যুবরাজের পাশে ধোনি
প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৪৩
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গতকাল উল্লসিত ভারতীয় দলের একটি ছবি বেশ প্রচারণা পায়। ছবির নিচে লেখা ছিল, ‘যুবরাজ আউট হবার পরে ভারতীয় দলের প্রতিক্রিয়া।’ নিশ্চিত ভাবেই এই ছবির কোন বাস্তব ভিত্তি নেই। কিন্তু যুবরাজ আউট হবার পরে তার সতীর্থ কিংবা ভারতের কোন সমর্থক যদি উল্লাস করেও থাকেন, তাকে হয়তো দোষও দেয়া যাবে না। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেটে এসে ২১ বলে মাত্র ১১ রান করার পাশাপাশি বিরাট কোহলিকে স্ট্রাইকও বঞ্চিত করেছেন এই বাঁহাতি। আর তার ফলাফল হচ্ছে হাতে ছয়টি উইকেট নিয়েও ২০ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ ১৩০!
শ্রীলঙ্কার কাছে শিরোপা খোয়ানোর পর রাতেই ক্ষ্যাপা একদল সমর্থক মিছিল করে যুবরাজের চন্ডিগড়ের বাসার সামনে। ঘটে পাথর নিক্ষেপের ঘটনাও। দীর্ঘদিনের সতীর্থের এই দু:সময়ে তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি।
যুবরাজের ঐ ইনিংসের পর বোঝাই যাচ্ছিল ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বেশীরভাগ প্রশ্নই আসবে যুবরাজকে কেন্দ্র করে। শেষ পর্যন্ত হয়েছেও তাই।
যুবরাজের ঐ ইনিংসই ভারতকে পরাজয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে,‘এটা দলীয় একটা খেলা। কোন ব্যক্তি বিশেষকে নিয়ে আলোচনা হওয়াটা উচিত নয়’ বলে এড়িয়ে যেতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত ধোনিকে কথা বলতেই হয়েছে যুবরাজের বিষয়ে।
সমর্থক-বোর্ড কিংবা সতীর্থ নয় কোন খেলোয়াড় যখন খারাপ করেন তখন সেটা তাকেই বেশি কষ্ট দেয় জানিয়ে ধোনি বলেন, ‘আপনারা জানতে চেয়েছেন ভক্তদের খারাপ লাগা কিংবা তাদের অনুভূতির কথা। আমি আপনাদের একটি কথা বলতে পারি। একজন খেলোয়াড় যখন খারাপ খেলেন তখন তার চেয়ে বেশি খারাপ আর কারো লাগে না। সুতরাং, ভক্তদের চাইতে সেই বেশি হতাশ। এর কারণ হচ্ছে, খেলোয়াড়কে সবসময়ই এগুলোর ভেতর দিয়ে যেতে হয়। তাকে সবসময়ই প্রত্যাশার চাপটা অনুভব করতে হয়। আমার মনে হয় এ বিষয়ে খুব বেশি কিছু বলার নেই। হ্যাঁ, ভক্তরা হয়তো হতাশ। তবে আপনাকে ঐ খেলোয়াড় সম্পর্কেও ভাবতে হবে।’
সবাই নিজের সেরাটা ঢেলে দিতেই মাঠে নামে জানিয়ে বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক আরো বলেন, ‘ক্রিকেটে কেউই খারাপ খেলার জন্য মাঠে নামে না। ৪০ হাজার দর্শকের সামনে কেউ একটা ক্যাচ ছাড়তে চায় না। চায় না একটা মিস ফিল্ডিং করতেও। এটা আসলে খেলারই একটা অংশ। এটা শুধু ক্রিকেটার নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বেশ কিছু খেলোয়াড়ের সাথেই আমরা এটা ঘটতে দেখেছি। এ বিষয়ে আসলেই কথা বলার কিছু নেই। যুবরাজ তার সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই করেছে। তাছাড়া আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে, ঐ মুহূর্তে উইকেটে গিয়েই মেরে খেলাটা মোটেই সহজ ছিল না।’
যুবরাজের ব্যর্থতা নয়, বরং ঐ সময়ে লঙ্কানদের অসাধারণ বোলিংই ভারতের রানের চাকা থমকে দিয়েছিল জানিয়ে ধোনি বলেন, ‘আপনাকে লঙ্কান বোলারদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। তারা দারুণ কৃতিত্বের সাথে তাদের পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করেছে। তারা চাচ্ছিল অফ স্টাম্পের অনেকটা বাইরে ইয়র্কার মারতে। আর বলগুলো ঠিক তাই হচ্ছিল। আমার যদ্দুর মনে পড়ে পুরো ম্যাচে তারা হয়তো একটা ওয়াইড দিয়েছিল। ঐ বিষয়টি বাদ দিয়ে পুরো ম্যাচেই তারা ছিল সঠিক পথে। এটা আমাদের ব্যাটসম্যানদের রান করাটা আরো কঠিন করে তোলে।’