চিকিত্সা
হোমিওপ্যাথির কার্যকারিতা ও গবেষণা
প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৩৬
জীবনদায়ী ওষুধগুলো আজ আধুনিক বিজ্ঞানীরা একটির পর একটি আবিষ্কার করছেন আর তাদেরই বিস্ময়কর অতীতের সৃষ্টিকে অবহেলা করে যাচ্ছেন। শুধু অবহেলাই নয়, সাঙ্ঘাতিক ক্ষতিকর ওষুধরূপে কোনোটিকে গণ্যও করছেন। অন্যদিকে একদল আধুনিক বৈজ্ঞানিক হোমিওপ্যাথিক পদ্ধতিকে অবৈজ্ঞানিক চিকিত্সা পদ্ধতিরূপে গণ্য করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। তাদের মতে, হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সায় দুশো বছর আগের সেই নাক্সভুম, সালফার, লাইকোপডিয়ম ইত্যাদি ওষুধগুলো আজও চলছে এবং সেগুলোর পরিবর্তে কোনো নতুন ওষুধ আবিষ্কৃত হচ্ছে না। আবার কেউ কেউ প্রশ্ন করেন, অ্যালোপ্যাথির মতো হোমিওপ্যাথিতে ক্যান্সার, এইডস ইত্যাদি রোগের চিকিত্সার নতুন ওষুধ কেউ আবিষ্কার করার জন্য গবেষণা করছেন না কেন? এই সকল উত্তরে অবশ্যই স্বীকার করে নেয়া উচিত যে, হোমিওপ্যাথিতে অনেককিছু থাকলেও এখনও গবেষণার এবং নতুন আবিষ্কারের প্রয়োজন বিশেষভাবে রয়েছে।
তবে এই প্রসঙ্গে সান্ত্বনা কিছুটা রয়েছে, সেটা হচ্ছে হোমিওপ্যাথিতে যে অমূল্য সম্পদ নতুন গবেষণা ছাড়াই এখনও পর্যন্ত যতটা পাওয়া গেছে তার প্রকৃত মূল্যায়ন আজ পর্যন্ত হয়নি এবং অনেকেই উপযুক্তভাবে এই সম্পদ কাজে লাগাতে সক্ষম হননি। হোমিওপ্যাথিক ওষুধে আজও ক্যানসার, এইডস এবং অন্যান্য দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিত্সা করা বা আরাম দেয়া এই পুরাতন সম্পদ দ্বারাই অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হতে পারে। নতুন গবেষণার এবং ওষুধের প্রয়োজন হোমিওপ্যাথিতে থাকলেও অ্যালোপ্যাথির মতো অতীতের ওষুধগুলোকে বাতিল করে নয়। কারণ অনেকেই জানেন যে, প্রকৃতির উত্স থেকে পাওয়া যে কোনো উদ্ভিদ, খনিজ দ্রব্য বা প্রাণীজ বস্তু চিরকালই প্রায় একই রকম গুণের বা অপগুণের অধিকারী থাকবে। নিমগাছের যে ধর্ম বা গুণ সেটা চিরকালই প্রায় একই রকম থাকবে যতদিন পৃথিবীর বুকে নিমগাছ থাকবে। নিমগাছের নিজস্ব গুণ বা বৈশিষ্ট্যকে বাতিল করে অন্য কোনো উদ্ভিদকে প্রতিকল্পরূপে বা বিকল্পরূপে পাওয়া যাবে না। প্রকৃতির নিয়মেই এটা ঘটে।
প্রকৃতির পরিবেশের দূষণ ও পরিবর্তনের ফলে মানুষ আজ যে ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে সেগুলোর চিকিত্সা আধুনিক অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের দ্বারা করার ফলে আরও জটিল হয়ে পড়েছে। আধুনিক জীবনদায়ী ওষুধ এ সকল রোগীর পরমায়ু বাড়িয়ে তুললেও প্রকৃত স্বাস্থ্য ও সুস্থ শরীর লাভ এ সকল ক্ষেত্রে হচ্ছে না। হোমিওপ্যাথির স্রষ্টা ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যান বলে গেছেন—ওষুধের অপব্যবহারে যে সকল জটিল রোগ সৃষ্টি হয় সেগুলোকে আরোগ্য করা খুবই কঠিন কাজ। তবু প্রতিটি হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সকের কাছে ঐ সকল রোগী আজ রোগমুক্তির আশা নিয়ে অসহায় অবস্থায় আসছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের রোগমুক্ত সম্পূর্ণভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই আজ আধুনিক বিজ্ঞানের অভিশাপে সৃষ্টি হওয়া কৃত্রিম রোগগুলোকে কিছুটা নিরাময় করতে যথাসময়ে একমাত্র প্রকৃতি নির্ভর চিকিত্সা পদ্ধতি হোমিওপ্যাথির সাহায্য গ্রহণ করতে হবে। নচেত্ মানুষ আরও বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে ধনে-প্রাণে বিনাশ হবে।
ডা. হ্যানিম্যান কেবল রোগ চিকিত্সা ক্ষেত্রে নয়, রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে প্রকৃতি নির্ভর কিছু হোমিওপ্যাথিক বিধানের কথাও বলে গেছেন। বংশানুক্রমিক রোগ যথা সর্দি-কাশি, হাঁপানি, বহুমূত্র, বাত, কিডনি রোগ, ক্যানসার, হূদরোগ ইত্যাদি ক্ষেত্রে ধাতুগত হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সায় সন্তানদের মধ্যে রোগগুলোর সংক্রমণ এবং তীব্রতা হ্রাস অবশ্যই করা যেতে পারে। হোমিওপ্যাথিতে বিভিন্ন সংক্রামক রোগের প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট যেসব ওষুধ রয়েছে সেগুলো নিয়েও যথেষ্ট গবেষণার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া যেকোনো রোগের মহামারীর সময় যে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ অধিকাংশ রোগীর চিকিত্সায় কার্যকর হয় সেই ওষুধ সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে এই রোগ প্রতিরোধ করার ব্যবস্থা হোমিওপ্যাথিতে যেটা রয়েছে সেই নিরাপদ প্রাকৃতিক ব্যবস্থা নিয়েও সরকারি গবেষণার বিরাট সুযোগ রয়েছে। সোয়াইন ফ্লু-র মতো নতুন নতুন ব্যাধিগুলোর জন্য হোমিওপ্যাথিকের ভাণ্ডারে যে সকল ওষুধ ইতিমধ্যেই সঞ্চিত রয়েছে সরকারি উদ্যোগে গবেষণার মাধ্যমে সে সকল ওষুধের কার্যকারিতা যাচাই করা যায়।
লেখক :সাংবাদিক