শিক্ষাখাতে চাই বাড়তি বরাদ্দ ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা

বাজেট পূর্ব আলোচনা সভায় বক্তারা শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে আসন্ন ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এ খাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পক্ষে মত দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘শিক্ষার বাজেট, বাজেটের শিক্ষা’ শীর্ষক আলোচনায় তারা বলেন, শুধু অর্থ দিয়ে হবে না, অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য অনুত্পাদনশীল খাতে বরাদ্দ কমাতে হবে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণসাক্ষরতা অভিযান এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। বক্তারা শিক্ষার সকল স্তরে বৈষম্য দূর করার দাবি জানান। তারা বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য থাকলে শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের ভাইস চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদের সভাপতিত্বে পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম, টিআইবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ প্রমুখ আলোচনা সভায় অংশ নেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী। ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ শিক্ষা ক্ষেত্রে বাজেট বৃদ্ধি দাবি জানিয়ে বলেন, এ খাতে প্রয়োজন অনুসারে অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে। এক্ষেত্রে শুধু অর্থ নিশ্চিত করলে হবে না, বরং অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা প্রশাসনকে আরো ব্যাপকভাবে ঢেলে সাজাতে হবে, শিক্ষাকে বিকেন্দ্রিকরণ করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, শিক্ষাখাতে অর্থ বাড়ানোর পাশাপাশি এর সদ্ব্যবহার করতে হবে। ড. এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য অনুত্পাদনশীল খাতে বরাদ্দ কমাতে হবে। এ ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন ও প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ কমানো যায়। সরকারের ওপর চাপ কমাতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতনও বাড়ানোর পক্ষে মত দেন তিনি। অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, ধনী ও অনুত্পাদনশীল খাত কর আদায় করে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ানো যেতে পারে। তবে শিক্ষার মানোন্নয়নে বেশি ব্যয় করতে হবে। আলোচনা সভায় বক্তারা শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন ও শিক্ষা আইন প্রণয়নে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানান।