যের জয়গান করেছেন। আরব সমাজ যখন জাহেলিয়ার তমসায় নিমজ্জিত ছিল তখন তরুণ সমাজের “হিলফুল ফুজুলের” মাধ্যমে আরবের মানুষ শান্তির নীড় খুঁজে পায়। আজও আমাদের তরুণ সমাজের উদ্যমতায় সোনার বাংলাদেশের সার্বিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন সূচিত হতে পারে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের তরুণ সমাজ আজ দিকভ্রান্ত, পথহারা পথিকের ন্যায়। তারা আজ নৈতিক অবক্ষয়ের শিকার। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে আজ মাদকদ্রব্য পৌঁছে যাচ্ছে। তরুণ সমাজ ধ্বংস হলে একটা দেশ ধ্বংস হতে বাধ্য। তরুণ সমাজের অবক্ষয় একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য এক অশনি সংকেত। পিতামাতা, অভিভাবক ও সরকারের প্রতি অনুরোধ—আসুন আমরা আমাদের তরুণদের নৈতিক অবক্ষয় থেকে বাঁচাতে আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করি। এইচ.এম. দিদারুল ইসলাম আলহাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া-৭০০৩ হতাশ তরুণ প্রজন্মকে দেশের ভবিষ্যত্ কান্ডারী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে তরুণরাই হল দেশের প্রাণশক্তি। এরাই আগামী দিনের দেশের কান্ডারী। অথচ আমাদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার গলদের কারণে তরুণরা হয়েছে ধ্বংসের প্রতীক। প্রতিদিন পত্রিকার পাতা উল্টালে আমরা দেখতে পাই আমাদের তরুণদের অপকর্মের সুদীর্ঘ তালিকা। তারা আজ হতাশাগ্রস্ত। চারদিকে অপসংস্কৃতির ভয়াবহ বিস্তারের কারণে তরুণরা আজ তাদের নৈতিক মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলছে। ফলে তারা বিভিন্ন অপরাধে যুক্ত হয়ে পড়েছে। তাছাড়া আমাদের দেশের হানাহানির রাজনীতি তরুণ প্রজন্মকে দারুণ হতাশ করেছে। হিংসা, হানাহানি, রক্তারক্তি প্রভৃতির ভয়ংকর চর্চা আমাদের রাজনীতিকে কলুষিত করেছে। এই ভয়াবহতার হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে প্রয়োজন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে আমাদের জাতীয় উন্নয়ন কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করা। পাশাপাশি আমাদের সংস্কৃতি ও রাজনীতিকে কলুষমুক্ত রাখতে হবে। তাহলেই তরুণ প্রজন্ম হতাশা থেকে মুক্ত হয়ে দেশের উন্নয়নে সত্যিকার কান্ডারী হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারবে। আয়াজ বিল্লাহ, প্রথম বর্ষ, পশুপালন অনুষদ, ফজলুল হক হল, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য তরুণরা আজ হতাশ আমাদের দেশের সকল সরকার তরুণ সমাজ নিয়ে ভাবে। তারাই আবার তরুণ সমাজকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। দেশের বৃহত্তম দুটি রাজনৈতিক দল তরুণ লীগ ও তরুণ দল প্রতিষ্ঠা করছেন। অনেক তরুণ যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান না পাওয়ায় তারা অর্থ উপার্জনের জন্য হত্যা, ছিনতাই, মারামারি, খুনাখুনি করতে বাধ্য হচ্ছে। রাজনৈতিক নেতারা তাদেরকে অপব্যবহার করে। দেশের অসহায় হতাশ তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে দেশের সরকারসহ সমাজের সকল শ্রেণির জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। এজন্য দেশে সুষ্ঠু রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যবস্থা করতে হবে এবং আদর্শ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সরকারসহ সকল জনশক্তিকে তরুণদের স্বার্থে তালগাছ বড়টা আমার এই মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। মো. আল আমিন মল্লিক সম্মান ৪র্থ বর্ষ, মার্কেটিং বিভাগ সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ, বরিশাল