চালু হচ্ছে আইসিসি টেস্ট চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের ভবিষ্যত্ পরিষ্কার করলো না আইসিসি!

তিন মোড়লের সংস্কার নিয়ে বিশেষ আলোচনার জন্য আইসিসির সিঙ্গাপুর সভাশেষে আভাষ দেয়া হয়েছিল, ১১তম টেস্ট খেলুড়ে দেশের আবির্ভাব ঘটতে পারে ক্রিকেটে। এটা মূলত করা হয়েছিল, বাংলাদেশ ‘রেলিগেশন’ পদ্ধতিতে আপত্তি করায়। প্রাথমিক খসড়া অনুযায়ী র্যাংকিংয়ের সর্বনিম্ন দল হিসেবে বাংলাদেশকে খেলতে হত এই ‘আইসিসি টেস্ট চ্যালেঞ্জ’। এখানে হারলে বাংলাদেশকে চার বছরের জন্য টেস্ট থেকে ছিটকে যেতে হত। বাংলাদেশ আপত্তি করায় ‘রেলিগেশন’ শব্দটা তুলে ফেলেছে আইসিসি। কিন্তু গতকাল শেষ হওয়া দুবাই সভায় এই বিষয়টা আরো ধোঁয়াশাময় করে ফেলা হল। ‘আইসিসি টেস্ট চ্যালেঞ্জ’ নামে একটি প্লে-অফ টেস্ট সিরিজের পরিকল্পনা কাল পাস হয়েছে। কিন্তু তার চূড়ান্ত ফলাফল কী, সেটা অন্ধকারেই রেখে দিয়েছে আইসিসি। বলা হচ্ছে ২০১৮ সালে টেস্টের শেষ দলটি এবং ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপের চ্যাম্পিয়ন দলটি একটি হোম ও অ্যাওয়ে সিরিজ খেলবে। কিন্তু এই সিরিজে হারলে টেস্ট খেলুড়ে দলটির কী হবে এবং জিতলে সহযোগী দেশটি কী পাবে; তা কিছু বলা হল না। ফলে বাংলাদেশের টেস্ট থেকে সরে যাওয়া বা ১১তম দেশের আবির্ভাব অথবা কোনোটাই না; তিন সম্ভাবনাই জিইয়ে থাকলো! সিঙ্গাপুরে তিন মোড়লের প্রস্তাবনা নিয়ে বিশেষ সভার পরই বোঝা গিয়েছিল, তাদের তৈরি করা সংস্কার পাস হতে আর বিলম্ব হতে না। যে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকা শুরুতে সংস্কারের বিপক্ষে ছিল, তারাও প্রকাশ্যে আর্থিক অসহায়ত্বের কথা বলে এই সংস্কারে একমত হয়েছে। ফলে গতকাল শেষ হওয়া সভায় আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া আর কিছুই বাকী ছিল না। আইসিসির এই নতুন সংস্কারের মধ্যে আর্থিক ও প্রশাসানিক কাঠামো যে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের হাতে চলে যাচ্ছে, সে ব্যাপারে অবশ্য আইসিসির পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল কিছু বলা হয়নি। বলা হয়নি এই তিন দেশের আধিপত্য নিয়ে গঠিত হতে যাওয়া এক্সকো সম্পর্কেও। তবে সহযোগী দেশগুলোর টেস্ট খেলার নতুন উপায়, নতুন ধরনের ভবিষ্যত্ সফরসূচী, পরবর্তী আইসিসি বিশ্বকাপের কাঠামো এবং ক্রিকেট কমিটি নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ‘আইসিসি টেস্ট চ্যালেঞ্জ’ নামে প্রতি চার বছর বাদে বাদে হবে একটি হোম ও অ্যাওয়ে সিরিজ। সর্বনিম্ন র্যাংকিংয়ের টেস্ট দল ও আইসিসির ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ (আইসি কাপ) জয়ী দলের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য এই সিরিজ দুটিকে বলা হচ্ছে টেস্ট খেলার নতুন পথ! এই নিয়ম অনুযায়ী ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর যে দলটি টেস্ট র্যাংকিংয়ের ১০ নম্বরে থাকবে তারা দুই টেস্টের একটি হোম ও একটি অ্যাওয়ে সিরিজ খেলবে তখনকার আইসি কাপজয়ী দলের বিপক্ষে। এই সিরিজ দুটি অনুষ্ঠিত হবে ২০১৮ সালে। একইভাবে ২০২২ সালে আবার অনুষ্ঠিত হবে এই সিরিজ। স্বভাবতই প্রথম আইসিসি টেস্ট চ্যালেঞ্জে একটি দল হওয়ার কথা বাংলাদেশের। কিন্তু মুশকিল হল, এই সিরিজে হারলে বাংলাদেশ কী পরের চার বছর আর টেস্ট খেলতে পারবে কি না; তা পরিষ্কার করা হয়নি এই বিজ্ঞপ্তিতে। এমনকি এই সিরিজ জিতলে ওই সহযোগী দেশের প্রাপ্তি কী ঘটবে; তারা কী টেস্ট স্ট্যাটাস পাবে কি না, পেলে সেটা স্থায়ী হবে কি না; এসব ব্যাপারেও কোনো কথা নেই! বলা হয়েছে যে ৮ ফেব্রুয়ারির সিঙ্গাপুর সভার রেজুলেশনই অনুমোদন করেছে গতকাল শেষ হওয়া দুবাই সভা। তবে প্রশাসনিক সংস্কারগুলো এবং এফটিপির কার্যকারিতা বদলানোর ব্যাপারটা আইসিসি পূর্ণাঙ্গ কাউন্সিলের অনুমোদন লাগবে, তাই সেটি পাস হয়নি গতকাল। জুনের শেষে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসির বার্ষিক সাধারণ সভায় তোলা হবে বিষয়টি। এ ছাড়া গতকাল শেষ হওয়া দুই দিনের সভায় আইসিসি ক্রিকেট কমিটিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। গ্যারি কার্স্টেনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় কোচদের প্রতিনিধি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার ড্যারেন লেহম্যান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওটিস গিবসন ঢুকেছেন কমিটিতে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও এবারের ফরম্যাটই থাকবে। মানে র্যাংকিংয়ের নবম ও দশম দলকে প্রথমপর্ব নামের বাছাইপর্ব খেলতে হবে। এই পর্বে যথারীতি প্রাথমিক বাছাই পার হয়ে আসা আরো ছয়টি দল যোগ দেবে।