নমনীয় গ্যাজেট তৈরিতে গ্রাফিন সংশ্লেষণের নতুন পদ্ধতি

গ্রাফিনের সম্ভাবনা জানার পর থেকেই বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা গ্রাফিনকে সহজভাবে ব্যবহারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে সিলিকনের বিকল্প হিসেবে গ্রাফিনের ব্যবহার প্রযুক্তি বিশ্বে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে বলেই ধারণা প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের। সবচাইতে শক্তিশালী পদার্থ হিসেবে গ্রাফিনের পুরুত্ব অবিশ্বাস্যভাবে কম হওয়ায় এটি ব্যবহার করে নমনীয় গঠনের বিভিন্ন ডিভাইস ও গ্যাজেট তৈরির সম্ভাবনার কথাও বলে আসছেন গবেষকরা। গত কয়েক বছরে গ্রাফিন নিয়ে অব্যাহত গবেষণার ফলাফল হিসেবে প্রযুক্তি বিশ্ব গ্রাফিনের ব্যবহারের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে বলেও ধারণা প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের। তবুও বাণিজ্যিকভাবে গ্রাফিনকে ব্যবহারের বেশকিছু সীমাবদ্ধতা এতদিন পর্যন্ত অতিক্রম করতে সক্ষম হননি তারা। এবারে দক্ষিণ কোরিয়ার টেক জায়ান্ট স্যামসাং জানিয়েছে, গ্রাফিন সংশ্লেষণের এমন এক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে তারা, যার মাধ্যমে এবারে গ্রাফিনের সকল সম্ভাবনাময় ব্যবহারের বাস্তবায়ন ঘটানো আর দূরের কোনো বিষয় নয়। সাংকিউনকোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যৌথভাবে কাজ করে আসা স্যামসাং অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এসএআইটি) গবেষকরা এই উদ্ভাবনে সক্ষম হয়েছেন। গ্রাফিন সংশ্লেষণে সাধারণত মাল্টি-ক্রিস্টাল সংশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহূত হলেও এতে করে গ্রাফিনের ইলেক্ট্রিক্যাল এবং মেকানিক্যাল ধর্মগুলো অনেকটাই হ্রাস পায়। এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে স্যামসাংয়ের গবেষকরা দ্বারস্থ হয়েছেন সিঙ্গেল ক্রিস্টাল পদ্ধতির উপর। আর তাতেই সাফল্য লাভ করেন তারা। এর ফলে বাণিজ্যিকভাবে সিলিকনের বদলে গ্রাফিনের ব্যবহার শুরু হওয়াকে সময়ের ব্যাপার বলেই মনে করছে স্যামসাং। আর সেটা করতে পারলে নমনীয় গ্যাজেট তৈরিতে সক্ষম হবে তারা। স্মার্ট হাতঘড়িসহ অন্যান্য পরিধেয় প্রযুক্তি পণ্যগুলোও তৈরি এর মাধ্যমে অনেক বেশি সহজ হয়ে উঠবে। স্যামসাং গবেষকদের এই উদ্ভাবনের কথা জানাতে গিয়ে এসএআইটি ল্যাবের একজন সদস্য জানান, ‘গ্রাফিন নিয়ে এতদিন পর্যন্ত যত গবেষণা হয়েছে, তার মধ্যে এটি অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ একটি অর্জন। আমরা আশা করছি, এই উদ্ভাবনের ফলে গ্রাফিনের বাণিজ্যিক ব্যবহারের পথ প্রশস্ত হবে। আর তাতে করে ভোক্তা পর্যায়ের প্রযুক্তি পণ্যে এক বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।’