ইতিহাস গড়তে চায়
সকার ক্লাব
প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০১৪, ২২:১২
ইতিহাসের মাহেন্দ্রক্ষণে দাঁড়িয়ে ফেনীর সকার ক্লাব। শুধু তাই নয়, দলের অধিনায়ক আকবর হোসেন রিদন জানালেন মধুমতি ব্যাংক স্বাধীনতা কাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়তে চায় তার দল।
পরিস্থিতি দলটির কতটা অনুকূলে তা বোঝা যায় সকার ক্লাবের আবু সুফিয়ান জাহিদের ব্যক্তিগত জীবনের একটি ঘটনায়। ফুটবল খেলে বলে তার সাথে মেয়ে বিয়ে দিতে চায়নি পাত্রী পক্ষ। তারা বলেছিল ফুটবল খেলা কোনো কাজ হলো নাকি। শেষ পর্যন্ত বিয়ে হলেও পাত্রী পক্ষের আত্মীয়-স্বজনরাই এখন সবচেয়ে বেশি খুশি হয়ে বলেন, আমার ফুটবলার। সকার ক্লাব স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের ফাইনালে উঠেছে। পত্র-পত্রিকায় প্রচার হয়েছে। টিভির পর্দায় খেলোয়াড়দের উল্লাস দেখে জাহিদের শ্বশুর পক্ষের লোকজনও ফোন করে পুরো দলের জন্য আশীর্বাদ জানিয়েছেন। এতো দিন যারা খোঁজ-খবর নেননি তারাও নিচ্ছেন। দলটি ফাইনালে উঠায় এখন ফেনীর অনেকেও খেলোয়াড়দের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। সহযোগিতার হাত প্রসারিত করতে চান।
ফেনীর সংসদ সদস্য নিজাম হাজারীও খেলোয়াড়দের সাথে কথা বলেছেন। শুধু ধন্যবাদ আর অভিনন্দনের জোয়ারে গা না ভাসিয়ে মওদুদ, শাহীন, জাহিদ, আলাউদ্দিন, রিদনরা জানালেন পুরো দলের মধ্যে এখন ফাইনাল নিয়েই ভাবনা। কিভাবে ভালো খেলা উপহার দেয়া যায়, সেই ভাবনায় খেলোয়াড়রা এক ছাতার নিচে জড়ো হচ্ছেন। জানা গেছে, ফাইনালে ফেনী থেকে গাড়ি বোঝাই দর্শক আসবেন দলকে সমর্থন দিতে। বোনাস ঘোষণা হয়ে গেছে।
জাতীয় পর্যায়ের একটা টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছে জেলা দল সকার ক্লাব। এটা তাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। একটা টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার স্বপ্ন ছিল এই দলটির। সেটা পূরণ হয়েছে। তাই এখন ইতিহাসের দিকে চোখ রাখছে সকার ক্লাব। দলের অধিনায়ক আকবর হোসেন রিদন জানালেন, খেলোয়াড়দের মনোভাব,‘ফাইনালে উঠায় আমরা খেলোয়াড়রা সন্তুষ্ট। যতটুকু আশা করেছিলাম তা পেয়েছি। আমাদের চাওয়া ছিল ফাইনাল। এখন যদি চ্যাম্পিয়ন হতে পারি সেটা হবে ইতিহাস। আমরা ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে।’ এই ষ্ট্রাইকার কাগজে-কলমে বুঝিয়ে দিতে চাইলেন, ‘আগামীকালের ফাইনালে মোহামেডান এবং সকার ক্লাবের দেশীয় ফুটবলারদের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য থাকবে না। ফাইনালে বিদেশি খেলোয়াড়রাই পার্থক্য করে দেবেন।’
এক কথা ঠিক, সকার ক্লাবের গাম্বিয়ান তিন ফুটবলার ল্যান্ডিং ডারবোয়ে, কাব্বা জোব্বে, ম্যাথিউ ম্যান্ডি দুর্দান্ত খেলছেন। শেখ জামালের সনি নরদে, ওয়েডসন, ডালিংটনদের কথা বাদ দিলে সকার ক্লাবের তিন গাম্বিয়ান বড় দলে খেলার মতো যোগ্যতা রাখেন। সে প্রমাণ তারা রেখেছেন। এই তিন জনের সাথে দেশীয় ফুটবলারদের শক্তির সংমিশ্রণটা দারুণভাবে গড়ে তুলেছেন সকার ক্লাবের গাম্বিয়ান কোচ ওমর সিসে। তার কৌশল রপ্ত করে দেশীয় খেলোয়াড়রা টুর্নামেন্টে সাফল্যের রাস্তায় হাঁটছেন।
অধিনায়ক রিদন বললেন, ‘কোচ বলেছিলেন তিনি ফাইনাল খেলতে চান। শুনে আমি বলেছিলাম সনি নরদের মতো ১১ জন লাগবে। কারণ আমরা মনে করেছিলাম গাম্বিয়ান ফুটবলাররা অন্যদের মতোই হবে। বুট ছিল না। মাপের চেয়েও বড় সাইজের বুট পায়ে খেলতে নেমে সবাইকে চমকে দিয়েছে ওরা। অনেকের চেয়ে ওরা ভালো খেলে। স্বার্থপর ফুটবলটা খেলে না। মাঠের ভেতরে বিনয়ী, সবাইকে নিয়ে দলীয় খেলাটা খেলতে চায় বলেই ওদের পাশে আমরাও ভালো খেলছি।’
ডিফেন্ডার জাহিদ জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছর আমি এই দলটিতে খেলছি। এতো সুন্দর টিমওয়ার্ক আগে ছিল না।’ মোহামেডানের বিরুদ্ধে ফাইনালে সকার ক্লাব কোনো চাপে থাকবে না বলে জানিয়েছেন দলের সিনিয়র ফুটবলার রিদন। তার অভিমত- বরং মোহামেডান চাপে থাকবে। আমাদের দর্শক নেই। চাপ নেই। হারালেও কিছু যায়-আসে না। আমরা চিন্তামুক্ত ফুটবল খেলবো।’
সাফল্যের পাশাপাশি কষ্টের কথাও উঠে এসেছে সকার ক্লাবের খেলোয়াড়দের কণ্ঠে। কমলাপুর স্টেডিয়ামের আবাসিক ক্যাম্পে থাকতে হয়। এমনিতেই গরমে রাতে ঘুম হয় না। তার উপর সর্বক্ষণ ট্রেনের হর্নের বিকট আওয়াজ, রাস্তার পাশে সারা রাত বাস-ট্রাক চলে। পাশে ডিপোতে মালামাল উঠা-নামা করে। সারাক্ষণ হর্ন বাজে। শব্দ দূষণের কারণে অনেকের মাঝ রাতেই ঘুম ভেঙ্গে যায়। সকালে প্র্যাকটিসে যেতে পারেন না। মশা বেশি, অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে খেলোয়াড়রা। আর অনুশীলনের জন্য মাঠ সমস্যা তো আছেই। খাওয়া-দাওয়ার মান বাড়িয়ে অন্য কোথাও ভালো পরিবেশে ক্যাম্প করা হলে খেলোয়াড়রা খুশি হতেন। পাশাপাশি দলের প্রয়োজনে একজন সমন্বয়কারী চাইলেন খেলোয়াড়রা। যেন জরুরি প্রয়োজনে ব্যবস্থা নিতে পারেন।