প্রকৃতির মধুর প্রতিদান
প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০১৪, ২১:১৩
এবার ঢাকায় যেন দুঙ্গার ভূমিকাতে আবির্ভূত হলেন মালিঙ্গা। তবে দুঙ্গা হোন আর চান্দিমাল; ১৯৯৬ সালের পর এই ট্রফিটা শ্রীলঙ্কায় গেল আসলে নিয়তির অন্য এক খেলায়। যে খেলার কথা সেমিফাইনালের পরে বলে গিয়েছিলেন ড্যারেন স্যামি—সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা!
টি-টোয়েন্টি খেলাটা একদমই পছন্দ করেন না ভদ্রলোক। প্রশাসক হিসেবে, সমালোচক হিসেবে এই ফরম্যাটের দৌরাত্ম্য নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করেছেন সম্ভবত তিনিই; সে জন্য বেশ মূল্যও দিতে হয়েছে। তারপরও টি-টোয়েন্টির ভালোবাসায় নিজেকে জড়াতে পারেনি।
কিন্তু রবিবার রাতের কী কয়েক ঘণ্টার জন্য হলেও এই খেলাটিকে ভালোবেসে ফেলেননি তিনি? এই রাতে কী অপছন্দের খেলাটিই তার চোখে একটু আনন্দের জল এনে দেয়নি?
নিশ্চয়!
সারা জীবন টি-টোয়েন্টিকে ঘৃণা করে গেলেও এই একটা রাত এই খেলাটি দেখে নিশ্চয়ই সোনালী সেই অতীতে ফিরে গিয়েছিলেন অর্জুনা রানাতুঙ্গা। ফিরে না গিয়ে উপায় নেই। ১৮ বছর পর তার উত্তরসূরীরা যে আরেকবার শ্রীলঙ্কা নামের দ্বীপটাকে ভাসালো বিশ্বজয়ের আনন্দে!
পুরো ব্যাপারটা একটু বিস্ময়কর। রানাতুঙ্গার পর শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে অধিনায়ক কম আসেননি। অরবিন্দ ডি সিলভা, হাসান তিলকরত্নে, সনথ জয়াসুরিয়া, মারভান আতাপাত্তু, তিলকরত্নে দিলশানের মতো অধিনায়ক দায়িত্ব নিয়েছেন; দায়িত্ব শেষ করেছেন। কেউই বিশ্বকাপ জয়ের সেই স্বপ্নের আশেপাশে যেতে পারেননি।
সেই স্বপ্নের হাত ছোঁয়া দূরত্বে গিয়েছিলেন রানাতুঙ্গা-ডি সিলভাদের পরের প্রজন্মের দুই কিংবদন্তী মাহেলা জয়াবর্ধনে ও কুমার সাঙ্গাকারা; একবার নয়, অধিনায়ক হিসেবে দুই দুটি করে ভিন্ন ভিন্ন ফরম্যাটের বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেছেন সাঙ্গাকারা ও জয়াবর্ধনে।
কিন্তু এই কিংবদন্তীরা কেউ নন, নন ম্যাথুস বা চান্দিমালের মতো ‘ভবিষ্যত্’রাও; শেষ পর্যন্ত রানাতুঙ্গার পর আরেকটি বিশ্বকাপ কে জিতলেন! লাসিথ মালিঙ্গা।
মালিঙ্গার এই বিশ্বকাপ জয়কে চাইলে ১৯৯৪ সালে ব্রাজিলের হয়ে দুঙ্গার বিশ্বকাপ জয়ের সঙ্গে তুলনা করতে পারেন। রাই অধিনায়ক হয়ে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ খেলতে। তর্কসাপেক্ষে ফর্মের কারণে দল থেকে বাদ পড়েন রাই এবং অধিনায়কত্ব পান দুঙ্গা। সেই দুঙ্গা ব্রাজিলকে মিটিয়েছিলেন ২৪ বছরের ট্রফিখরা।
এবার ঢাকায় যেন দুঙ্গার ভূমিকাতে আবির্ভূত হলেন মালিঙ্গা।
তবে দুঙ্গা হোন আর চান্দিমাল; ১৯৯৬ সালের পর এই ট্রফিটা শ্রীলঙ্কায় গেল আসলে নিয়তির অন্য এক খেলায়। যে খেলার কথা সেমিফাইনালের পরে বলে গিয়েছিলেন ড্যারেন স্যামি—সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা!
আসলে এই ইচ্ছা না দেখিয়ে সৃষ্টিকর্তারও যেন আর উপায় ছিল না। বড়ই অবিচার হতে চলেছিল শ্রীলঙ্কান দুই কিংবদন্তী মাহেলা জয়াবর্ধনে ও কুমার সাঙ্গাকারার প্রতি। রানাতুঙ্গা উত্তর যুগে শ্রীলঙ্কাকে এক অসাধারণ দলে পরিণত করেছিলেন এই দুই ব্যাটিং কিংবদন্তী। সাফল্য পেতে যা করা দরকার, সবই করেছেন। চার চারবার আইসিসি আয়োজিত টুর্নামেন্টের ফাইনালে নিয়ে গেছেন দলকে। কিন্তু শিরোপাটা কিছুতেই স্পর্শ করা হচ্ছিল না।
এই অবস্থায় ক্রিকেটভক্তরা বরং একটু অবাকই হচ্ছিলেন—তাহলে সাঙ্গা, মাহেলাই কী ক্রিকেটের বিরলতম সেই গ্রেট হবেন, যাদের হাতে কোনো আইসিসি ট্রফি থাকবে না!
শচীন টেন্ডুলকার থেকে শুরু করে ব্রায়ান লারা; আজ পর্যন্ত আধুনিক ক্রিকেটের কোনো গ্রেটই এতোটা শূন্য হাতে বিদায় নেননি। তাহলে ক্রিকেট নিয়তি এখানেই কেন নিষ্ঠুরতা দেখাবে?
না, ক্রিকেট নিয়তি মুচকি হেসেছেন।
একেবারে দুই গ্রেটের ক্যারিয়ারের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই এসে তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন একটি বিশ্বকাপ ট্রফি। হোক সে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ; একটা ট্রফি হাতে তো বিদায় নিলেন গ্রেটরা। একে কী বলবেন?
পোয়েটিক জাস্টিস!