অহেতুক ত্যাগ

প্রতিটি সম্পর্কের মাঝেই থাকে ত্যাগ। একজন আরেকজনের জন্য কিছু না কিছু তো ত্যাগ করতেই হয়। কিন্তু তাই বলে শুধু ত্যাগই কি সম্পর্কের মূল ব্যাকরণ? এমন ব্যাখ্যায় মাঝে মাঝেই তরুণরা বেশ বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। তাই তাদের জন্য রইল কিছু পরামর্শ সম্পর্ক কতগুলো স্তম্ভের উপর টিকে থাকে। কোনো কোনো স্তম্ভের নাম থাকে না তাই সেগুলো হাতের বাইরে, তবে যেগুলো আমাদের হাতে আছে বা নাম জানি, সেগুলোকে দিব্যি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সম্পর্কের এমনই এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো স্যাক্রিফাইস বা অপরের জন্য ত্যাগ। ত্যাগ, স্বার্থত্যাগ অনেক নামান্তরই আছে তবে সেই মূল ব্যাপারটা স্যাক্রিফাইস-ই। সম্পর্কের বিস্তার যেমনই হোক না কেন, তাকে টিকিয়ে রাখার জন্য অল্পবিস্তর ত্যাগ করতেই হয়। সেটা একেক পরিস্থিতিতে একেক রকম হতে পারে। আমাদের চিন্তার বিষয় এটা কতদূর টানব? ত্যাগের মধ্যে এক ধরনের মহত্ত্ব আছে। কিন্তু অতিরিক্ত ত্যাগ সেটা বলতে গেলে পুরোটাই বোকামি। ‘আমার করণীয় বা দায়িত্ব’ এবং ‘আমার মহত্ত্ব’ এই দুইয়ের মধ্যে বেশ খানিকটা ফারাক আছে। আর সেটা থাকা দরকার। এই ফারাকটি জিয়ে রাখা উচিত। যাতে করে প্রথম কারণটি দ্বিতীয় কারণটির ঘাড়ে না চেপে বসে। সহজ-সরল হওয়া ভালো, তাই বলে সহজলভ্য নয়। প্রতিটি জিনিসেরই বিনিময় মূল্য থাকে দাড়িপাল্লায় সেই মূল্য ধরা দেয় না। ত্যাগ সম্পূর্ণ হয় উল্টোদিকের মানুষের ত্যাগের মধ্যে দিয়েই। তাই বাস্তব পরিস্থিতি চিনতে হবে আমাদের। বুঝতে হবে একটা অদৃশ্য লাইন আছে। নিজের স্বার্থকে দাবিয়ে, ত্যাগকে টেনেহিঁচরে ওই লাইন অতিক্রম করতে বাধ্য করবেন না, কেননা আপনার কাছে আপনার জীবনটাও যথেষ্ট মূল্যবান।